1. shahjahanbiswas74@gmail.com : Shahjahan Biswas : Shahjahan Biswas
  2. ssexpressit@gmail.com : sonarbanglanews :
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
শিবালয়ে মাদক বিরোধী মতবিনিময় সভা শিবালয়ে ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে সেমিনার অনুষ্ঠিত দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে ডুবে গেল বাস ঈদের প্রস্তুতি দেখতে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাট পরিদর্শনে নৌপ্রতিমন্ত্রী শিবালয়ে জাতীয় কবিকাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত আরিচা-পাটুরিয়া ঘাটে মটরসাইকেল ও ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিতে শিবালয়ে নানা আয়োজন শিবালয়ে মাদক, সন্ত্রাস ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধ প্রতিবাদ সভা পশুর হাটসহ আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে-ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে কাজ করছে র‌্যাব শিবালয়ে মাদকসহ অন্যান্য মামলায় ১২জন আটক

এবার কুকিদের টার্গেট ত্রিদেশীয় সীমানা

  • সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ৫ জুন, ২০২৩
  • ৪০০ বার পড়েছেন

অনলাইন ডেস্ক: কেবল বাংলাদেশের সীমানা নয়, এবার কুকিদের নজর পড়েছে পাশের দুই দেশের সামীন্তবর্তী ভূমিতেও। তাও আবার তিন দেশের ভূমি টার্গেট করে সেই একই কায়দায় মানচিত্র বানানো হয়েছে।

লাল বর্ণের কথিত সেই মানচিত্রের মাঝে লেখা আছে-‘কুকিল্যান্ড’। যাতে বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চল, ভারতের মিজোরাম ও অরুণাচল প্রদেশের কিছু অংশ এবং মিয়ানমারের কিছু অঞ্চলকে টার্গেট করা হয়েছে।

এর আগে কেবল বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে আলাদা ভূখণ্ড হিসেবে মানচিত্র প্রকাশ করেছিল কেএনএফ। ওই মানচিত্র এবং কেএনএফের সামরিক প্রশিক্ষণসহ নানা তৎপরতার তথ্যপ্রমাণসহ গত ১৬ অক্টোবর ‘ভূখণ্ড বিচ্ছিন্নে কুকিদের নীলনকশা’ শীর্ষক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল দৈনিক সময়ের আলো। যা দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচিত হয়।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য মতে, মূলত পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কুকি এবং বমসহ এরকম কিছু জাতিসত্তার জনগোষ্ঠীদের নিয়ে আলাদা ভূখণ্ড তৈরির স্বপ্নে বিভোর এক শ্রেণির বিচ্ছিন্নতাবাদী। যার মূল নেতৃত্ব দিচ্ছে ‘কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)’। ইতিমধ্যেই কেএনএফ সংগঠনটির অধীনে ‘কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মি’ (কেএনএ) নামে সশস্ত্র বা সামরিক শাখা চালু করে বান্দরবানের রুমা, থানচি এবং রুয়াংছড়িসহ আশপাশের পার্বত্য অঞ্চলে ভয়ানক ত্রাস সৃষ্টি করে চলেছে। এমনকি ভারতের মিজোরামেও তাদের সশস্ত্র তৎপরতার খবর শোনা যাচ্ছে। ত্রিদেশীয় সীমানায় উঁচুনিচু দুর্গম পাহাড়ে গোপন আস্তানা গড়ে কেএনএফ সন্ত্রাসীরা তাদের সশস্ত্র তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে গত ৩১ মে ‘কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)’ নামে ফেসবুক পেইজে ‘বি কেয়ারফুল! স্টপ!!’ শিরোনামে সীমান্ত সড়ক নির্মাণ বন্ধে হুমকি দেওয়া হয়েছে। ওই পোস্টে নির্মাণাধীন সড়ক এবং ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের কাজের তদারকির ছবি এডিট করে একসঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়াও কুকিদের নানা নামে-বেনামে অনেক পেজ বা আইডি রয়েছে। যা থেকে সার্বক্ষণিক সেনাবাহিনী এবং সরকারের নানা উদ্যোগের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ছড়ানো হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এমনকি র‌্যাবসহ নিরাপত্তা বাহিনী গত অক্টোবর থেকে পার্বত্য অঞ্চলে কেএনএফের ঘাঁটিতে ঠাঁই পাওয়া নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র নেতা ও সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করলে সেখানেও মিথ্যাচার করা হয়। জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী বা নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে পাহাড়ি নারী-শিশুদের ‘মানবঢাল’ হিসেবে ব্যবহারের মিথ্যাচার করে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কিন্তু বাস্তবতায় এসব অভিযানে কোনো নারী-শিশুর মৃত্যু বা জখমেরও কোনো অস্তিত্ব নেই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বান্দরবানের রুমা উপজেলার স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর একজন বাসিন্দা সময়ের আলোকে বলেন, সেনাবাহিনী বা সরকার এখানে সবসময় সাধারণ নিরীহ পাহাড়ি বাসিন্দাদের পাশে ছিল এবং আছে। বরং কেএনএফকে সমর্থন-সহযোগিতা না করায় অনেক পাড়ায় কেএনএফের সন্ত্রাসীরা তাণ্ডব চালিয়েছে। বসতবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া, নারীদের ধর্ষণ, শ্লীলতাহানি, পুরুষদের খুন-জখম এবং লুটপাটসহ নানাভাবে তারা পাহাড়ে বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

এ প্রসঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয় বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উহ্লা মং মারমার সঙ্গে। তিনি  বলেন, বান্দরবান সবচেয়ে শান্তিপ্রিয় পাহাড়ি জনপদ ছিল। কুকি-চিনের (কেএনএফ) অপতৎপরতার কারণে বান্দরবানের পরিস্থিতি খুবই খারাপ হয়ে উঠেছে। পাহাড়ের দুর্গম বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার নিরীহ বাসিন্দারা ভয়ে এলাকা ছাড়ছে। জীবন বাঁচাতে তারা সদরে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকের বসতবাড়িতে হামলা-লুটপাট চালাচ্ছে সন্ত্রাসীরা।

কেএনএফের সশস্ত্র তৎপরতা সম্পর্কে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু হায়দার মোহাম্মদ রাসেলুজ্জামান  বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কেএনএফ সন্ত্রাসীরা বান্দরবানের রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলার পাহাড়ি জনপদে ক্রমাগত হত্যা, অপহরণ ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি ইত্যাদি মানবাধিকার লঙ্ঘনমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টি করে চলেছে। তাদের এ ধরনের সন্ত্রাসমূলক কার্যক্রম এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন কেএনএফ বা কেএনএর সশস্ত্র তৎপরতায় পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান এলাকায় বর্তমানে বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকার ব্যাপকহারে রাস্তাঘাট নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হলেই সশস্ত্র প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করে কেএনএফ সন্ত্রাসীরা।

তারা মনে করে থাকে, পার্বত্য দুর্গম এলাকা বা সীমান্ত সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন হলে তাদের ত্রিদেশীয় সীমান্ত ব্যবহারের সুযোগ যেমন থাকবে না, তেমনই দুর্গম এলাকায় গোপন আস্তানা গড়ে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজির কার্যক্রমও অনেকটাই বন্ধ হয়ে যাবে। এ কারণেই মূলত পাহাড়ের শান্তি-শৃঙ্খলা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজে নিয়োজিত সেনাবাহিনীর ওপর একের পর এক অতর্কিতে হামলা, পার্বত্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিয়োজিতদের খুন-জখম এবং অপহরণ-মুক্তিপণসহ নানাভাবে সশস্ত্র তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে কেএনএফ তথা কুকি সন্ত্রাসীরা।

এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসাইন বলেন, কেএনএফের এই অপতৎপরতা যে শুধু বাংলাদেশকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে তা নয়, এটি পুরো অঞ্চলের (আন্তঃদেশীয় সীমান্ত) জন্য বড় ধরনের ক্ষত সৃষ্টি করবে। এখানে স্থায়ীভাবে অস্থিরতা তৈরি এবং সশস্ত্র কর্মকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটানো হচ্ছে কেএনএফের মাধ্যমে। এ ছাড়া বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা, সম্ভাবনা এবং স্থিতিশীলতার জায়গাটি নষ্ট করবে। সবমিলে এটা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ বলেও আমি মনে করি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ক্ষতি করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে কেএনএফের সশস্ত্র তৎপরতা এমন একটি জায়গা সৃষ্টি করছে, করবে যা তিন দেশের (বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমার) কারও জন্যই কল্যাণ বয়ে আনবে না। এর পেছনে যে ধরনেরই উদ্দেশ্য থাকুক না কেন বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতায় কোনো সশস্ত্র গ্রুপের ফল কোনো পক্ষের জন্যই সুখকর বা ভালো হয় না। তাই পাবর্ত্য সীমান্ত অঞ্চলে কেএনএফের এই ধরনের তৎপরতাকে জিরো টলারেন্স নীতিতে নিতে হবে।

সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) অন্যতম এই সদস্য আরও বলেন, হয়তো কোনো পক্ষের এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কেএনএফ সশস্ত্র তৎপরতা চালাতে পারে। এর সঙ্গে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও থাকতে পারে। যেহেতু আমাদের পার্বত্য অঞ্চল, কক্সবাজার বা সামুদ্রিক সম্ভাবনা, ব্লু-ইকোনমিসহ নানা উন্নয়ন সম্ভাবনা বিরাজ করছে সেটাকে বাধাগ্রস্ত করতে এ ধরনের তৎপরতা হতে পারে। এ অবস্থায় কেএনএফের এই অপতৎপরতাকে যেকোনো মূল্যে দমন করতে হবে। আমাদের নিজস্ব শক্তি এবং দ্বিপক্ষীয় বা আঞ্চলিক যেসব ফোরাম আছে সেগুলোকে ব্যবহার করতে হবে। এ বিষয়ে কোনোভাবে অবহেলা বা ভুল করলে মারাত্মক খেসারত দিতে হতে পারে।

গত ১৬ মে বান্দরবানের রুমার দুর্গম এলাকায় অতর্কিত হামলা চালিয়ে সেনাবাহিনীর দুজন সৈনিক হত্যা এবং দুজন কর্মকর্তাকে গুরুতর আহত করে কেএনএ সন্ত্রাসীরা। তার আগেও গত ১২ মার্চ দুপুরে বান্দরবানের রুয়াংছড়িতে অতর্কিতে গুলিবর্ষণ করে টহলরত সেনাবাহিনীর এক সদস্যকে (মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার নাজিম উদ্দিন) হত্যা এবং দুজনকে আহত করেছে কুকি সন্ত্রাসীরা। সর্বশেষ গত ১ জুন বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম ছিলোপি পাড়ায় সেনা টহল দলের সঙ্গে অভিযানে গিয়ে কুকি সন্ত্রাসীদের পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণের শিকার হন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক তুজাম (৩০)।

তবে সেনাবাহিনীর ওই টহল দল সেখানে সফল অভিযান চালিয়ে কেএনএফের প্রধান ঘাঁটি (সদর দফতর) ও গোপন প্রশিক্ষণ ক্যাম্প দখলে নিয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর)। এ ছাড়াও সরকারের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে গত ১১ মার্চ কেএনএ সন্ত্রাসীরা সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত উন্নয়ন কাজে নিযুক্ত ১২ জন শ্রমিককে অপহরণ করে কেএনএফের সশস্ত্র শাখার কেএনএ। এদের মধ্যে একজন শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হন। এ ছাড়া ৫ জন শ্রমিককে মুক্তিপণের বিনিময়ে ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে সড়ক নির্মাণকাজে আর না যাওয়ার শর্তে ছেড়ে দেয়। বাকি ৪ শ্রমিককে এখনও কেএনএ জিম্মি করে রেখেছে বলে জানা যায়। গত ৭ এপ্রিল বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে কেএনএ সন্ত্রাসী ও ইউপিডিএফের (ডেমোক্রেটিক) মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনায় ৮ জন নিহত হন। নিহতরা সবাই বম সম্প্রদায়ের বাসিন্দা।

এ প্রসঙ্গে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশীদ বলেন, আমাদের দেশের যতটুকু সীমানায় তাদের টার্গেট তৎপরতা তাতে ত্রিদেশীয় হিসাব করলে সেটা অনেক কম। তবে কেএনএফের তৎপরতাকে কোনোভাবেই খাটো করে দেখা যাবে না। অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। যথাযথ পদক্ষেপের জন্য সবচেয়ে বেশি দরকার আন্তঃদেশীয় সম্মিলিত উদ্যোগ। কারণ তিন দেশের পক্ষ থেকেই একযোগে অভিযান চালানো গেলে কেএনএফ বা কুকিদের এই অপতৎপরতা খুব সহজেই প্রতিরোধ করা যাবে। অন্যথায় তারা এক সীমান্তে অপকর্ম চালিয়ে অন্য সীমানায় গা ঢাকা দেওয়ার সুযোগ পাবে। মূলত বর্তমানে তারা সেই সুযোগটিই কাজে লাগাচ্ছে। ফলে সম্মিলিতভাবে (আন্তঃদেশীয়) চিরুনি অভিযান চালানো জরুরি। মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশীদ আরও বলেন, আমাদের সেনাবাহিনী কয়েক দশক ধরে পার্বত্য অঞ্চলে যেভাবে কাজ করে যাচ্ছে তাতে করে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে এ সমস্যা দ্রুত সমাধান করা যাবে বলে আশা করি। তা ছাড়াও বম বা কুকি জনগোষ্ঠীর সংখ্যাগত পরিমাণের দিক থেকে তারা খুব কম। ফলে তারা যেসব চিন্তা করছে সেগুলো অত্যন্ত অবান্তর।

জানা যায়, কেএনএফ মূলত পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবানকেন্দ্রিক আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন। কেএনএফ প্রধানের নাম নাথান বম। পার্বত্য অঞ্চলে সেনাবাহিনী বা নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অভিযান শুরু হলে তিনি পাশের দেশের সীমান্ত এলাকায় আত্মগোপনে আছেন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া কেএনএফ পার্বত্য চট্টগ্রামের ৩ জেলার প্রায় অর্ধেক আয়তনের লামা, রুমা, আলীকদম, থানচি, রোয়াংছড়ি, বিলাইছড়ি, জুরাইছড়ি, বরকলসহ আশপাশের এলাকা নিয়ে একটি মনগড়া মানচিত্র তৈরি করে।

পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের এই অঞ্চলসহ প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমারের কিছু অংশ নিয়েও তারা ‘কুকিল্যান্ড’ নামে আরেকটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে। পাহাড়ের বম, পাঙ্খুয়া, খুমি, ম্রো এবং খিয়াং নামক ক্ষুদ্র ৬টি জাতি-গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠন হয়েছে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট বা কেএনএফ। সংগঠনের লোগোতে প্রতিষ্ঠাকাল ২০০৮ সাল বলে উল্লেখ থাকলেও মূলত ২০১৮ সালের পর থেকে সশস্ত্র কাঠামোয় মাথা চাড়া দিতে থাকে সংগঠনটি। এ সংগঠনের সামরিক শাখা ‘কেএনএ’ অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রসহ নানা সরঞ্জামও ব্যবহার করে যাচ্ছে। সর্বশেষ গত বছরের অক্টোবর থেকে কুকিদের ভয়ংকর রূপ জনসমক্ষে আসে। সে সময়ে আরও দেখা যায়, এই কেএনএফ তাদের আস্তানায় নতুন জঙ্গি সংগঠন হিন্দাল শারক্বীয়ার সদস্যদের অস্ত্র প্রশিক্ষণসহ নানাভাবে শেল্টার দিয়ে যাচ্ছিল। এ ছাড়া কেএনএফ সন্ত্রাসীদের কম্ব্যাট পোশাকে সামরিক প্রশিক্ষণের একাধিক ভিডিও এর আগে প্রকাশ হয়েছে।

পার্বত্য অঞ্চলে জঙ্গি-সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, নতুন জঙ্গি সংগঠনের (হিন্দাল শারক্বীয়া) সঙ্গে কেএনএফ বা কুকি চিনদের যে সংশ্লিষ্টতা র‌্যাবই প্রথম তা উদঘাটন করে। এরপর বিশেষ অভিযান শুরু হলে ১৭ জন কেএনএফ এবং ওই নতুন জঙ্গি সংগঠনের মিলে প্রায় ৭২ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে র‌্যাবের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সুত্র: সময়ের আলো

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন :