1. shahjahanbiswas74@gmail.com : Shahjahan Biswas : Shahjahan Biswas
  2. ssexpressit@gmail.com : sonarbanglanews :
শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
শিবালয়ে দুই বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি’র সভাপতি হলেন মো.শহীদুর রহমান শিবালয়ে মাদক বিরোধী মতবিনিময় সভা শিবালয়ে ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে সেমিনার অনুষ্ঠিত দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে ডুবে গেল বাস ঈদের প্রস্তুতি দেখতে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাট পরিদর্শনে নৌপ্রতিমন্ত্রী শিবালয়ে জাতীয় কবিকাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত আরিচা-পাটুরিয়া ঘাটে মটরসাইকেল ও ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিতে শিবালয়ে নানা আয়োজন শিবালয়ে মাদক, সন্ত্রাস ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধ প্রতিবাদ সভা পশুর হাটসহ আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে-ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে কাজ করছে র‌্যাব

শিক্ষার্থীদের যে ৮টি কারণে মেডিটেশন করা দরকার

  • সর্বশেষ আপডেট : শনিবার, ২০ মে, ২০২৩
  • ৩৫২ বার পড়েছেন

অনলাইন ডেস্ক: মেডিটেশন একজন কিশোরকে কতটা সমমর্মী, আত্মবিশ্বাসী এবং প্রশান্ত করতে পারে থাইল্যান্ডের থাম লুয়াং গুহায় আটকে পড়া ১২ কিশোরের সেই ঘটনাই উল্লেখযোগ্য। এক সতীর্থের জন্মদিন পালনের জন্যে তারা গুহায় ঢোকে আটকা পড়ে।

অন্ধকার, খাবার নেই, আর পানি বলতে গুহার দেয়াল চুইয়ে যতটুকু পড়ে। নয়দিন পর্যন্ত পৃথিবীর কোনো মানুষের সাথে তাদের যোগাযোগ হয়নি! পাথরের শুকনো কার্নিশে বসে এসময় তারা যে দুটো কাজ করেছে তাহলো, ধ্যান এবং স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা!

তাদের সন্ধান পেয়ে দুর্গম পথে তিনদিন ধরে উদ্ধারকাজের পর দেখা গেল- সবার নেতিবাচক সব ভবিষ্যদ্বাণীকে ব্যর্থ প্রমাণ করে তারা দিব্যি সুস্থ, প্রশান্ত, স্বাভাবিক। ট্রমা বা মানসিক বৈকল্য বলে কিছু নেই! অথচ করোনাকালের পর থেকে সারাদেশেই শিক্ষার্থীরা ট্রমার মধ্যে আছে। স্বাভাবিক জীবন ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আত্মহত্যার হারও বেড়েই চলেছে। তাই এ বিষয়ে দৃষ্টি দেওয়ার এখনই সময়।আর এই ট্রমা থেকে বেরিয়ে আসার সূত্র একটাই ‘মেডিটেশন’।

আসুন জেনে নিই, মেডিটেশন কীভাবে একজন শিক্ষার্থীকে সাহায্য করে।

১. মনোযোগ বাড়ায়:

মনোবিজ্ঞানী উইলিয়াম জেমসের ভাষায়, আমরা যাকে ধারাবাহিক মনোযোগ বলি, তা হচ্ছে বার বার বিষয়টিকে মনের কাছে নিয়ে আসা। কোনো বিষয় একবার মনের কাছে ফিরিয়ে আনলে বিষয়টি ভালো লাগলে তাতে মনোযোগ বাড়তে থাকে। তাই মনোযোগ বাড়াতে একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আপনি এখন থেকে পড়া শুরুর আগে চেয়ারে বসে আরাম, আরাম, আরাম বলুন। এবং ১৯ থেকে ০ গণনা করে মনের বাড়ির দরবারে বসে কোয়ান্টা ভঙ্গি করে বলুন, ‘কোয়ান্টা ভঙ্গি করে আমি এখন … অমুক বিষয়ের (বিষয়ের নাম উল্লেখ করুন) … অমুক অধ্যায় (অধ্যায়ের নাম উল্লেখ করুন) … পড়তে যাচ্ছি। আমি কোয়ান্টা ভঙ্গি করে যা পড়ব, তা আমার পুরোপুরি মনে থাকবে এবং ভবিষ্যতে যখনই কোয়ান্টা ভঙ্গি

করে তা মনে করতে চাইব, সাথে সাথে তা মনে পড়বে এবং আমি সুন্দরভাবে তা বলতে বা লিখতে পারব।’

এরপর নিয়মমতো ০ থেকে ৭ গণনা করে বাহ্যিক জাগ্রত অবস্থায় পৌঁছান। কোয়ান্টা ভঙ্গি করা অবস্থায় পড়া শুরু করুন।

পড়া শেষ করে আবার নিয়মমাফিক মনের বাড়ির দরবার কক্ষে যান। আরামে বসে পুনরায় বলুন, ‘আমি এতক্ষণ কোয়ান্টা ভঙ্গি যোগে যা পড়লাম তা আমার স্মৃতিতে পুরোপুরি গেঁথে রইল। এরপর ভবিষ্যতে যখনই কোয়ান্টা ভঙ্গি করে এ বিষয়টি আমি মনে করতে চাইব সাথে সাথে বিষয়টি পুরোপুরি হুবহু মনে পড়বে এবং আমি তা সুন্দরভাবে বলতে বা লিখতে পারব”। তারপর নিয়মমাফিক মনের বাড়ি থেকে পুরোপুরি জাগ্রত অবস্থায় ফিরে আসুন। আপনার মনোযোগের গভীরতা ও মনে রাখার ক্ষমতা দেখে নিজেই বিস্মিত হবেন!

২. স্মৃতি ও বুদ্ধিমত্তা:

একটি জরিপে দেখা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৫ ভাগ শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষা জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ।

কেউ কেউ এই ভেবে হতাশ যে, তার স্মৃতিশক্তি ও বুদ্ধিমত্তা সমবয়সী বন্ধু বা সহপাঠীর চাইতে অনেক কম। তাই জীবনে

কিন্তু মেডিটেশন করে এই হতাশা থেকেও তিনি বেরিয়ে আসতে পারেন। কীভাবে?

মস্তিষ্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের নাম হিপোক্যাম্পাস। তথ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহে সাহায্য করাই যার কাজ।

ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়েসের v  আকার যত বড় ও সুগঠিত, তত বেশি স্মৃতি সংরক্ষণ ও নতুন স্মৃতি তৈরি সম্ভব।

আর নিয়মিত মেডিটেশনে এই হিপোক্যাম্পাস অংশটিই বড় হয়, হয় শক্তিশালী, মজবুত।

৩. মানসিক চাপ ও পরীক্ষাভীতি থেকে মুক্তি:

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ৪৭ ভাগ ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীরা অপ্রয়োজনীয় নানান দুশ্চিন্তায় ডুবে থাকে। পড়তে বসলেই গত পরীক্ষার খারাপ রেজাল্টের দুঃসহ স্মৃতি তাড়া করে। আবার সামনের পরীক্ষায় খারাপ করলে বাবা-মাকে কী জবাব দেবে তা নিয়েও দুশ্চিন্তা!

এই দোটানা চাপের কারণে একদিকে প্রস্তুতি বাধা পড়ে। আবার প্রস্তুতি ভালো থাকলেও নার্ভাসনেসের কারণে পরীক্ষা খারাপ হয়! ২০১৭ সালে ইউনিভার্সিটি অফ রোড আইল্যান্ডে ১৮-২৩ বছর বয়সী একদল শিক্ষার্থীকে বেছে নেয়া হয় ফাইনাল পরীক্ষার ঠিক ছয় সপ্তাহ আগে গবেষণার জন্যে।

এসময় অধিকাংশ শিক্ষার্থীই পরীক্ষা সংক্রান্ত মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তায় বিপর্যস্ত। টানা দেড় মাস তাদের নিয়মিত মেডিটেশন অনুশীলন করানো হয়। ফলে পরীক্ষাভীতি ও নার্ভাসনেস কাটিয়ে আত্মবিশ্বাস ও ফুরফুরে মেজাজেই তারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে!

