
অনলাইন ডেস্ক: বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনে লাগাতার হরতাল অব্যাহত রয়েছে। সে সঙ্গে চলছে বিক্ষোভ। হরতালে পাকিস্তান বাহিনীর নির্বিচার গুলিবর্ষণে দেশের বিভিন্ন স্থানে শহিদ হন বিপুলসংখ্যক মানুষ। ইতিমধ্যেই সে সংখ্যা দাঁড়ায় ২২২ জনে। গণহত্যার প্রতিবাদে বিশ্ব জনমত গঠনের জন্য বিবৃতি দেন সে সময়ের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ। আজ ৬ মার্চ রাতে অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল আসগর খান বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাঁর ধানমন্ডির বাসভবনে সাক্ষাৎ করেন। প্রায় ৪৫ মিনিট আলোচনা হয়। তবে আলোচনা তেমনভাবে ফলপ্রসূ হয়নি। সেদিন শহর থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করা হয়।
বিবৃতিতে তাজউদ্দীন আহমদ বলেন, বাংলার বুকে এ গণহত্যা বন্ধ কর। যারা এই ঘটনার জন্য দায়ী তাদের জানা উচিত যে, নির্বিচারে নিরীহ মানুষকে এভাবে হত্যা করা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ছাড়া আর কিছু নয়। বাংলাদেশের নিরস্ত্র বেসামরিক লোকদের ওপর এই নগ্ন শক্তি প্রয়োগ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষকে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা যাবে না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। পরদিন সংবাদে মোটা হরফে প্রথম আট কলামে ছাপা হয়, ‘৭ মাচের্র ভাষণের অপেক্ষায় সবাই’। দিকে দিকে শুরু হয়ে যায় মুক্তিকামী জনতার দৃপ্ত পদচারণ। কণ্ঠে কণ্ঠে শুধু সাগরের ক্ষুব্ধ গর্জন।
পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ভাইস অ্যাডমিরাল এসএম আহসানকে অপসারণ করা হয়। নতুন গর্ভনর করা হয় টিক্কা খানকে। দুপুরে রেডিও পাকিস্তানের জাতীয় অনুষ্ঠানে ইয়াহিয়া খান জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। ভাষণে ২৫ মার্চ জাতীয় পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশন আহ্বানের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। এই ঘোষণার পর বঙ্গবন্ধুর সভাপতিত্বে জরুরি সভায় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা হয়। (সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক)।
Leave a Reply