1. shahjahanbiswas74@gmail.com : Shahjahan Biswas : Shahjahan Biswas
  2. ssexpressit@gmail.com : sonarbanglanews :
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১১:০৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
শিবালয়ে দুই বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি’র সভাপতি হলেন মো.শহীদুর রহমান শিবালয়ে মাদক বিরোধী মতবিনিময় সভা শিবালয়ে ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে সেমিনার অনুষ্ঠিত দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে ডুবে গেল বাস ঈদের প্রস্তুতি দেখতে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাট পরিদর্শনে নৌপ্রতিমন্ত্রী শিবালয়ে জাতীয় কবিকাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত আরিচা-পাটুরিয়া ঘাটে মটরসাইকেল ও ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিতে শিবালয়ে নানা আয়োজন শিবালয়ে মাদক, সন্ত্রাস ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধ প্রতিবাদ সভা পশুর হাটসহ আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে-ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে কাজ করছে র‌্যাব

জলবায়ু পরিবর্তনে বৈশ্বিক ও স্বতন্ত্র দেশের প্রচেষ্টাকে সুসংহত করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৩
  • ২৮৪ বার পড়েছেন

অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবার জন্য একটি উন্নত বিশ্ব গড়ে তুলতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কাটিয়ে উঠায় কার্যকর নীতি এবং পরিকল্পনার পাশাপাশি বৈশ্বিক উদ্যোগের সঙ্গে স্বতন্ত্র  দেশের প্রচেষ্টাকে সুসংহত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি বলেন, ‘যেহেতু, জলবায়ু পরিবর্তনের উৎস বৈশ্বিক, তাই, এর সমাধান ও ব্যবস্থাপনাও বৈশ্বিক হতে হবে। যদি শুধুমাত্র বৈশ্বিক প্রচেষ্টা এবং স্বতন্ত্র দেশের প্রচেষ্টাকে সুসংহত করে কার্যকর নীতি, পরিকল্পনা এবং শাসনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, তবেই কর্ম প্রচেষ্টা সফল হতে পারে।’

মঙ্গলবার দুর্যোগ সহিষ্ণু অবকাঠামো সংক্রান্ত ৫ম আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রচারিত একটি ভিডিও বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে যে কোনো উদ্যোগে যোগ দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত। জলবায়ু অভিযোজন, প্রশমন এবং সহিষ্ণু অবকাঠামোর জন্য সমন্বিত বৈশ্বিক প্রচেষ্টা এবং দৃষ্টিভঙ্গির বিনিময়ের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী ।

শেখ হাসিনা বলেন,  আমরা বিশ্বাস করি, অপ্রত্যাশিত সংকট মোকাবেলায় অর্থায়ন প্রক্রিয়ার প্রতি অঙ্গীকার এবং সম্মতি অপরিহার্য। আমাদের সবার জন্য একটি টেকসই এবং প্রতিকূলতা সহিষ্ণু ভবিষ্যত গড়ে তোলার জন্য সরকার, আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক সংস্থা, বেসরকারি খাতগুলোর মধ্যে বৃহত্তর সংহতি প্রয়োজন। একই সাথে, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, স্থিতিস্থাপক রূপান্তরকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে আমাদের চিন্তাভাবনায় এই বিষয়ে পদ্ধতিগত পরিবর্তন আনতে হবে। আমাদের সবার জন্য একটি উন্নত বিশ্ব নিশ্চিত করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সাথে হাতে হাত রেখে কাজ করার বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি এই সময়োপযোগী অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অভিনন্দন জানান। বাংলাদেশ ২০২১ সালের জুলাই মাসে এই প্ল্যাটফর্মে যোগ দেয়।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ অনাকাঙ্খিত জলবায়ু বিপর্যয় ও দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছে, যা আমাদের প্রতিষ্ঠান ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি করছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবং এই আঘাত ও চাপ সহিষ্ণু শক্তিশালী এবং ভৌত অবকাঠামো প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি বিশ্ব তুরস্ক, সিরিয়া এবং আফগানিস্তানে বিশাল ভূমিকম্প, ক্যারিবিয়ান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় হারিকেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় বন্যার মতো সিরিজ বিপর্যয় প্রত্যক্ষ করেছে।

তিনি বলেন, ‘গত বছর আমরা বাংলাদেশে বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়সহ একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হয়েছি, যার ফলে বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। এটি গুরুত্বপূর্ণ যে আমাদের বিনিয়োগকে রক্ষা করার জন্য ভবিষ্যতের সমস্ত অবকাঠামো নির্মাণ এবং পদ্ধতিগুলোকে অবশ্যই দুর্যোগ সহিষ্ণু হতে হবে।

জলবায়ুর ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে সরকার প্রধান বলেন, বাংলাদেশ বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, ঝড়, খরা এবং বজ্রপাতের মতো ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হচ্ছে। আইপিসিসি রিপোর্ট-২০২২ ভবিষ্যৎ বাণী করেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ শতাব্দীর মাঝামাঝি এবং শেষের দিকে জিডিপির ২ থেকে ৯ শতাংশ ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের পদক্ষেপ শুরু হয় ১৯৭৩ সালের জুলাই মাসে, যখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি প্রণয়ন করেছিলেন।

এই কর্মসূচির আওতায় বঙ্গবন্ধু উপকূলীয় এলাকায় ১ হাজার ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করেছিলেন, তিনি আরো বলেন, জনগণ এই কেন্দ্রগুলোকে ‘মুজিব কেল্লা’ বলে ডাকতো।

তিনি বলেন, এর আগে ১৯৭০ সালে, একটি প্রলয়ঙ্কারি জলোচ্ছ্বাস প্রতিকূলতা সহিষ্ণু অবকাঠামোর অভাবে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ১০ লাখ মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছিল। ২০০৯ সালে আমাদের সরকার নিজস্ব সম্পদ দিয়ে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট তহবিল প্রতিষ্ঠা করেছে। এ পর্যন্ত ৪৮ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে প্রায় ৮০০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।’

ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সভাপতিত্বকালে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘আমরা একটি জলবায়ু সহনশীল সমৃদ্ধ দেশ গড়তে মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা চালু করেছি।’

তিনি বলেন, ‘২০২২ সালে আমাদের সরকার জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা চালু করেছে, এতে ২০৫০ সালের মধ্যে ২৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সহিষ্ণু ও সমৃদ্ধ ব-দ্বীপ গড়ে তুলতে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি  ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ প্রণয়ন করেছে। সরকার এখন বিজ্ঞান-ভিত্তিক অবকাঠামো নকশা প্রনয়ণ এবং বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেয়। আমরা আমাদের স্থানীয় সম্প্রদায়কে তাদের জন্য কার্যকর অবকাঠামো তৈরিতে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করি।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকার ১,৪০০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং এবং পুনঃখনন করেছে। আমরা ১৩৯টি উপকূলীয় পোল্ডারের পাশাপাশি প্রায় ২২,০০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করেছি। এই অবকাঠামোগুলো ২০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষকে বন্যার ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে সুরক্ষা দিচ্ছে। আমরা এখন পর্যন্ত ১,২২৯ কিলোমিটার নদী তীর সুরক্ষা বাধ সম্পন্ন করেছি। দুর্যোগ থেকে সুরক্ষার জন্য তারা ৪,৫৩০টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করেছেন, এর মধ্যে কিছু নিয়মিত স্কুল হিসাবেও ব্যবহার করা হয়।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা এখন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় মানুষ ও গবাদিপশুকে আশ্রয় দেয়াসহ একাধিক ব্যবহারের জন্য মাটি উঁচু করে ৫৫০টি মুজিব কিল্লা নির্মাণ করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় তাঁর সরকার এ পর্যন্ত ৭ লাখেরও বেশি বাড়ি নির্মাণ করেছে এবং সেগুলো বিনামূল্যে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। এই বাড়িগুলো যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহ্য করার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী। জলবায়ু বাস্তুচ্যুত মানুষদের পুনর্বাসনে আমরা কক্সবাজারে ১৩৯টি পাঁচতলা ভবনও নির্মাণ করেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা আমাদের স্থানীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি ডিজিটাল তথ্য এবং পরিষেবা কেন্দ্রগুলোকে প্রাথমিক সতর্কতা প্রদানের জন্য ব্যবহার করছি। আমাদের পদক্ষেপের ফলে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মৃতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। বিশ্ব সম্প্রদায়ও বাংলাদেশের প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। স্বীকৃতি হিসেবে তারা ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থসহ আরও অনেক পুরস্কারে ভূষিত করেছে।

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন :