1. shahjahanbiswas74@gmail.com : Shahjahan Biswas : Shahjahan Biswas
  2. ssexpressit@gmail.com : sonarbanglanews :
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
মার্কিন অবরোধ উপেক্ষা করে দ্বিতীয় একটি সুপারট্যাংকার পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী বৈঠক পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে শিবালয়ে মোবাইল কোর্ট ১২হাজার টাকা জরিমানা ২জন আটক ৫ মোটরসাইকেল জব্দ মানিকগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হলেন শিবালয় থানার ওসি মো.মনির হোসেন পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আরিচা যমুনার তীরে ঘুড়ি উৎসব নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে শিবালয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন  নববর্ষ উপলক্ষে আরিচা যমুনা নদীর তীরে ৭ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঘুড়ি উৎসব শিবালয়ে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ উদ্বোধন ও আলোচনা সভা শিবালয়ে আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া সংসদের কমিটি গঠন শিবালয়ের যমুনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দ্বন্ধে গুলিতে নিহত ১, আহত ১

অবশেষে মুরগির বাজারে গোয়েন্দা

  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ, ২০২৩
  • ২৬৯ বার পড়েছেন

অনলাইন ডেস্ক: বাজার চলছে ব্যবসায়ীদের অঙ্গুলি হেলনের মধ্য দিয়ে। যখন দাম বাড়ানোর ইশারা দেন, তখন বেড়ে যায়। আবার যখন কমানোর ইশারা দেন তখন দাম কমে যায়। এর চাক্ষুস প্রমাণ মিলল মুরগির বাজারে। গত ২৩ মার্চ পর্যন্ত সারা দেশে মুরগির বাজার ছিল টালমাটাল। খামার পর্যায়ে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ২৩০-২৪০ টাকা, খুচরায় ছিল ২৮০-৩০০ টাকা। সেদিন ভোক্তা অধিদফতরের বৈঠকে চার করপোরেট প্রতিষ্ঠানের মালিকরা মিলে ঘোষণা দেন পরের দিন থেকে খামার পর্যায়ে ১৯০-১৯৫ টাকায় বিক্রি হবে ব্রয়লার মুরগি। এক ঘোষণাতেই কমতে শুরু করে মুরগির দাম। চার দিনের মাথায় সোমবার খামার পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকায়, আর খুচরাতে ব্রয়লারের কেজি নেমেছে ১৯০-২০০ টাকায়। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এই একটি ঘটনাতেই পরিষ্কার হয়ে গেল- বাজার চলছে ব্যবসায়ীদের অপকৌশলে, তাদের মর্জি-মাফিক। তাদের এই অপকৌশল রোধে মুরগির বাজারে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু হয়েছে বলে ভোক্তা অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে। এদিকে গতকাল সোমবার জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক এএইচএম শফিকুজ্জামান গণমাধ্যমে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় যে তথ্য দিয়েছে সেটি আরও ভয়ানক। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘যে মুরগি ফার্ম থেকে চার দিন আগে ২২০-২৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেটি আজ তারা ১৬০ টাকায় বিক্রি কীভাবে করে। তা হলে এই ৭০-৮০ টাকার যে গ্যাপ এটি কি তারা জনগণের পকেট থেকে তুলে নিয়ে গেছে? আমাদের প্রান্তিক চাষিদের কিন্তু তা হলে লস দিয়ে বিক্রি করতে হবে যেহেতু ফিডের দাম বেশি। আমাদের ক্ষুদ্র খামারিরা বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হবে। আমরা এই বিষয়টি দেখছি। আমি ইতিমধ্যে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাকে বিষয়টি তদারকির অনুরোধ করেছি, কথা বলেছি তাদের সঙ্গে।’

মুরগির বাজারের মতোই একইভাবে সিন্ডিকেট সব ধরনের ভোগ্যপণ্যেরই দাম বাড়ায় ব্যবসায়ীরা। রোজার আগ দিয়ে সিন্ডিকেট করে গরুর মাংসের কেজি ৮০০ টাকায় ঠেকায়। অথচ গত শবে বরাতের আগ দিয়েও প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৬৮০-৭০০ টাকা। এভাবে অপকৌশল করে গরুর মাংসের দাম ৮০০ টাকায় ঠেকিয়ে এখন ৭৫০ টাকায় বিক্রি করছেন। মাংস ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকেই এখন বলা হচ্ছে ৮০০ টাকা থেকে ৫০ টাকা কমিয়ে ৭৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। মাংসের দাম তো কমানো হয়েছে। আসলে তারা অপকৌশল করে দাম বাড়িয়ে গরুর মাংসের কেজি এখন ৭৫০ টাকা প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছে। এর আগে ভোজ্য তেল, চিনির বাজারেও একই কায়দায়, একই অপকৌশল করে প্রথমে দাম বাড়ানোর পর, কিছুটা কমিয়ে সে দামই প্রতিষ্ঠিত করে ফেলে। এভাবেই সব ধরনের পণ্যের বাজারে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে বাড়িয়ে অর্থ লুট করছেন বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

