
অনলাইন ডেস্ক: ষড়ঋতুর দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ । এর মধ্যে বসন্ত ঋতুরাজ হিসেবে পরিচিত। আজ পহেলা ফাল্গুন। আজ পলাশের দিন। পহেলা ফাল্গুনের সঙ্গে যোগ হলো বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাই তো বসন্তে গেয়ে উঠেন-‘বসন্তের ফুল গাঁথলো ও আমার জয়ের মালা’। আবার বসন্তকে পেয়ে সুর তুলেছেন, ‘আজি এ বসন্তে এত ফুল ফোটে, এত পাখি গায়’।
আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। পাশ্চাত্যের ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ নামের এ দিবসের উৎপত্তি নিয়ে নানা জনের নানা মত। তবে ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে এ দিনের উদ্ভব হলেও এটি বিশ্বব্যাপী প্রথমদিকে তেমন প্রচার বা প্রসার লাভ করেনি। বর্তমানে এ দিবসের কদর প্রবলভাবে বেড়েছে। পাশ্চাত্যে উৎসব-মহাসমারোহে উদযাপন করা হয় দিবসটি। ভালোবাসা দিবসের জন্য মানুষ কার্ড, ফুল, চকোলেট ও অন্যান্য উপহার কেনে। প্রিয় মানুষকে উপহার দেয়।
এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই-দখিনা বাতাস জানিয়ে যায়, আজ বসন্ত জাগ্রত দ্বারে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে ফুলের বাজার রমরমা। গত কয়েক দিন আগে থেকে ফুলের বাজারে তেজীভাব। ফুলের গন্ধে ম ম করছে ফুলের বাজার।
ভালোবাসা দিবসে বেশি চাহিদা বেড়েছে গোলাপ ফুলের-বললেন শাহবাগের ফুল ব্যবসায়ী সোহেল রহমান। তিনি অনেক দিন ধরে ফুলের ব্যবসা করছেন। তবে তার মতে, এবার গোলাপ ফুলের জগতে রেকর্ড তৈরি করেছে। আর ব্যবসায়ী কাজল বলেন, ভাবতে অবাক লাগে এই উৎসবকে ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে ফুলের চাহিদা বেড়েছে। একটি গোলাপ ফুল বিক্রি হয়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। তবে এর পাশাপাশি রজনীগন্ধা, গ্লাডিওলাস, জারবারাসহ অন্যান্য ফুলের চাহিদাও বেড়েছে।
ভালোবাসা দিবসে যেমন ফুলের চাহিদা রয়েছে। এর পাশাপাশি মহান একুশে ফেব্রুয়ারি সামনে রেখে আরও চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে বলে জানান বাংলাদেশ ফুল ব্যবসায়ী সোসাইটির সভাপতি মো. আবদুর রহিম। তিনি বলেন, ভালোবাসা দিবসে এবার অন্য একটি ফুলের চাহিদা লক্ষ করার মতো, তাহলো ব্র্যান্ড তৈরি জিপসী ফুল, যা মেয়েরা মাথায় বাঁধে।
ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে শুধু ফুল বিক্রি হয়েছে কয়েক কোটি টাকার, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশি। ফুলের এত বাম্পার ব্যবসা হবে আগে কল্পনাও করেননি ফুল ব্যবসায়ীরা। মো. আবদুর রহিম জানান, এবার আবহাওয়া অনুকূল হওয়ায় ফুলের উৎপাদন বেড়েছে। আর ফুল চাষিরাও খুব খুশি। যশোরের গদাখালির ফুল চাষিরা মনে করছেন, ফুল উৎপাদনে এবার বিস্ফোরণ ঘটেছে, যা সবার মনে এক ধরনের আবেগ সৃষ্টি করেছে।
এদিকে ভালোবাসা দিবস ঘিরে অনেকে অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগের বছরে এক দিন আগেই পহেলা ফাল্গুন হয়ে যায়। পরদিন হয় ভালোবাসা দিবস। আজ যখন দুটোই একসঙ্গে হচ্ছে, এর স্বাদ আর আনন্দ সবার মনে এক ধরনের আমেজ সৃষ্টি করেছে।
বিভিন্ন অভিজাত রেস্তোরাঁ আর হোটেল বিভিন্ন আয়োজন রেখেছে ভালোবাসা দিবসে। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি সাংস্কৃতিক সংগঠন সকালে গানের আয়োজন করেছে। বসন্তকে বরণ করতে গত রাত থেকে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে জানা গেছে।
Leave a Reply