
অনলাইন ডেস্ক: জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নয় বছর ও তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানের তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২ আগস্ট) ঢাকার সিনিয়র মহানগর স্পেশাল জজ মো. আছাদুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তারেক রহমানকে ৩ কোটি টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাস এবং জোবায়দা রহমানকে ৪৫ লাখ অনাদায়ে আরও ১ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এর আগে ২৭ জুলাই দুদকের পিপি মোশারফ হোসেন কাজল যুক্তি উপস্থান করেন। এসময় তিনি আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করেন। মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানের বিরুদ্ধে মামলায় আমরা সব অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছি। আমরা যুক্তি উপস্থাপন শেষে পৃথক দুই ধারায় তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি ১৩ বছরের কারাদণ্ড প্রত্যাশা করছি।
এদিকে তারেক রহমান ও জোবায়দা রহমান পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে আইনি লড়াই করতে পারেননি আইনজীবীরা। তবে প্রতিটি ধার্য তারিখে আদালতে উপস্থিত হন তাদের নিয়োজিত আগের আইনজীবী। তাদেরই একজন জাকির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, তারেক রহমান সরকারের নির্বাহী আদেশে দেশের বাইরে চিকিৎসার জন্য যান। তার সাথে যান স্ত্রী জোবায়দা রহমানও। তাদের মামলায় পলাতক দেখানো হয়েছে। তাদের পক্ষে ডিপেন্ড করার সুযোগ ছিল না। তবে, আমরা দেখেছি, ১৯৮২ সালের ঘটনা নিয়ে এ মামলা। মামলাটির অভিযোগ মিথ্যা। ১ টাকাও কেউ তছরুপ করেনি। কোনোরকম দুর্নীতি হয়নি। এ মামলায় আসামি ছিল তিনজন। তারেক রহমানের স্ত্রী হওয়ার কারণে জোবায়দা রহমানকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। মামলায় জোবায়দা রহমানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। মামলায় জোবায়দা রহমান এবং তার মা সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুকে সুপ্রিম কোর্ট খালাস দিয়েছেন। তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা কারণে রাজনৈতিকভাবে তড়িঘড়ি করে মামলার রায় দেওয়ার প্ল্যান করছে সরকার। আমরা এখানে ন্যায়বিচার আশা করি না।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ঘোষিত আয়ের বাইরে ৪ কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬১ টাকার মালিক হওয়া এবং সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কাফরুল থানায় এ মামলা করে দুদক। মামলায় তারেক রহমান, জোবায়দা রহমান ও তার মা অর্থাৎ তারেক রহমানের শাশুড়ি ইকবাল মান্দ বানুকে আসামি করা হয়। ২০০৮ সালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক তৌফিকুল ইসলাম দুই জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তারেকের শাশুড়ি ইকবাল মান্দ বানুকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। গত ১৩ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।মামলাটিতে অভিযোগপত্রভুক্ত ৫৬ সাক্ষীর মধ্যে ৪৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।
Leave a Reply