
অনলাইন ডেস্ক:দীর্ঘদিন পর আজ বসছে মন্ত্রিসভার বৈঠক। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বেলা ১১টায় অনুষ্ঠেয় বৈঠকে সম্প্রতি দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, ছাত্রদের কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে ঢাকাসহ সারা দেশে যে ধরনের তাণ্ডব চালানো হয়েছে তার মূল উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো কারা ধ্বংসস্তূপে পরিণত করল, কাদের প্ররোচনায় দেশে এত মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হলো-বিষয়গুলো এখন সরকারের প্রধান বিবেচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়গুলো খোলাসা করতে পারেন। সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ধ্বংসস্তূপ স্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি গুরুতর আহতদের নিজ চোখে দেখতে যান। সেখানকার করুণ দৃশ্য প্রধানমন্ত্রীকে বেশ কষ্ট দিয়েছে। সব কিছু তিনি মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে শেয়ার করবেন। কোন প্রেক্ষাপটে কারফিউ দিয়েছেন তা বৈঠকে তুলে ধরতে পারেন। সহিংসতার পর দেশের অর্থনীতি চালু রাখার ব্যাপারে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এমনকি সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। অর্থাৎ দেশের ক্রান্তিকালে তিনি যে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তা অবহিত করতে পারেন। আগামী দিনের কার্যক্রম নিয়েও আগাম কিছু নির্দেশনা দিতে পারেন। শুধু তাই নয়, এ ধরনের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারের বেশ কিছু পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে মন্ত্রিসভা বৈঠকে নির্দিষ্ট মোট ৯টি এজেন্ডা আলোচনা হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র। এর মধ্যে ৬টি বিষয় রয়েছে চুক্তি ও প্রধানমন্ত্রীর সফর সম্পর্কে অবহিতকরণ। একটি মাত্র রয়েছে আইন চূড়ান্ত অনুমোদন। বৈঠকে প্রথম যে বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে তা হলো, বিগত মন্ত্রিসভা বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়। অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় যেসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে তার বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। তবে বাস্তবায়নের হার বেশ সন্তোষজনক বলে জানিয়েছে সূত্র।
বৈঠকে মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন। এ ছাড়াও গত ২২ এপ্রিল থেকে ২৬ এপ্রিল ব্যাংককে অনুষ্ঠিত এসকাপের ৮০তম বার্ষিক অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ সম্পর্কে অবহিত করা হবে। গত ২৪ থেকে ২৯ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর থাইল্যান্ড সফর, ৮ থেকে ১০ জুন ভারতের নবনির্বাচিত সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর সম্পর্কে অবহিত করা হবে। এ ছাড়া ২১ ও ২২ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর সম্পর্কেও মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হবে।
চুক্তি সম্পর্কিত যে বিষয়গুলো মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে এর একটি হচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরের জন্য দ্বিপক্ষীয় বিমান চলাচল চুক্তির খসড়া অনুমোদন। বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘এগ্রিমেন্ট ফর কো-অপারেশন ইন দি লিগ্যাল ফিল্ড’ শীর্ষক চুক্তি অনুসমর্থন প্রস্তাব অনুমোদন। এ ছাড়াও সুরক্ষা বিভাগের অফিসিয়াল পাসপোর্ট শীর্ষক থাইল্যাল্ড ও বাংলাদেশের মধ্যে চুক্তি অনুসর্মথনের প্রস্তাব অনুমোদন। সুত্র:সময়ের আলো
Leave a Reply