1. shahjahanbiswas74@gmail.com : Shahjahan Biswas : Shahjahan Biswas
  2. ssexpressit@gmail.com : sonarbanglanews :
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১:০১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
শিবালয়ে দুই বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি’র সভাপতি হলেন মো.শহীদুর রহমান শিবালয়ে মাদক বিরোধী মতবিনিময় সভা শিবালয়ে ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে সেমিনার অনুষ্ঠিত দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে ডুবে গেল বাস ঈদের প্রস্তুতি দেখতে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাট পরিদর্শনে নৌপ্রতিমন্ত্রী শিবালয়ে জাতীয় কবিকাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত আরিচা-পাটুরিয়া ঘাটে মটরসাইকেল ও ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিতে শিবালয়ে নানা আয়োজন শিবালয়ে মাদক, সন্ত্রাস ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধ প্রতিবাদ সভা পশুর হাটসহ আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে-ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে কাজ করছে র‌্যাব

ভারতের পানিতে ভাসছে বাংলাদেশের ৮ জেলা

  • সর্বশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৪
  • ১৭৪ বার পড়েছেন

অনলাইন ডেস্ক: ভারত থেকে হু হু করে আসছে পানি, সঙ্গে প্রতিকূল আবহাওয়া। হুট করেই প্রতিবেশী দেশ ভারত ত্রিপুরার ডম্বুর হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার প্রজেক্ট বা ডম্বুর গেট খুলে দেওয়ায় বাংলাদেশের বন্যা পরিস্থিতি তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে বন্যার পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় কোনোরকম সতর্কতা ছাড়াই ডম্বুর গেট খুলে দেয় সেখানকার প্রশাসন। আর সে কারণেই বাংলাদেশে এ মহাদুর্যোগের সৃষ্টি।

সবশেষ ১৯৯৩ সালে এই গেটটি খুলে বাংলাদেশকে ডুবিয়েছিল ভারত। এবারে গেট খুলে দেওয়ায় ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ তথা দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভাসছে ওপারের পানিতে। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা দাঁড়িয়েছে ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলায়। ফেনীতে এ খবর লেখা পর্যন্ত একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, ফসলি জমি। হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে বন্যাকবলিত এলাকায়। পুরোপুরি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে এসব এলাকা। বন্ধ হয়ে গেছে মোবাইল নেটওয়ার্কও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি-ভিডিওতে দেখা গেছে টিনের ঘরের চালা পর্যন্ত ডুবে গেছে বানের পানিতে। বহু গবাদিপশু ভেসে গেছে বন্যায়। আমাদের ব্যুরো, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর-

ফেনী : ভারতীয় উজানের পানি ও টানা বর্ষণে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়ার শতাধিক গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ। ৮৬ সেন্টিমিটার বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর পানি। ফলে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট  ও বসতবাড়ি। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ভেসে বেড়াচ্ছেন বন্যাদুর্গতরা। ফেনী জেলার পরশুরাম ও ফুলগাজীতে বন্যার্তদের উদ্ধারে মোতায়েন হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। আইএসপিআর জানায়, উদ্ধারকাজে স্পিড বোট ও হেলিকপ্টার ব্যবহৃত হচ্ছে। এরই মধ্যে একজন প্রাণ হারিয়েছেন ও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। ২ হাজার ৭৬০ জনকে উদ্ধারের পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

জানা গেছে, ফুলগাজী উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ৫৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে করে ৪ হাজার ৮০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। সেনাবাহিনীসহ উদ্ধারকাজে নিয়োজিতরা এখন পর্যন্ত ৩০০ জনকে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দেন।

জানা গেছে, গত সোমবার রাত ১০টার দিকে ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্রীপুর পশ্চিমমাথা এলাকায় চার বন্ধুর সঙ্গে বেড়িবাঁধের ভাঙনকবলিত স্থানে মাছ ধরতে যান মিজানুর রহমানের ছেলে মো. রাজু। এক পর্যায়ে প্রবল স্রোতে ভেসে যান তিনি। স্থানীয়রা রাজুকে উদ্ধার করে ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে পরশুরাম উপজেলা ও পৌরশহরসহ ৪৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে প্রায় ১৪ হাজার ৭০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৪৬০ জনকে উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ফেনী সদর উপজেলার ছনুয়া ও ছাগলনাইয়ার পাঠাননগর, রাধানগর, শুভপুর ইউনিয়নেরও বেশ কয়েকটি গ্রামে বন্যায় হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কিন্তু সেখানে উদ্ধারকাজে তেমন অগ্রগতি জানা যায়নি। বন্যাদুর্গত এসব এলাকায় তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, পুকুর ও ফসলি জমি। এরই মধ্যে কিছু কিছু এলাকায় মানুষের ঘরের ছাদ ও টিনের চাল পর্যন্ত ছুঁয়েছে বন্যার পানি।

পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা হাবিব শাপলা বলেন, সোমবার মধ্যরাত থেকেই ফায়ার সার্ভিসের সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবক ছাত্রদের সহায়তায় দুটি ডিঙি নৌকা দিয়ে লোকজনকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এখন সেনাবাহিনীর সদস্যরাও উদ্ধারকাজে নেমেছেন। এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ৫০০ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। আরও শুকনা খাবার ও ৫০ টন চাল মজুদ রয়েছে।

ফেনী জেলা প্রশাসক মুসাম্মত শাহীনা আক্তার বলেন, ত্রাণ সহায়তা ও উদ্ধার অভিযানে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবুল কাশেম জানান, মুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ৮৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বেড়িবাঁধের ভাঙন সংস্কার করা হবে।

কুমিল্লা : বিপদসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে গোমতী নদীর পানি। এতে কুমিল্লা নগরীর ভাটপাড়া এলাকাসহ আশপাশের চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকেই নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে থাকে। এ সময় নদীর বাঁধ ঝুঁকির মুখে পড়ায় পর্যবেক্ষণে বের হয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। এ সময় তারা কামারখাড়া ও বাবুবাজার এলাকাবাসীর কাছে বাঁধে ফাটলের খবর পেলে সেখানে ফাটল রোধে বালুর বস্তা সরবরাহ করা হবে বলে জানায় স্থানীয়রা। নদীর পারের মানুষজনকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। নদীর চরাঞ্চলের মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন।

পানি বেড়ে যাওয়ায় উৎকণ্ঠার মাঝে রয়েছেন নদীর চরাঞ্চলের কৃষকরাও। ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় চর ডুবে যাওয়ায় ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নিচু এলাকার বাড়িঘরে প্রবেশ করছে পানি। বিভিন্ন জায়গায় গোমতীর আইলে ফাটল দেখা দিচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালীউজ্জামান বলেন, কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি বিপদসীমা হচ্ছে ১১ দশমিক ৭৫ মিটার। ইতিমধ্যেই তা ১২ মিটারের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ৩০ বছরে এমন পানি বাড়েনি। ত্রিপুরাতে বাঁধ খুলে দেওয়া প্রসঙ্গে ওয়ালীউজ্জামান বলেন, বাঁধ খুলে দিলেও ভারতের কর্তৃপক্ষ কখনো সেটি পূর্বে জানিয়ে দেয় না।

এদিকে তিতাস উপজেলায় গোমতী নদীর প্রবল স্রোতে সেতু ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে উপজেলার নারান্দিয়া ও ভিটিকান্দি ইউনিয়নসহ প্রায় ১৫ গ্রামের লোকজন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

চট্টগ্রাম : টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হালদা, সর্তা ও ধুরুং নদীতে পানি বেড়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমির ফসলি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। নদীগুলোতে পানি বিপদসীমার ওপরে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা ইতিমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছি।

সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার বাগান বাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট, ভুজপুর, পাইন্দং, হারুয়ালছড়ি, সুয়াবিল, লেলাং, কাঞ্চননগর, ফটিকছড়ি ও নাজিরহাট পৌরসভা, রোসাংগিরি, সমিতিরহাট, ধর্মপুর, আবদুল্লাপুর, বক্তপুর ইউনিয়নের প্রধান কয়েকটি সড়কসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব পৌরসভা ও ইউনিয়নের প্রধান কয়েকটি সড়ক প্লাবিত হয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। উপজেলাজুড়ে ১৭টি শাখা খালেও উপচে পড়েছে পানি। এসব পানিতে এলাকাগুলোর রোপা আমন ও বর্ষাকালীন সবজি ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। কয়েকশ মাছের ঘের ও পুকুর ডুবে রয়েছে। এ ছাড়া বন্যায় মুরগি ও গরুর খামারগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। ডুবে রয়েছে অন্তত অর্ধশতাধিক ঘরবাড়িও।

সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়ার সিকদার খালের বেড়িবাঁধ এলাকায় অতি বৃষ্টির ঢলে স্লুইস গেট বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে খালের বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী বুধবার সকাল ৬টা থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় সীতাকুণ্ডে বৃষ্টির পরিমাণ ১৯৩ মিলিমিটার। আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর বলেন, উপজেলার উত্তরাংশের ছয় ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকা ডুবে গেছে। এসব এলাকা হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে তলিয়ে গেছে। অন্যদিকে জলাবদ্ধতায় ১৫০ হেক্টর ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। পানির স্রোতে ভেঙে গেছে বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের শিকদার খালেরস্লুইসগেট। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী এসএম তারেক বলেন, সিকদার খালেরস্লুইস গেটটি অনেক আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। ছয় বছর আগেও এটি একবার ভেঙে যায়। ঝুঁকিতে রয়েছে আরও পাঁচ স্লুইস গেট।

মিরসরাইয়ে টানা বৃষ্টি পাহাড়ি ঢলে ৬০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। মুহুরী প্রজেক্ট এলাকার মৎস্য ঘেরের বাঁধ ভেঙে কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন মৎস্যচাষিরা। বৃষ্টিতে ডুবে আছে সবজি ও রোপা আমন। ভেঙে গেছে বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক।

হবিগঞ্জ : উজান থেকে পাহাড়ি ঢল আর অব্যাহত বৃষ্টির ফলে হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার ভোররাত থেকে লস্করপুর, জালালাবাদসহ পাঁচটি স্থানে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে প্রবেশ করছে নদীর পানি। তলিয়ে গেছে কয়েক শতাধিক হেক্টর সবজিসহ কৃষিজমি। এ ছাড়াও শহরের নিম্নাঞ্চলের বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

স্থানীয়রারা জানান, প্রভাবশালীরা ড্রেন বন্ধ করে বাসাবাড়ি তৈরি করেছে, যার কারণে একটু বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ময়লা-আবর্জনাযুক্ত নোংরা পানির কারণে এলাকায় দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়েছে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম হাসনাইন মাহমুদ সময়ের আলোকে জানিয়েছেন, খোয়াই নদীর পানি বাল্লা পয়েন্টে ১৯৭ সেন্টিমিটার, শায়েস্তাগঞ্জ পয়েন্টে ১১১ সেন্টিমিটার এবং মাছুলিয়া পয়েন্টে ১৯০ সেন্টিমিটার বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার ৩৪টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্ধ রয়েছে স্থলবন্দরের কার্যক্রম। স্থলবন্দরের আশপাশের ৫টি ইউনিয়নের অন্তত ৩৪টি গ্রামের ৫২০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানির তোড়ে একটি অস্থায়ী বেইলি সেতু তলিয়ে যাওয়ায় আখাউড়া-আগরতলা সড়কে বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। এ ছাড়া ব্যাহত হচ্ছে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম। স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্র জানায়, বুধবার সকাল থেকে বন্দরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খাল দিয়ে ভারত থেকে তীব্র বেগে পানি ঢুকতে থাকে। এক পর্যায়ে স্থলবন্দর, বাউতলা, বীরচন্দ্রপুর, কালিকাপুর, বঙ্গেরচর, সাহেবনগরসহ ৫টি ইউনিয়নের অন্তত ৩৪টি গ্রামে পানি ঢুকে পড়ে। এর আগে মঙ্গলবার খলাপাড়া এলাকায় হাওড়া নদীর বাঁধের কিছু অংশ ভেঙে পানি ঢুকতে শুরু করে। ইউএনও গাজালা পারভীন জানান, প্রায় ৩৪টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে ৫২০টি পরিবার।

নোয়াখালী : জেলার ৯টি উপজেলায় জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে জেলার অনেক এলাকা নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে। এদিকে নোয়াখালীতে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত জেলা আবহাওয়া অফিস রেকর্ড করেছে। এর মধ্যে ৯টি উপজেলার ২০ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। গ্রামীণ সব সড়ক, ফসলি মাঠ তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে পুকুর ও খামারের মাছ। নোয়াখালী পৌরসভার বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, ইতিমধ্যে বিভিন্ন অবৈধ বাঁধ কেটে পানি স্বাভাবিক করার কাজ শুরু হয়েছে। এ ছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য উপজেলা পর্যায়ের সব মাধ্যমিক, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসাসহ অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

রাঙামাটি : কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাতে বাঘাইছড়ি-খাগড়াছড়ি সড়ক ডুবে সাজেকের সঙ্গে সারা দেশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে মেঘের রাজ্য সাজেক ভ্যালিতে আটকে পড়েছে আড়াই শতাধিক পর্যটক। পাহাড়ি অধিবাসীদেরও পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। টানা ভারী বৃষ্টিপাতে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রাঙামাটি-বান্দরবান সংযোগ সড়কের ৭টি পয়েন্টে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে।

বাঘাইছড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শিরীন আক্তার বলেন, সাজেক সড়কটি ডুবে যাওয়ায় কম-বেশি আড়াই শতাধিক পর্যটক আটকে আছে। ভারী বর্ষণে কাচালং নদীর পানি বেড়ে বাঘাইছড়িতে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৫৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ১৬ শতাধিক মানুষকে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছি। সক্ষমতা আছে, সব লোককে আশ্রয় নিশ্চিত করব। পানি না কমলে পর্যটকদের উদ্ধার সম্ভব নয় বলে যোগ করেন এ কর্মকর্তা।

মৌলভীবাজার : অতি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার কুলাউড়ায় মনু ও কমলগঞ্জের ধলাই নদীর বিভিন্ন স্থানে বাঁধ ভেঙে কয়েকটি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম প্রবাহিত হচ্ছে এবং মনু ও ধলাই নদীর বেশ কয়েকটি বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এগুলো ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও, জয়চণ্ডী, সদর, রাউৎগাঁও ও পৃথিমপাশা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সহস্রাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। সড়কপথেও অনেক গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পানিবন্দিদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন জানান, উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নে পানি প্রবেশ করেছে। এতে বিভিন্ন এলাকায় সহস্রাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, ভারতের ত্রিপুরা থেকে পানি ছেড়ে দেওয়ায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃষ্টি কমে গেলে পানি নেমে যাবে। এ ছাড়া যেসব স্থানে বাঁধ ভেঙেছে সেগুলোতে কাজ চলছে বলে তিনি জানান।

চাঁদপুর : টানা গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে চাঁদপুরে পদ্মা-মেঘনা নদীর পানি কিছুটা বেড়েছে। গতকাল রাত ১২টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে ৭১ মিলিমিটার। বৃষ্টির কারণে জনজীবন অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে এবং চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের ভেতরে বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। বুধবার দুপুরে চাঁদপুর আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক শাহ মো. শোয়েব বলেন, মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৭১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। টানা বৃষ্টিপাতের কারণে চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের ভেতরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে সড়ক, মাছের ঘের ও বসতবাড়িতে পানি উঠেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বহু পরিবার। সুত্র:সময়ের আলো

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন :