
অনলাইন ডেস্ক: পাঁচ বছর পর আজ ময়মনসিংহে সফরে যাচ্চেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার আগমন ঘিরে বর্ণিল সাজে সেজেছে ময়মনসিংহ। রং-বেরঙের ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড, প্ল্যাকার্ড আর আলোকসজ্জায় এখন ময়মনসিংহে উৎসবের আমেজ। সড়ক-মহাসড়ক ছাড়াও পুরো নগরীতে এমনকি অলিগলিতেও শোভা পাচ্ছে চোখ ধাঁধানো তোরণ। বঙ্গবন্ধুকন্যাকে স্বাগত জানিয়ে পোস্টার-ব্যানারে ময়মনসিংহকে সাজিয়ে তুলেছেন নেতাকর্মীরা। দেশের সরকারপ্রধানকে বরণ করে নিতেই ময়মনসিংহজুড়ে এ আয়োজন।
ময়মনসিংহ সফরকালে ১০৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পাশাপাশি জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত সার্কিট হাউস মাঠে জনসভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনার আগমনকে ঘিরে ইতিমধ্যে পৃথকভাবে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো বর্ধিত সভা করেছে। দলটির উদ্যোগে নগরীর প্রতিটি সড়কে দিন-রাত চলছে মাইকিং। এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে তার নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা দফায় দফায় বৈঠক করেছে। এ লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে সারাক্ষণ তৎপর রয়েছে জেলা পুলিশ, আর্মড ব্যাটালিয়ন পুলিশ, র্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা।
প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ছোট-বড় অসংখ্য তোরণ, বিলবোর্ড এবং ব্যানার-ফেস্টুন টাঙিয়েছেন দলটির নেতাকর্মী ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। নগরীর সড়কজুড়ে এসব তোরণ, বিলবোর্ড এবং ব্যানার-ফেস্টুন শোভা পাচ্ছে। দলটির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন দলের শীর্ষ নেতাকে বরণ করে নিতে।
শনিবার নগরীর সার্কিট হাউস ময়দানের ওই সমাবেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে ১০ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে ওই জনসভা স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জনসমুদ্রে পরিণত হবে বলে প্রত্যাশা আওয়ামী লীগ নেতাদের।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ইকরামুল হক টিটু বলেন, ময়মনসিংহবাসীর প্রত্যাশা পূরণে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক। ইতিমধ্যে তিনি ময়মনসিংহকে বিভাগসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নে বদলে দিয়েছেন। এ কৃতজ্ঞতা থেকেই দলের সভানেত্রীকে স্বাগত জানাতে আমরা সর্বোচ্চটুকু করছি। আশা করছি জনসভায় ১০ থেকে ১৫ লাখ লোকের সমাগম ঘটবে।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম জানান, নেত্রীর আগমনের খবরে উচ্ছ্বসিত গোটা ময়মনসিংহবাসী। এবারও নৌকার আদলে সমাবেশের মঞ্চ তৈরি হচ্ছে। মঞ্চের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। ময়মনসিংহে প্রধানমন্ত্রীর এ সমাবেশ স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জনসভাকে রূপ দিতে আমরা সব পর্যায়ের নেতারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছি।
জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজার রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে সব ধরনের প্রস্ততি সম্পন্ন করা হয়েছে। এ সফরে ৭৩টি উন্নয়ন প্রকল্প এবং ৩০টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি।
শেখ হাসিনার সমাবেশকে কেন্দ্র করে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভুঞা বলেন, নিরাপত্তায় প্রায় ৩ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়াও সাদা পোশাকের গোয়েন্দা তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে। জেলা পুলিশের পাশাপাশি বাইরের জেলা থেকেও পুলিশ আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশ মঞ্চের প্রথম সারিতে নিরাপত্তায় থাকবে এপিবিএন। গ্যাস সিলিন্ডারের যেসব দোকান রয়েছে সেগুলোতে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফর উপলক্ষে ময়মনসিংহ থেকে ৮টি রুটে বিশেষ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। জনসমাবেশে ময়মনসিংহ জেলায় যাতায়াতের জন্য গফরগাঁও-ময়মনসিংহ, নান্দাইল-ময়মনসিংহ, দেওয়ানগঞ্জ বাজার-জামালপুর-ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান-ময়মনসিংহ, গৌরীপুর-ময়মনসিংহ, ঈশ্বরগঞ্জ-ময়মনসিংহ, জারিয়া ঝাঞ্জাইল-ময়মনসিংহ রুটে ৮টি স্পেশাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
Leave a Reply