এ বিষয়ে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি গোলাম রহমান সময়ের আলোকে বলেন, ‘দেশের বাজার সিন্ডিকেট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বাজার আসলে চলছে ব্যবসায়ীদের মন-মর্জির ওপর। তারা যখন ইচ্ছে করে দাম বাড়ায়, আবার যখন ইচ্ছে করে দাম কমায়। এভাবে তো আর বাজার চলতে পারে না। সরকারি সংস্থাগুলো চেষ্টা করছে, কিন্তু তাদের প্রচেষ্টায় অনেক ঘাটতি আছে। আসলে সরকারি সংস্থাগুলো যদি চায় তা হলে ব্যবসায়ীরা ঠিকমতোই ব্যবসা করতে বাধ্য। কারণ সরকারের চেয়ে শক্তিশালী তো আর কেউ নেই।’

এদিকে ক্ষুদ্র খামারিদের সংগঠন বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) পক্ষ থেকেও একই ধরনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। সংগঠনটি তথ্য-প্রমাণসহ জানিয়েছে ব্রয়লার মুরগি ও এক দিনের বাচ্চার দাম সিন্ডিকেট করে ৫২ দিনে করপোরেট কোম্পানিগুলোর পোল্ট্রি মাফিয়া চক্র ৯৩৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। জানুয়ারির ৩১ থেকে ২৩ মার্চ- এই ৫২ দিনে ব্রয়লার মুরগি থেকে ৬২৪ কোটি টাকা এবং এক দিনের বাচ্চায় লুট করা হয়েছে ৩১২ কোটি টাকা।

বিপিএ সভাপতি সুমন হাওলাদার বলেন, করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো যে অপকৌশল করে এ খাত থেকে টাকা লুটে নিচ্ছে- সে বিষয়টি আমি দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি। কিন্তু সরকারি তদারকি না থাকায় এ খাতের হরিলুট ঠেকানো যাচ্ছে না। অবশেষে ভোক্তা অধিদফতর বিষয়টি আমলে নিয়েছে, গোয়েন্দা নামাচ্ছে। আমি মনে করি, এর মাধ্যমে পোল্ট্রি খাতের ওই সিন্ডিকেট এবার ভাঙবে।

পোল্ট্রি খাতে করপোরেটের লুটের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিদিন ব্রয়লার মুরগির চাহিদা ৩ হাজার ৫০০ টন। প্রান্তিক খামারিদের উৎপাদন খরচ আগে কম থাকলেও এখন ১ কেজি ১৬০-১৬৫ টাকা এবং করপোরেট কোম্পানিদের উৎপাদন খরচ ১৩০-১৪০ টাকা। পাইকারি পর্যায়ে বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ২৩০ টাকা পর্যন্ত। ২ হাজার টনে প্রতি কেজিতে যদি অতিরিক্ত ৬০ টাকা মুনাফা ধরা হয় তবে এক দিনে ৬ কোটি টাকা। জানুয়ারির ৩১ থেকে ২৩ মার্চ- ৫২ দিনে ৬২৪ কোটি টাকা হয় এবং এক দিনের মুরগির বাচ্চা প্রতিদিন উৎপাদন ২০ লাখ। একটি মুরগির বাচ্চা উৎপাদন খরচ ২৮-৩০ টাকা। যা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ১০-১৫ টাকা বিক্রয় হয়েছে। জানুয়ারির ৩১ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সেই বাচ্চা ৬২-৬৮ টাকা ম্যাসেজ করলেও বাচ্চা বিক্রয় হয়েছে ৮০-৮৫ টাকা। প্রতি বাচ্চায় ৩০ টাকা অতিরিক্ত মুনাফা ধরা হয়- তাহলে ৩১২ কোটি টাকা। প্রান্তিক খামারি উৎপাদনে না থাকায় এই সুযোগে পোল্ট্রি শিল্পের পুঁজিবাদী মাফিয়া চক্র হাতিয়ে নিল ৯৩৬ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে সুমন হাওলাদার বলেন, ব্রয়লার মুরগির অস্বাভাবিক দামের কারণ প্রান্তিক খামারি লস করতে করতে খামার বন্ধ করে উৎপাদন থেকে ছিটকে পড়েছে। ছোট ছোট খামারিদের ক্ষতির কারণ করপোরেট গ্রæপগুলোর স্বেচ্ছাচারিতা পোল্ট্রি ফিড ও মুরগির বাচ্চার দাম বাড়িয়ে দেয়, প্রান্তিক খামারি উৎপাদন করলে বাজারে দাম কমিয়ে দিয়ে লসে ফেলে দেয়, আবার উৎপাদনে না থাকলে ভোক্তাদের পকেট ফাঁকা করে দেয়। পোল্ট্রি ফিড ও মুরগির বাচ্চা ১০০ ভাগ উৎপাদন করে করপোরেট গ্রুপ তারাই আবার আংশিক ডিম ও মুরগি উৎপাদন করে এবং চুক্তিভিক্তিক খামার করেন, এতে করে বাজার তার দখলে চলে যাচ্ছে তার প্রমাণ বারবার বাজার সিন্ডিকেট। পোল্ট্রি ফিড ও মুরগির বাচ্চার দাম নিয়ন্ত্রণ এবং করপোরেট গ্রæপের মুরগি ডিম উৎপাদন বন্ধ করতে না পারলে কোনো দিন বাজার সিন্ডিকেট বন্ধ হবে না।

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন :