1. shahjahanbiswas74@gmail.com : Shahjahan Biswas : Shahjahan Biswas
  2. ssexpressit@gmail.com : sonarbanglanews :
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
শিবালয়ে দুই বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি’র সভাপতি হলেন মো.শহীদুর রহমান শিবালয়ে মাদক বিরোধী মতবিনিময় সভা শিবালয়ে ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে সেমিনার অনুষ্ঠিত দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে ডুবে গেল বাস ঈদের প্রস্তুতি দেখতে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাট পরিদর্শনে নৌপ্রতিমন্ত্রী শিবালয়ে জাতীয় কবিকাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত আরিচা-পাটুরিয়া ঘাটে মটরসাইকেল ও ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিতে শিবালয়ে নানা আয়োজন শিবালয়ে মাদক, সন্ত্রাস ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধ প্রতিবাদ সভা পশুর হাটসহ আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে-ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে কাজ করছে র‌্যাব

নিউ সুপার মার্কেটে আগুন: আবারও আগুনে পুরে গেল ব্যবসায়ীদের স্বপ্ন

  • সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৩
  • ১৮৪ বার পড়েছেন

অনলাইন ডেস্ক: বঙ্গবাজারের পর এবার প্রায় একই কায়দায় ভয়াবহ আগুনে ঈদের স্বপ্ন পুড়ল রাজধানীর নিউ সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীদের। নিউমার্কেট সংলগ্ন জনপ্রিয় ঢাকা নিউ সুপার মার্কেট (দ.) ভবনে আগুন লাগে শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে। দ্বিতীয় তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মার্কেটের ব্যবসায়ীরা এ তথ্য জানান।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৩১টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিস ছাড়াও আগুন নেভাতে কাজ করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও আনসার সদস্যরা। এগিয়ে আসেন আশপাশের ব্যবসায়ী-কর্মচারীসহ স্বেচ্ছাসেবীরা। তবে এই সময়ের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে ছাই হয়ে যায় নিউ সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় তলার তিন শতাধিক দোকান। সেসব দোকানে ঈদ উপলক্ষে ভরপুর মালামাল তুলেছিলেন ব্যবসায়ীরা। এ আগুন নেভাতে গিয়ে ধোঁয়ায় অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিতে হয় ২৪ জন ফায়ার সার্ভিসকর্মীসহ অন্তত ৩৫ জনকে। রাত ১০টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আগুন সম্পূর্ণ নেভাতে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট কাজ করছিল।

এর আগেও প্রায় একইভাবে গত ৪ এপ্রিল ভোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হয় রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী বঙ্গবাজার। যেখানে প্রায় পাঁচ হাজার পোশাকের দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে সব হারিয়ে বঙ্গবাজারের ব্যবসায়ীরা এখন চৌকি পেতে পণ্য বিক্রি করছেন। বঙ্গবাজারের আগুনের পর গত ১১ দিনে আরও অন্তত পাঁচটি মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। ধারাবাহিকভাবে একের পর এক মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টরা। যদিও ঘটনাস্থলে কাজ করা ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ধারণা থেকে বলেছেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে নিউ সুপার মার্কেটে আগুনের সূত্রপাত ঘটে থাকতে পারে। তবে মার্কেটটির ফায়ার সেফটি সিস্টেম অত্যন্ত দুর্বল ছিল। এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসসহ একাধিক সংস্থা তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বলেও জানা গেছে। তবে এরই মধ্যে পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন সংস্থা এ আগুনের নেপথ্যে কোনো নাশকতা রয়েছে কি না তা বের করতে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানানো হয়েছে।

সরেজমিন ঘটনাস্থলের চিত্র: ঢাকার নিউমার্কেট ভবন-সংলগ্ন উত্তর পাশের তিন তলা বিশাল ভবনটি ‘ঢাকা নিউ সুপার মার্কেট (দ.) ভবন’ হিসেবে পরিচিত। নিউমার্কেটের ৪ নম্বর গেটের সামনের ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করে নিউ সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় প্রবেশ করা যায়। যদিও সেই ফুট ওভারব্রিজের পশ্চিম অংশ তথা নিউ সুপার মার্কেট-সংলগ্ন অংশটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে গত শুক্রবার থেকে ভাঙতে শুরু করে সিটি করপোরেশন। মার্কেটের প্রবেশদ্বার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া এই ফুট ওভারব্রিজটি ঈদের আগ মুহূর্তে এসে কেন ভাঙতে হলো সেটা নিয়ে আগুনের ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে। ওই ফুট ওভারব্রিজের পূর্ব পাশেই গাউছিয়া-চাঁদনী চক মার্কেটের অবস্থান।

শনিবার খুব সকালেই খবর পাওয়া মাত্রই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে ছুটে গিয়ে আগুন নেভাতে শুরু করেন। এ সময় তৃতীয় তলা দাউ দাউ করে জ্বলছিল। খুব অল্প সময়েই আগুন চারদিক ছড়িয়ে পড়ে। দোতলায় কিছু দোকান পুড়ে যায়। তার মাঝে ব্যাপক হারে পানি ছিটানো হচ্ছিল। তবে অন্যান্য বড় আগুনের ক্ষেত্রে যেভাবে পানির স্বল্পতা দেখা গেছে সেখানে নিউ সুপার মার্কেটে অগ্নিনির্বাপণে পানির কোনো ঘাটতি ছিল না।

ঘটনাস্থলে কাজ করা ফায়ার সার্ভিসের কর্মী খোরশেদ আলম সময়ের আলোকে বলেন, ফায়ার সার্ভিসের বাইরেও বিমানবাহিনী এবং ঢাকা ওয়াসা প্রচুর পানি সরবরাহ করেছে। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পাশর্^বর্তী ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরের পুকুর থেকে ১৫টি পাম্প স্থাপন করে আমরা সরাসরি পানি ব্যবহার করতে পেরেছি। কয়েক দিন আগের (৪ এপ্রিল) বঙ্গবাজারের আগুন নেভাতে যেরকম পানি সংকট হয়েছিল এখানে সেটি একেবারেই হয়নি।

শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘটনাস্থলে অবস্থান করে দেখা যায়, একদিকে যখন ভয়ানক আগুনে দোকান পুড়ছিল তখন সেই অবস্থার মাঝেই জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ব্যবসায়ী-কর্মচারীরা তাদের অক্ষত মালামালগুলো দ্রুত সরিয়ে নিচ্ছিলেন। কেবল দোকান সংশ্লিষ্টরাই নন, ব্যতিক্রম হিসেবে দেখা গেছে, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী এবং পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসারসহ উপস্থিত সংশ্লিষ্ট সবাই ঝুঁকিপূর্ণ দোকানগুলোর মালামাল উদ্ধার কাজে নিয়োজিত হন।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ড্রিল মেশিন দিয়ে মার্কেটটির ছাদ ছিদ্র করে সেখান দিয়েও পানি প্রবেশ করান। একেক করে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের ৩১টি ইউনিট অগ্নিনির্বাপণ কাজে যুক্ত হয়। তার মাঝে অগ্নিনির্বাপণ ও মালামাল উদ্ধার কাজে সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, আনসার, ওয়াসা, আশপাশের দোকানি ও স্বেচ্ছাসেবীদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ছিল চোখে পড়ার মতো। ঢাকা কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের সীমানা প্রাচীর ভেঙে দিয়ে পানি সরবরাহের সুযোগ করে দেয়। এ ছাড়া অন্যান্য ঘটনার মতোই নিউ সুপার মার্কেটের অগ্নিকাণ্ড ঘিরেও সেখানে ছিল হাজারও উৎসুক জনতার ভিড়। ঘটনাস্থলে সব বাহিনীরই বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন ছিল। বেলা পৌনে ৩টার দিকেও ঘটনাস্থলে ধোঁয়া দেখা যায়। তখনও সেখানে প্রচুর পানি ব্যবহার করা হচ্ছিল। নিউ সুপার মার্কেটে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় ঢাকা নিউমার্কেটসহ আশপাশের বড় কয়েকটি বিপণিবিতান দিনভর বন্ধ ছিল। ক্ষতিগ্রস্ত নিউ সুপার মার্কেটটি আপাতত বন্ধ থাকবে বলেও জানানো হয়।

অগ্নিকাণ্ড নিয়ে যা বললেন ফায়ার সার্ভিসের ডিজি : শনিবার সকাল ১০টায় ঘটনাস্থলে এক ব্রিফিংয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন বলেন, শনিবার ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে নিউ সুপার মার্কেটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। এরপর সেখানে ফায়ার সার্ভিসের ৩১টি ইউনিট কাজ করেছে। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ৯টা ১০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস ছাড়াও এখানে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, আনসার, ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই মানবিক সহায়তায় ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। এ সময় আগুন নেভানোর পাশাপাশি দোকানিদের মালামাল উদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। আমি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে অনুরোধ করব, কেন বারবার মার্কেটে এ ধরনের আগুন লাগছে তা তদন্ত করে বের করতে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা যা বলছেন : নিউ সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় ছিল ‘আবু রনি গার্মেন্টস’। অন্য দোকানগুলোর সঙ্গে সেটিও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঘটনাস্থলে আহাজারি করছিলেন এই দোকানের মালিক হুমায়ুন কবির।

এ সময় তিনি বলেন, ঈদের আগে রমজান মাসে বেচাকেনা বেশি হয়। সারা বছর আমরা এই সময়টাকে নিয়ে অনেক বড় আশা করে থাকি। এই সময়ের ব্যবসা নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখি। এবার কেনাবেচা জমেও উঠেছিল। গত শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত আমরা বিক্রি করেছি। বাসায় ফেরার পর মাত্র দুই-তিন ঘণ্টা পরই জানতে পারি আমার সব শেষ। প্রায় কোটি টাকার মালামাল ছিল। আগুনে আমার সবকিছু পুড়ে গেছে।’

কেবল হুমায়ুন কবির নন, ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ ব্যবসায়ীর পরিস্থিতিই এখন প্রায় একই রকম। তবে এই ভয়াবহ ঘটনার নেপথ্যে কোনো নাশকতা থাকতে পারে বলেও সন্দেহ করছেন তারা। ঘটনাস্থলে অবস্থানকালে নিউ সুপার মার্কেটের সামনে বেশ কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হলে তাদের অধিকাংশই এ আগুনকে ‘নিছক দুর্ঘটনা’ হিসেবে মানতে চাননি।

দোকানিরা বলেছেন, ঈদ উপলক্ষে অন্যান্য মার্কেটের মতো ঢাকা নিউ সুপার মার্কেটেও কেনাবেচা জমে উঠেছিল। রাত প্রায় ৩টা পর্যন্ত মার্কেটে কেনাবেচা ছিল। এরপর সবাই দোকান বন্ধ করে বাসায় গিয়ে সেহরি খেয়ে ও নামাজ শেষে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। এর কিছুক্ষণ পরই তারা বিভিন্ন জনের মাধ্যমে মার্কেটে আগুন লাগার খবর পান। ভোরে যখন কেউ ছিল না ঠিক তখনই এমন ভয়াবহ আগুন লাগল! কীভাবে কী হলো তা জানা দরকার।

ফুটওভার ব্রিজ ভাঙা নিয়ে প্রশ্ন: সরেজমিন দেখা গেছে, নিউ সুপার মার্কেট অংশে ফুটওভার ব্রিজের বেশ খানিকটা অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী বলেছেন, ফুটওভার ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) সেটি ভেঙে ফেলার পদক্ষেপ নেয়। কিন্তু ঈদের আগে ব্রিজটি না ভাঙতে জোরালোভাবে অনুরোধ করেন ব্যবসায়ীরা। ঈদের আগে ভাঙলে ক্রেতাদের আসা-যাওয়ায় সমস্যা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি, শুক্রবার রাতে ডিএসসিসির কর্মীরা সেই ফুটওভার ব্রিজটি ভাঙতে শুরু করেন। ঈদের আগে কেন এই ফুটওভার ব্রিজটি ভাঙতে হবে সেটা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে ডিএসসিসির দায়িত্বশীল কারও বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

মাথায় করে মালামাল সরিয়েছেন সব বাহিনীর সদস্যরা: নিউ সুপার মার্কেটের আগুন নেভানো ও মালামাল সরিয়ে নিতে শনিবার সেখানে আন্তরিক প্রচেষ্টা দেখা গেছে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী, পুলিশ-বিজিবিসহ প্রায় সব বাহিনীর সদস্যদের। ঘাড়ে-মাথায় করে কোনো মতে অক্ষত মালামাল সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়েছেন তারা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রচণ্ড ধোঁয়া ও পানিতে ভিজে ব্যবসায়ীদের শেষ সম্বল রক্ষার চেষ্টা চালান তারা। বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সেখানে একইভাবে সহায়তা করেন আশপাশের মার্কেটের ব্যবসায়ী ও কর্মচারীসহ স্বেচ্ছাসেবীরাও। পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা, প্রশস্ত সড়ক এবং বাহিনীগুলোর সমন্বিত আন্তরিক প্রচেষ্টায় দ্রুততম সময়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা। এ অগ্নিকাণ্ডে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী এবং পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও আনসারসহ উপস্থিত সংশ্লিষ্ট সবাই ঝুঁকিপূর্ণ দোকানগুলোর মালামাল উদ্ধার কাজে নিয়োজিত হন। স্বয়ং ডিএমপির উপ-কমিশনার (ডিসি) শহিদুল্লাকেও তার অধীন পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে মালামাল বহন করতে দেখা গেছে।

ব্যবসায়ী সমিতি যা বলছে : ঢাকা নিউমার্কেট মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহিন সময়ের আলোকে বলেন, মার্কেটে প্রায় ১২শ দোকান রয়েছে। এর মধ্যে শনিবার ভোরের ওই আগুনে চার শতাধিক দোকানঘর তথা তাদের মালামাল পুড়ে গেছে। ওই মার্কেটে ১১ হাজার ভোল্টেজের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আছে। বৈদ্যুতিক সাপোর্ট পাওয়ার পরই মার্কেট খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সারারাত কাজ করবে ফায়ার সার্ভিসের ১২ ইউনিট : শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে ব্রিফিংয়ে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রেজাউল করিম বলেন, নিউ সুপার মার্কেটে লাগা আগুন পুরোপুরি নেভাতে আরও সময় লাগবে। সারারাত এখানে উদ্ধার কার্যক্রম চলবে। ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট সম্মিলিতভাবে সারারাত এখানে কাজ করবে।

রেজাউল করিম বলেন, মার্কেটটির ফায়ার সেফটি সিস্টেম অত্যন্ত দুর্বল ছিল। ব্যবসায়ীরা সিটি করপোরেশন থেকে একটি দোকান বরাদ্দ নিয়ে করিডোরে আরও দুই-তিনটি সাব দোকান দিয়েছিলেন। যার কারণে করিডোরগুলো খুবই সংকীর্ণ হয়ে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে কাপড়ের মাধ্যমে আগুন দ্রুত ছড়িয়েছে। এ ছাড়াও মার্কেটের ফলস ছাদ, প্লাস্টিকসামগ্রী, ব্যানার, পোস্টার এবং ফেস্টুনের কারণে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এ ধরনের সামগ্রী এখন পরিহারের সময় এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) জানায়, রাজধানীর নিউ সুপার মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসকে সহায়তার অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী প্রধানের নির্দেশে অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ কাজে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফায়ার ক্রু মোতায়েন করা হয়। এ ছাড়াও অগ্নিকাণ্ড এলাকার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর মিলিটারি পুলিশের (এমপি) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছিল। মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে বৈরী পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে ওয়াটার বাউজারের মাধ্যমে পানি ও অন্যান্য অগ্নিনির্বাপণের সরঞ্জামাদিসহ সহায়তা প্রদান করে। এ ছাড়া যেকোনো প্রকার অপ্রত্যাশিত ঘটনা এড়ানোর জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়।

উল্লেখ্য, গুলশান, বঙ্গবাজার ও নবাবপুরের আগুন নিয়ন্ত্রণেও ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্মিলিতভাবে কাজ করেছে।

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন :