
শাহজাহান বিশ্বাস:“সম্প্রীতির আলোয় বন্ধনের গান,শতদল বৈশাখী ঘুড়ি উৎসবে এক হোক প্রাণ” এই শ্লোগানকে ধারণ করে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে মানিকগঞ্জের শিবালয়ের আরিচা ঘাটের যমুনা নদীর তীরে দীর্ঘ ৭ বছর পর অনুষ্টিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি উৎসব ও বৈশাখী মেলা। ২০০৯ সাল থেকে ’শতদল’ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠণ এই ঘুরি উৎসবের আয়োজন করে আসছে।কিন্তু করোনার মতো প্রাকৃতিক সমস্যাসহ সামাজিক ও রাজনৈকিত অবস্থা অনুকুলে না থাকায় বিগত ৭ বছর শিবালয় ও আরিচা ঘাটের মানুষের প্রাণের এই উৎসব বন্ধ ছিল।চলতি বছর রাজনৈতিক, সামাজিক ও সার্বিক অবস্থা অনুকুলে থাকায় বাংলার পুরাতন এই সাংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এবার ঘুড়ি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে আরিচা ঘাটের যমুনা নদীর তীরে ’শতদল’ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠণ এ ঘুড়ি উৎসবের আয়োজন করে।
ঘুড়ি উৎসবের উদ্বোধন করবেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্যের সহ-ধর্মিনী সায়লা কবীর।

উক্ত অনুষ্ঠানে শিবালয় উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মো.মিজানুর রহমান লিটনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিষা রানী কর্মকার, শিবালয় থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো.মানির হোসেন, শিবালয় উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি রহমত আলী লাভলু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন, উপজেলা সেচ্ছা সেবক দলের আহবায়ক মো. শহিদুল ইসলাম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
এ ঘুড়ি উৎসবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শিশু, নারী, পুরুষ, যুবক,যুবতিসহ হাজার হাজার দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে যমুনা নদীর তীরে।এ যেন সকল বয়সী মানুষের এক মহা মিলনমেলায় পরিণত হয়।
এই ঘুড়ি উৎসব সুষ্ঠভাবে পরিচালনার জন্য শিবালয় থানা প্রশাসন ও শিবালয় বন্দর ব্যাবসায়ী সমিতি ও শিবালয় মডেল ইউনিয়ন পরিষদসহ সকলের সহযোগীতা কামনা করছেন ’শতদলের’ সদস্য শিক্ষক মো. সৈকত মাহমুদ। এ ঘুড়ি উৎসবে কইরা, ডোল, ড্রাগন, পতেঙ্গা, চিলাসহ রং বেরংয়ের নানা রকম ঘুড়ি আকাশে উড়তে দেখা যায়। এছাড়া বিভিন্ন খাদ্য দ্রব্যে ও খেলানার দোকান বসে এ মেলায়।
এছাড়াও শিবালয় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে উপজেলায় সকালে ভর্তা ও ভাঝি মাছ দিয়ে পান্তা ভাত, র্যালী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ১ লা বৈশাখ উদযাপন করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের সকল অফিসার ও আমন্ত্রিত অথিতিদের নিয়ে এক বিশাল বৈশাখী রেলী শেষে উপজেলা হলরুমে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপজেলার স্থানীয় শিল্পিবৃন্দ নিত্য ও গান পরিবেশন করেন।
Leave a Reply