1. shahjahanbiswas74@gmail.com : Shahjahan Biswas : Shahjahan Biswas
  2. ssexpressit@gmail.com : sonarbanglanews :
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
শিবালয়ে দুই বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি’র সভাপতি হলেন মো.শহীদুর রহমান শিবালয়ে মাদক বিরোধী মতবিনিময় সভা শিবালয়ে ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে সেমিনার অনুষ্ঠিত দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে ডুবে গেল বাস ঈদের প্রস্তুতি দেখতে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাট পরিদর্শনে নৌপ্রতিমন্ত্রী শিবালয়ে জাতীয় কবিকাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত আরিচা-পাটুরিয়া ঘাটে মটরসাইকেল ও ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিতে শিবালয়ে নানা আয়োজন শিবালয়ে মাদক, সন্ত্রাস ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধ প্রতিবাদ সভা পশুর হাটসহ আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে-ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে কাজ করছে র‌্যাব

ঘূর্ণিঝড় মোখার আঘাতে লন্ডভন্ড উপকূল

  • সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ১৫ মে, ২০২৩
  • ২০৯ বার পড়েছেন

অনলাইন ডেস্ক: ঘূর্ণিঝড় মোখা বাংলাদেশের কক্সবাজার উপকূল ছুঁয়ে গেছে। ঝড়ের মূল ঝাঁপটাটি বয়ে গেছে প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের ওপর দিয়ে। তাই বাংলাদেশ মোখার ছোবল থেকে বেঁচে গেছে। তবে অতিপ্রবল এই ঝড়ে কক্সবাজারের টেকনাফ, সেন্টমার্টিন দ্বীপ, উপকূলীয় এলাকাসহ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখানকার ফসলি ক্ষেত, পানের বরজ নষ্ট হয়েছে। এ ছাড়া গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে গেছে। তবে প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

কক্সবাজারে মোট ৫৭টি ইউনিয়ন ও ৩টি পৌরসভা ঘূর্ণিঝড় মোখায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কক্সবাজার জেলার আট উপজেলায় সাড়ে ১২ হাজার ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই জেলায় দুর্গত মানুষের সংখ্যা ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৬২০ জন। এদিকে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, ঝড়ের বিপদ কেটে যাওয়ায় কক্সবাজার বন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত নামিয়ে তার বদলে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

মোখায় ঘরবাড়ির পাশাপাশি মাঠে থাকা গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি ও গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগেভাগে ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়ায় লবণের মাঠে তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। ঘূর্ণিঝড়ের আগেই লবণ সংগ্রহ করা হয়েছে। যেসব লবণ সংগ্রহ করা যায়নি সেখানে মাটিতে গর্ত করে প্লাস্টিকের শিটে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে। শুঁটকি উৎপাদনকারীদেরও কোনো ক্ষতি হয়নি। মাইকিং করে  সব শুঁটকি আগেই দ্বীপগুলো থেকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় মোখার তা-বে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন। টানা প্রায় ৪ ঘণ্টার ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিতে দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় বিধ্বস্ত হয়েছে সহস্রাধিক ঘরবাড়ি, হোটেল ও রিসোর্ট। তীব্র বাতাসে গাছ উপড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে গোটা উপকূলীয় অঞ্চল। এখন পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ে সেন্টমার্টিনে ১৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জলোচ্ছ্বাসে দ্বীপের পূর্ব অংশের বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপে ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাবে গাছপালা উপড়ে বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই দ্বীপের অনেকের কাঁচা ঘরবাড়ির ওপর এসব গাছ পড়ে ক্ষতি হয়েছে। বাজারে দোকানপাটও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও টিনের চাল উড়ে যেতে দেখা গেছে। শাহপরীর দ্বীপের তিন রাস্তার মাথার বাজার এবং শাহপরীর দ্বীপ ফুটবল মাঠের পাশের সড়কে গাছ পড়ে থাকায় যান চলাচল কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। সেন্টমার্টিন ও শাহপরীর দ্বীপ ছাড়াও ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়েছে টেকনাফের সাবরাং, টেকনাফ পৌরসভা, সদর ইউনিয়ন, বাহারছড়া ইউনিয়ন, উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইনানী, পাটুয়ারটেক, সোনাপাড়া এলাকা।

কক্সবাজার জেলার উপকূলজুড়ে ঘূর্ণিঝড় মোখার তা-বে অন্তত ১০ হাজার ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। এর মধ্যে ২ হাজার ঘর পুরোটাই বিধ্বস্ত হওয়ার তথ্য দিয়েছেন তিনি। তবে ক্ষতিগ্রস্তের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে আরও সময় লাগবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান। তিনি বলেন, প্রাথমিক তথ্য মতে, ব্যাপক সংখ্যক গাছ ভেঙে গেছে। জেলায় ১০ হাজার ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার মধ্যে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ঘর ২ হাজারের বেশি। এর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন মিলে ক্ষতির পরিসংখ্যান নির্ধারণে কাজ শুরু হয়েছে। তবে এর সঠিক চিত্র পেতে সময় লাগবে। একই সঙ্গে জোয়ারের পানিতে নতুন করে বেড়িবাঁধের কিছু এলাকাও ভেঙে গেছে। তা নির্ধারণেও পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ শুরু করেছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু সুফিয়ান বলেন, ঘরবাড়ির পাশাপাশি মাঠে থাকা গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি ও গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগেভাগে ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়ায় লবণের মাঠে তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। মাইকিং করে সব শুঁটকি আগেই দ্বীপগুলো থেকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

রোববার সকাল থেকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়তে শুরু করে সেন্টমার্টিন দ্বীপে। দুপুরের দিকে বৃষ্টি ও বাতাসের বেগ বাড়তে থাকে। বিকাল ৪টার পর তা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। টানা ১ ঘণ্টার বেশি প্রচ- বাতাস ও বৃষ্টির পর আবহাওয়া ধীরে ধীরে শান্ত হতে থাকে। বিকাল ৫টার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকে। সড়কে গাছপালা পড়ে থাকতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও গাছ উপড়ে বাড়িঘরে পড়েছে। বাড়ির সীমানা প্রাচীর পড়ে গেছে। এর মধ্যেই লোকজন বাড়ি ফিরছে।

ঘূর্ণিঝড়ে দ্বীপের মাঝেরপাড়া, কোনারপাড়া, গলাচিপা, দক্ষিণপাড়া, পশ্চিমপাড়া, উত্তরপাড়ার অন্তত ১ হাজার ২০০ ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। কয়েকশ গাছপালা ভেঙে পড়েছে। সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসে উত্তরপাড়া, পশ্চিমপাড়া ও পূর্ব দিকের বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তিনটি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ৩৭টির বেশি হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজে অবস্থান নিয়েছিল স্থানীয় প্রায় ৬ হাজার মানুষ। বেশির ভাগই শিশু ও নারী। এর মধ্যে ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ২ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। ঝড় কমে যাওয়ার পর অনেকেই সেখান থেকে বেরিয়ে আসে। পুরুষরা আগে বেরিয়ে কাছাকাছি থাকা বাড়িঘর গিয়ে দেখে আসে। পরে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে সঙ্গে থাকা জিনিসপত্রসহ নারী ও শিশুদের নিয়ে বাড়িঘরে যায়। যাদের বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে, তারা ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে।

সেন্টমার্টিন দ্বীপের উদয়-অস্ত রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আরিফ বলেন, দ্বীপে প্রায় ২২০টি রিসোর্ট রয়েছে, যেগুলোর অধিকাংশই বাঁশ-কাঠ দিয়ে তৈরি। সামনে যা দেখছি, প্রায় সব স্থাপনাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টি ও বাতাস কমলে ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে জানা যাবে।

সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা আবদুল মালেক জানান, মানুষের ঘর বাড়ির টিন, ছাউনি, কাঠ, বাঁশ ও দোকানপাট ভেঙে উড়িয়ে নিয়ে গেছে। এমনকি সৈকতের ভেজা বালি পর্যন্ত বাতাসে উড়িয়ে নিয়ে গেছে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, সকাল থেকে দ্বীপের পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক ছিল। বেলা দেড়টার পর থেকে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করতে শুরু করে। বেলা ২টার পর প্রবল গতিবেগে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টিপাত শুরু হয়। বিকাল ৪টা পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে। এতে লোকজনের ঘরবাড়ি, গাছপালা ভেঙে পড়েছে। গাছ পড়ে আহত হয়েছে ১০-১৫ জন। এদের মধ্যে এক নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। বাতাসের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল যোগাযোগব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। স্থানীয়দের অনেকের সঙ্গেই মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করে সংযোগ স্থাপন করা যায়নি।

টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপে ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাবে গাছপালা উপড়ে বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিকাল পৌনে ৫টার দিকে শাহপরীর দ্বীপের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, গাছপালার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেকের কাঁচা ঘরবাড়ির ওপর এসব গাছ পড়ে ক্ষতি হয়েছে। বাজারে দোকানপাটও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও টিনের চাল উড়ে যেতে দেখা গেছে। শাহপরীর দ্বীপের তিন রাস্তার মাথার বাজার এবং শাহপরীর দ্বীপ ফুটবল মাঠের পাশের সড়কে গাছ পড়ে থাকায় যান চালাচল কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। এসব এলাকার অধিকাংশ মানুষই ঝড়ের পূর্বাভাস পেয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল। ফলে বাড়িঘর ও এলাকা প্রায় জনশূন্য ছিল। বিকাল ৫টার পর থেকে লোকজনকে শাহপরীর দ্বীপ উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে বাড়ির দিকে যেতে শুরু করে। সে সময় আকাশ অনেকটাই মেঘাচ্ছন্ন ছিল এবং গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। লোকজন সেই বৃষ্টি মাথায় নিয়েই ঘরবাড়ির দিকে যাত্রা শুরু করে।

টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আলম জানান, টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, সাবরাং, টেকনাফ পৌরসভা, সদর ইউনিয়ন, বাহারছড়া ইউনিয়নের গাছের ওপর তা-ব চালিয়েছে মোখা। এসব এলাকার ৩০ শতাংশ গাছ ভেঙে গেছে। এ ছাড়া বহু ঘর ভেঙে গেছে। বিধ্বস্ত ঘরের সংখ্যা নির্ধারণে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। বলেন, সেন্টমার্টিন বাদ দিলে টেকনাফ উপজেলায় কম হলেও ১ হাজার ঘর ভেঙে গেছে।

ঘূর্ণিঝড় মোখার কারণে এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবাহ বন্ধ হয়ে যায়। গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থা কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড-কেজিডিসিএ জানিয়েছে, ৬ থেকে ৭ দিন সময় লাগবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে।

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন :