
শাহজাহান বিশ্বাস: নাব্যতা সংকট এবং চলমান ড্রেজিংয়ের কারণে আগামী দুই দিনের জন্য সাময়িক ফেরি সার্ভিস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফেরি কর্তৃপক্ষ।এসময় যানবাহন শ্রমিকদেরকে বিকল্প রুট ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে তিন মাসের বেশী সময় ধরে ৬টি ড্রেজার দিয়ে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেজিং করেও ঠিক রাখা গেলনা ফেরি সার্ভিস।নাব্যতা সংকট এতোই প্রকোট যে, অবশেষে বাধ্য হয়ে শুক্রবার রাত ১১টা থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে ফেরি সার্ভিস।এ সংকট কাটিয়ে না উঠা পর্যন্ত ফেরি চলাচল সাময়িক বন্ধ থাকবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।এর আগেও একটানা ৩৭ ঘন্টা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। এরপর খুড়িয়ে খুড়িয়ে কোনমতে চালু রাখা হয় ফেরি সার্ভিস।চারদিন যেতে না যেতেই আবার ফেরি চলাচল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হলো বিআইডব্লিউটিসি।কারণ নাব্যতা সংকটের কারণে অনেক ঝুকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে উক্ত নৌরুট।দুর্ঘটনা এড়াতেই ফেরি সার্ভিস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে একদিকে ড্রেজিংয়ের নামে রাষ্টের কেটি কোটি টাকা গচ্ছা যাচ্ছে। অপরদিকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে এ নৌ-রুটে ফেরিতে চলাচলকারী যাত্রী ও যানবাহন শ্রমিকদেরকে।
জানা গেছে,বিগত কয়েকদিন ধরেই নাব্যতা সংকটের কারণে উক্ত নৌরুটের আরিচা ঘাটের অদুরে ডুবোচরে ফেরি আটকে যাচ্ছিল। স্বাভাবিকভাবে ফেরি চলাচলের জন্য ৯/১০ ফুট পানির গভীরতার প্রয়োজন হয়। সেখানে এ নৌরুটের আরিচা অদুরে পানির গভীরতা রয়েছে কোথাও ৬/৭ফুট, চ্যানেলের প্রস্থতাও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। এমতাবস্থায় হাফ লোড নিয়ে অনেক ঝুকি পূর্ণ অবস্থায় ফেরি সার্ভিস চালু রাখা হয়। কিন্তু নদীতে দ্রুত পানি হ্রাস অব্যাহত থাকায় চ্যানেলটি আরো সুরু হয়ে পড়ে। ৬টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে খনন কাজ করেও নাব্য ঠিক রাখা যাচ্ছে না। ডুবোচরে ধাক্কা খেয়ে খেয়ে ফেরি চলাচল করায় একেবারেই ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়ে ফেরি সার্ভিস।এতে গত শুক্রবার(৮ নভেম্বর) নাব্যতা সংকট প্রকোট আকার ধারণ করছে। উক্ত নৌ-চ্যানেলটি ফেরি চলাচলের জন্য একেইবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়লে শুক্রবার রাত ১১টার পর থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।পাশাপাশি ফেরি পার হওয়ার জন্য ঘাটে আসা যানবাহন শ্রমিকদেরকে ভিন্ন রাস্তা ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।এর পূর্বেও গত ১ নভেম্বর শুক্রবার রাতা ১০টা থেকে ৩ নভেম্বর রবিবার বেলা ১১টা পযর্ন্ত এক টানা ৩৭ ঘন্টা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল।
দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে সহজ এবং আরামদায়ক যোগাযোগেরর অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে আরিচা-কাজিরহাট নৌরুট। যে কারণে এ নৌরুট চালু হবার পর থেকে দিন দিন এর গুরুত্ব অনেকটা বেড়েছে।বিধায় বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগ ৬ টি ড্রেজার দিয়ে গত ২৮ জুলাই থেকে কোটি কোটি টাকা খরচ বরে ৩ মাসের বেশী সময় ধরে খনন করেও ঠিক রাখতে পারছে না উক্ত নৌচ্যানেলটি।
আটকে পড়া ট্রাক চালক হামিদ আলী জানান, সে নারায়নগঞ্জ থেকে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় আরিচা ঘাটে আসেন,যাবেন রাজশাহী।শনিবার সকাল সাড়ে ১১টা পযর্ন্ত তিনি আরিচা ঘাটেই ফেরি পারের অপেক্ষায় রয়েছেন। ফেরি বন্ধ থাকায় এখন তিনি বিকল্প পথে যাওয়ার চিন্তা করছেন বলে তিনি জানান।ফেরিতে নদী পারাপারে একটু রেস্ট পাওয়া যায় এবং আরামদায়ক ও সহজে যাতয়াত করা যায় বলে আমরা এ রুটটি ব্যবহার করি।কিন্তু উক্ত নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ হওয়ায় তাদের অনেক কষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন ওই ট্রাক চালক।
বিআইডব্লিউটিসি’র আরিচা ঘাটের ম্যানেজার আবু আব্দুল্লাহ বলেন, নাব্যতা সংকটের কারণে শুক্রবার দিবাগত রাত ১১টা থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। চ্যানেলের অবস্থা ভাল না হওয়া পর্যন্ত ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে।এসময় গাড়ি চালকদেরকে বিকল্প পথ ব্যবহারের জন্য বলা হচ্ছে।
Leave a Reply