1. shahjahanbiswas74@gmail.com : Shahjahan Biswas : Shahjahan Biswas
  2. ssexpressit@gmail.com : sonarbanglanews :
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
মার্কিন অবরোধ উপেক্ষা করে দ্বিতীয় একটি সুপারট্যাংকার পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী বৈঠক পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে শিবালয়ে মোবাইল কোর্ট ১২হাজার টাকা জরিমানা ২জন আটক ৫ মোটরসাইকেল জব্দ মানিকগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হলেন শিবালয় থানার ওসি মো.মনির হোসেন পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আরিচা যমুনার তীরে ঘুড়ি উৎসব নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে শিবালয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন  নববর্ষ উপলক্ষে আরিচা যমুনা নদীর তীরে ৭ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঘুড়ি উৎসব শিবালয়ে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ উদ্বোধন ও আলোচনা সভা শিবালয়ে আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া সংসদের কমিটি গঠন শিবালয়ের যমুনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দ্বন্ধে গুলিতে নিহত ১, আহত ১

একুশের একাত্তর : বাংলায় যত্ন বাড়ানোর প্রত্যয়

  • সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩
  • ২১৭ বার পড়েছেন

অনলাইন ডেস্ক: একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গতকাল ঢল নেমেছিল সর্বস্তরের মানুষের। একুশে ফেব্রুয়ারির একাত্তর বছর পূর্তির এই দিন সবার কণ্ঠে ঝরেছে বাংলা বর্ণমালার প্রতি অমিত ভালোবাসার আবেগস্নাত উচ্চারণ। রফিক, জব্বার, সালামসহ অগণিত শহিদের রক্তস্নাত বাংলা বর্ণমালাতেই সবার কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে বাংলা ভাষার প্রতি যত্ন বাড়ানোর প্রত্যয়। দিবসের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণ করেন। এরপর দুপুর ২টা পর্যন্ত বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান ও বিদেশি নাগরিকসহ সর্বস্তরের মানুষ শহিদ মিনারের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।

খালি পায়ে ফুলেল ভালোবাসায় ভাষাশহিদদের স্মরণ করতে শিশু, বৃদ্ধ, বণিতা থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণী সবাই সারিবদ্ধ হয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। সবার কণ্ঠে ঝরেছে বাংলা ভাষার প্রতি গভীর মমত্ববোধ। প্রায় সবার পরনেই ছিল কালো পোশাক, হাতে হাতে রাঙা ফুল আর কণ্ঠে সেই গান‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি।’

২১ ফেব্রুয়ারি প্রথম প্রহর থেকে মঙ্গলবার সূর্য ডোবা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের চিত্র এটি। এদিন সব মত ও পথ এসে যেন মিলেছিল শহিদ মিনারে। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারসহ দেশের সব শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন আর নানা আয়োজনে ভাষাশহিদ ও সংগ্রামীদের স্মরণ করেছে পুরো দেশ। রং তুলি হাতে শহিদ মিনারের বিভিন্ন পয়েন্টে আলপনা এঁকে দেওয়ার জন্য শিল্পীদের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। তাদের কারও মুখে, হাতে দেখা গেছে অমর ২১, বাংলা বর্ণ এবং শহিদ মিনারের অবয়ব। কচিকাঁচাদের মুখে অমর একুশে কিংবা বাংলা বর্ণমালার ছাপ যেন রফিক, শফিক, সালাম আর বরকতদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছে নতুন রূপে।

বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে শহিদ মিনারে সকালে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আফরোজ তাসনিম চৌধুরী। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, বাংলা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি পেলেও নিজ দেশেই বাংলা আজ উপেক্ষিত। দুঃখের বিষয় আজও দেশের সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন নিশ্চিত করা হয়নি। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্দ্বিধায় ব্যবহার হচ্ছে ইংরেজি। তাসনিমের বন্ধু দর্শনের শিক্ষার্থী রাফসান মেহেদির মতে, ইংরেজির প্রভাবে বাংলা অনেকটা কোণঠাঁসা হয়ে পড়েছে। ইংরেজি বলে সবাই নিজেকে স্মার্ট করতে চাচ্ছে। ইংরেজি রপ্তের যুদ্ধে রীতিমতো প্রতিযোগিতায় নেমেছে সবাই।

শুধু ফেব্রুয়ারি মাসেই বাংলার প্রতি আবেগ-ভালোবাসা বাড়িয়ে দেওয়া হয় বলে মনে করেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সবুর মোহাম্মদ। তিনি বলেন, এক দিনে তো আর বাংলার প্রতি ভালোবাসাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া যাবে না। সবাইকে আন্তরিক হতে হবে। যত কিছু বলুন না কেন, বাংলার বাইরে তো কিছু নেই। কোথাও এত স্বাদ পাবেন না। এ জন্যই তো কবি রামনিধি গুপ্ত বলে গেছেন, ‘নানান দেশের নানান ভাষা। বিনে স্বদেশীয় ভাষা, পুরে কি আশা।’

একজন বাঙালি হিসেবে, ভাষাশহিদদের ত্যাগকে সম্মান জানাতে নিজ ভাষার প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি করতে হবে। সে জন্য জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার সঠিক ব্যবহার ও প্রচলন করতে হবে। সাভার থেকে আসা তরুণ মোহতারিম সাদ জানান, সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলনের অনুশীলন করতে হবে। ঘরে-বাইরে সবখানে বাংলার গুরুত্ব ও চর্চা বাড়াতে হবে। কেননা জন্মের পরই মায়ের কোলে বাংলা শিখেছি। ইংরেজি তো বহু পরে।

শহিদ মিনারে বড়দের হাত ধরে এসেছিল শিশুরাও। অনেক স্কুল থেকেও খুদে শিক্ষার্থীরা হাজির হয়েছিল ব্যানার নিয়ে। বাবার হাত ধরে এই প্রথমবার শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসে সাত বছরের আরিয়ান খান। সে বলে, বাংলা ভাষার জন্য সালাম, শহীদ, বরকতসহ অনেকে রক্ত দিয়েছেন। তাদের অবদানের জন্যই তো বাংলা ভাষায় কথা বলছি। তাদের শ্রদ্ধা জানাতে ফুল দিয়েছি শহিদ মিনারে। মুখে আলপনা এঁকেছি। বিকালে বইমেলায় যাব।

তার বাবা আজিজুল খান বলেন, পৃথিবীতে কেউ ভাষার জন্য রক্ত দেয়নি। তাই আমাদের জন্য একুশে ফেব্রুয়ারি একদিকে শোকের অন্যদিকে গর্বের। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমরা বাংলা ভাষাকে বিকৃতভাবে উচ্চারণ করছি। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে বিশ্বের অন্যান্য ভাষারও গুরুত্ব রয়েছে। তবে তা বাংলাকে উপেক্ষা করে নয়। আর তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী খয়লাং মারমা নিজেদের গোষ্ঠীর ভাষায় লিখতে না পারায় আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের নিজস্ব ভাষায় যদি লিখতে না পারি; তাহলে একদিন তা বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

তাই রাষ্ট্রের কাছে আমাদের দাবি এই বিষয়ে তদারক করার জন্য। আর আমাদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য। কলকাতা থেকে আসা কৃষ্ণা ভট্টাচার্য বলেন, ছোটবেলা থেকে মায়ের কাছ থেকে ভাষার ইতিহাস ও গল্প শুনছি। তখন থেকেই ইচ্ছে ছিল বাংলাদেশে আসব। আজ সেই দৃশ্য দেখে, উপলব্ধি করে, সেই ইচ্ছে পূরণ হয়েছে। কাঁটাতারের সীমান্ত ছাড়া বাংলা ও কলকাতার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, উচ্চ আদালতের সব রায় বাংলায় অনুবাদ করা হবে।

সকালে সহকর্মীদের সঙ্গে প্রভাতফেরিতে যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ভাষার উন্নয়ন ঘটানো জরুরি, ভাষার বিকৃতিরোধ এবং প্রমিত ভাষার ব্যবহার সবকিছুই মূলত বিশ্ব দরবারে বাংলা ভাষাকে সমাদৃত করবে। আন্তর্জাতিকভাবে এই ভাষার স্বীকৃতি আমাদের আরাধ্য। সে বিষয়টি তখন অর্জিত হবে, যখন বাংলা ভাষায় বিভিন্ন ধরনের সাহিত্যকর্ম সৃষ্টি হবে এবং সেটি অন্য ভাষায় রূপান্তরের মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে উপস্থাপিত হবে।

আর সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলনের নির্দেশনা ও তার প্রয়োগ কার্যকর হয়নি বলে মন্তব্য করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল। তিনি সময়ের আলোকে বলেন, সবখানে বাংলা ভাষা প্রচলনে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে। উচ্চশিক্ষায় বাংলার ব্যবহার জোরদার করতে হবে। বাংলা নিয়ে সরকারের বাধ্যবাধকতা থাকতে হবে। এটা বড় চ্যালেঞ্জ।

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন :