
অনলাইন ডেস্ক: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ষষ্ঠ সমাবর্তনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দলীয় রাজনীতির লেজুড়বৃত্তি পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপ্রতি ও বিশ্ব বিদ্যালয়ের আচার্য মো.আবদুল হামিদ।
শনিবার জাবির সমাবর্তনে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অপব্যবহার করে একটি শ্রেণির নিজেদের স্বার্থে নিয়োগ বাণিজ্য ও টেন্ডার বাণিজ্যে যুক্ত হওয়ার খবর প্রায়ই পত্রিকাতে দেখি। এ ধরনের কার্যক্রম ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকদের ভাবতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার থাকতে হবে। বিশ্ব বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়নে তরুণরাই চালিকাশক্তি। দেশকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়তে হলে তরুণ সমাজকে দায়িত্ব নিতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে নৈতিকতা মূল্যবোধ ও মানবিকতা বোধের চর্চা করতে হবে।
আমাদের ছাত্রছাত্রীরা মেধাবী। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তারা মেধার পরিচয় রাখছে। দেশকে এগিয়ে নিতে নিয়মিত গবেষণা দরকার। বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণায় জোর দিতে হবে। আজকের এই সমাবর্তনই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আমার শেষ সমাবর্তন। সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারী গ্র্যাজুয়েট এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের আমি অভিনন্দন জানাই।
জাতীয় সংগীত ও ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠের মধ্য দিয়ে সমাবর্তন অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর অনুষদের ডিন কর্তৃক গ্র্যাজুয়েটদের আচার্যের কাছে উপস্থাপন করা হয়। আচার্য গ্র্যাজুয়েটদের ডিগ্রি প্রদান করেন। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশ বলেন, প্রতিটি উদ্ভাবনের পেছনেই রয়েছে অসংখ্য ব্যর্থতা। চলার পথে জীবন সবসময় সূর্যের মতো দীপ্তমান হয় না। হতাশা আসতেই পারে। প্রচণ্ড সাহস নিয়ে কাজ করে এগিয়ে যেতে হবে। তোমাদের অল্পতেই হতাশ হলে চলবে না। পেশাগত জীবনের উৎকর্ষের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে কাজ করবে। ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে সামষ্টিক স্বার্থকে বড় করে দেখবে। মেহনতি কৃষক, শ্রমিক কিংবা গার্মেন্টস কর্মীর শ্রমের বিনিময়ে তোমাদের এই ডিগ্রি। তাদের সঙ্গে মিলে যেও। কর্মজীবনে অর্পিত দায়িত্বের প্রতি সততা ও ভালোবাসা থেকে মানুষের সেবা করবে।
তোমরাই মহান জাতির অগ্রসৈনিক। তোমাদের উদ্যম সাহস সৃষ্টিশীলতা জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
বিশ্ব বিদ্যালয়ের সব বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত ১৬ জন শিক্ষার্থীকে স্বর্ণপদক দেওয়া হয়। স্নাতক পর্যায়ে সর্বোচ্চ নম্বরের ভিত্তিতে ‘আসাদুল কবীর স্বর্ণপদক’ পেয়েছেন-মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের তানজিনা আক্তার, আইবিএর রাতুল কুমার সাহা, আইআইটির ফারিহা আফসানা, প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের উম্মে মাহফুজা শাপলা, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের মুমতারিন জান্নাত ঐশী, ভুগোল ও পরিবেশ বিভাগের জান্নাতুন হুসনা তুয়া, আইবিএর বিএম মুহিত সাঈফ ও গণিত বিভাগের মোছা. মারিয়ম সুলতানা।
স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ‘শরফুদ্দিন স্বর্ণপদক’ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন-অর্থনীতি বিভাগের ইসতিয়াক রায়হান শুভ, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শরিফুল ইসলাম ও শামীমা খাতুন, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের উর্মি দাস, ভুগোল ও পরিবেশ বিভাগের কামরুন নাহার, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের বদরুন্নাহান দীপা, পরিসংখ্যান বিভাগের মুহাম্মদ খায়রুল আলম।
এ ছাড়াও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ‘প্রফেসর মোফাসসিল উদ্দিন ট্রাস্টফান্ড স্বর্ণপদক ও পুস্তক পুরস্কার’ পেয়েছেন দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী সাথী আক্তার।
Leave a Reply