
অনলাইন ডেস্ক: ডলার-সংকটের কারণে দীর্ঘ সময় বিল বকেয়া থাকায় অবশেষে পুরোপুরি বন্ধ হলো দেশে চালু থাকা সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র। নতুন কয়লা এনে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে কেন্দ্রটি উৎপাদনে ফিরতে পারে। কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটে সোমবার উৎপাদন বন্ধ হওয়ার পর বন্ধ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিটের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৭-তে। আর উৎপাদন ক্ষমতার অর্ধেকেরও নিচে নামল গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ সক্ষমতা। প্রচণ্ড দাবদাহ আরো অন্তত এক সপ্তাহ চলতে পারে এমন আবহাওয়া পূর্বাভাসের মধ্যে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধের পর লোডশেডিং আরো বাড়বে। জ্বালানির নতুন জোগান শিগ্গরিই হচ্ছে না। ফলে তাপমাত্রা না কমলে মানুষের ভোগান্তি-কষ্টও কমছে না।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির (পিজিসিবি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার দিবাগত রাত ১টায় সর্বোচ্চ রেকর্ড ৩ হাজার ২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুতের লোডশেড হয়। ঐ সময় ১৪ হাজার ৩০৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ আমদানি এবং উৎপাদিত হয় ১১ হাজার ২৮৪ মেগাওয়াট। এ দিন সবচেয়ে কম সকাল ৭টায় ১ হাজার ১৩৪ মেগাওয়াট এবং সবচেয়ে বেশি রাত ৯টায় ১৩ হাজার ৭৮১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) একাধিক প্রকৌশলী কর্মকর্তা জানান, দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ উৎপাদন রেকর্ড গত ১৯ এপ্রিলে ১৫ হাজার ৬৪৮ মেগাওয়াট। বর্তমানে যে গরম তাতে জ্বালানি সরবরাহ গেলে ১৭ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যেত উৎপাদন। সে বিবেচনায় লোডশেড প্রকৃতপক্ষে প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট ছুঁতে পারে।
বর্তমানে আমদানিসহ দৈনিক ২৩ হাজার ৩৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে চালু থাকা ১৪৯টি কেন্দ্রের। রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ রয়েছে চারটি কেন্দ্র, যেগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা আরো ৩০৯ মেগাওয়াট। এখন এক-তৃতীয়াংশের বেশি কেন্দ্র বন্ধ এবং উৎপাদন ক্ষমতা অর্ধেকের নিচে নেমেছে। এখন গড় উৎপাদন হচ্ছে সাড়ে ১২ হাজার মেগাওয়াট। এর মধ্যে ভারত থেকে আমদানিকৃত দৈনিক ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎও রয়েছে।
১ হাজার ২৪৪ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি অনেক দিন ধরেই গড়ে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল। কয়লা না থাকায় গত ২৫ মে কেন্দ্রের একটি ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়। এরপর ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বাকি ইউনিট থেকে দিনে ৩০০ থেকে ৬২২ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছিল। সোমবার দুপুরে ঐ ইউনিটেও উৎপাদন বন্ধ হলো। কেন্দ্রটির পরিচালনা সংস্থা বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানির (বিসিপিসিএল) এক কর্মকর্তা জানান, জমে থাকা বকেয়া বিলের একটি অংশ পরিশোধ করা হয়েছে। নতুন কার্যাদেশের কয়লা ১২ জুন ইন্দোনেশিয়ায় জাহাজে উঠবে। সব মিলিয়ে কয়লা আসতে ২৫ দিন সময় লাগতে পারে। সে হিসেবে জুনের শেষ সপ্তাহে আবার বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে। কয়লা আমদানির ঋণপত্র খোলা হয়েছে।
Leave a Reply