৪. বিষণ্ণতা থেকে মুক্তি:

অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় টিনএজ বয়সে। হরমোনাল চেঞ্জের কারণে দেখা দেয় মুড সুইং, হঠাৎ রাগ-ক্ষোভ, বিষণ্ণতা।  ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ৫০% টিনএজারই ডিপ্রেশনের শিকার বলে দেখা গেছে। আত্মহত্যা প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়াই তা ইঙ্গিত করে। বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত এই ডিপ্রেশন থেকেও মুক্তি পেতে সাহায্য করে মেডিটেশন।   হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গবেষক ড. সাত বীর সিং খালসা বলেন, বয়ঃসন্ধিকালে যেসব কিশোর-কিশোরী যোগ-ধ্যান চর্চা করে তাদের উদ্বেগ, বিষণ্ণতা ও ঘুমের সমস্যা দূর হয়। তৈরি হয় আত্মসচেতনতা ও চারপাশে ঘটে যাওয়া ঘটনা সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি।

৫. বিধ্বংসী-বেপরোয়া আচরণ নিয়ন্ত্রণ:

কৈশোর বা তারুণ্যে অনেকের মধ্যেই বেপরোয়া ভাব দেখা যায়। ধূমপান, মাদক, পর্ণ বা ভার্চুয়াল ভাইরাসের মতো নেশার তারা সহজ শিকার। এই কৈশোরে মেডিটেশন চর্চা একদিকে ব্রেনের এমিগডালা অংশের তৎপরতা কমিয়ে তার ভয়, ক্রোধ এবং অস্থিরতা কমায়। অন্যদিকে মমতা, সহানুভূতি ও বিনয়ের আবেগকে করে তোলে শক্তিশালী।

৬. আসক্তি থেকে মুক্তি:

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া, ভিডিও গেম, ইউটিউব এবং নেটফ্লিক্সে নষ্ট হচ্ছে তরুণ প্রজন্মের সবচেয়ে মূল্যবান সময়। একজন শিক্ষার্থীর একা এটা থেকে মুক্ত হওয়া কঠিন।

গবেষণায় দেখা যায়, ভার্চুয়াল এই আসক্তি কোকেন আসক্তির চেয়ে কম নয়, বরং বেশি! যে কারণে পাশ্চাত্যের অনেক জায়গায়ই এখন মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের মতো গড়ে উঠেছে ভার্চুয়াল আসক্তি নিরাময় কেন্দ্রও। ২০১৯ সাল থেকে ইংল্যান্ডের ৩৭০টি স্কুল শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বৃদ্ধি ও আগ্রাসী আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্যে  মেডিটেশনকে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

৭. মানসিক সমস্যার সমাধান:

এটেনশন ডেফিসিট হাইপার-এক্টিভিটি ডিসঅর্ডার হচ্ছে এক ধরনের মানসিক সমস্যা, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ দেখা যাচ্ছে। এরা খুব অস্থিরচিত্ত থাকে, কোনো একটা বিশেষ কাজে মন দিতে পারে না। মেডিটেশন এ ধরনের শিক্ষার্থীদের দেয় সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর সমাধান।

জার্নাল অফ সাইকোলজির এক গবেষণা রিপোর্টে বলা হয়, মাধ্যমিক স্তরের কিছু শিক্ষার্থীকে তিনমাস প্রতিদিন দুইবেলা মেডিটেশন করতে বলা হয়।তিনমাস পরে দেখা গেল, মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা এবং এই মানসিক রোগটির উপসর্গ ৫০% ভাগ কমে গেছে।

৮. শারীরিক সুস্থতা:

অসুস্থ থাকার কারণে অনেকেই নিয়মিত ক্লাসে যেতে পারে না এবং পরীক্ষায় রেজাল্ট খারাপ হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হসপিটালে ১৭,০০০ জনকে নিয়ে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত মেডিটেশন করেন তারা মেডিটেশন না করা শিক্ষার্থীর চেয়ে ৪৩ ভাগ কম অসুস্থ হন!

যে কারণে গত ৫ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে মেডিটেশন করা মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ৩ গুণ! এমনকি সেখানকার বেশি সংখ্যক শিশুরাও মেডিটেশন করছে। তাছাড়াও মেডিটেশন, হৃদরোগ প্রতিরোধ ও নিরাময় করে, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ হয়, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক, ত্বককে করে লাবণ্যময় এবং রোধ করে কম বয়সে বুড়িয়ে যাওয়া।  প্রিয় শিক্ষার্থী! আপনিও মেডিটেশন করতে শিখুন। শিক্ষার্থী জীবনই মেডিটেশন শেখার সুবর্ণ সুযোগ ও সঠিক সময়।

লেখক-অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, মনোবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম কলেজ, চট্টগ্রাম। সুত্র: একুশে টেলিভিশন

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন :