1. shahjahanbiswas74@gmail.com : Shahjahan Biswas : Shahjahan Biswas
  2. ssexpressit@gmail.com : sonarbanglanews :
রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
শিবালয়ে মাদক ব্যাবসায়ীসহ বিভিন্ন মামলায় ৭ জন আটক বর্ষা শুরুর আগেই নদী ভাঙন , চিন্তিত শিবালয়ের যমুনা পাড়ের মানুষ শিবালয়ে হেরোইনসহ আটক ১ শিবালয়ে সাংবাদিকের বাসায় মাদক ব্যাবসায়ীর হামলা মানিকগঞ্জে মাটি খেকোদের থাবা থেকে ফসলি জমি রক্ষায় কৃষকদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ  শিবালয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা, আটক ৩ মানিকগঞ্জে শেষ হলো ‘শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারী উন্নয়ন শীর্ষক সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা  মার্কিন অবরোধ উপেক্ষা করে দ্বিতীয় একটি সুপারট্যাংকার পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী বৈঠক পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে শিবালয়ে মোবাইল কোর্ট ১২হাজার টাকা জরিমানা ২জন আটক ৫ মোটরসাইকেল জব্দ

ইউরোপে বাংলাদেশি রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থী বাড়ছে

  • সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৩
  • ২৫২ বার পড়েছেন

অনলাইন ডেস্ক: ইউরোপে বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন ক্রমেই বাড়ছে। বৈশ্বিক অস্থিরতায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই ইউরোপের দেশগুলোতে রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার আবেদন বেড়েছে। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও এ হার ঊর্ধ্বগামী। ইউরোপের ২৭ দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন সর্বশেষ গত ২৩ মার্চ এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে যে, গত জানুয়ারিতে ইইউ দেশগুলোতে আশ্রয় পাওয়ার জন্য ৯২ হাজার আবেদন পড়েছে, যার মধ্যে ৩ হাজার ৪৭১ জন বাংলাদেশিও রয়েছে। গত ডিসেম্বর মাসেও সমপরিমাণ আশ্রয় আবেদন পড়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বৈশ্বিক এই সংস্থা জানিয়েছে, গত বছর ইইউভুক্ত দেশগুলোতে প্রায় ১০ লাখ রাজনৈতিক আশ্রয় আবেদন পড়েছিল, যা গত ২০১৬ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ। ওই বছর বাংলাদেশ থেকেও সর্বোচ্চ পর্যায়ের আশ্রয় আবেদনের তথ্য উল্লেখ করেছে ইইউ, যেখানে বাংলাদেশ সপ্তম স্তরে রয়েছে। গত বছর বাংলাদেশ থেকে ৩৩ হাজার ৭২৯ জন রাজনৈতিক আশ্রয় আবেদন করে, যা ২০০৮ সালের পর সর্বোচ্চ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরে কোভিড-১৯-এর প্রতিক্রিয়া, দেশে দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা, আদম ব্যবসায়ীদের নতুন নতুন কৌশলসহ একাধিক কারণে ইউরোপের দেশগুলোকে নিরাপদ মনে করায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সেখানে আশ্রয় পাওয়ার জন্য মানুষের আবেদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছতে পারে। তবে সামনে বিষয়টি ঠিক হয়ে যাবে।

ইইউ থেকে প্রকাশিত গত ২৩ মার্চ এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যে গত জানুয়ারিতে ইইউ দেশগুলোতে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার জন্য ৯২ হাজার আবেদন পড়েছে, যার মধ্যে ৩ হাজার ৪৭১ জন বাংলাদেশি রয়েছে।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে সংস্থাটি থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালে ইইউ দেশগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ৯ লাখ ৬৬ হাজার অভিবাসী রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করে। এই সংখ্যা গত বছরের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি এবং ৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের। এই আবেদনকারীদের মধ্যে প্রায় ৪৩ হাজার জনই অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক, যা ২০১৫ সালের পর সর্বোচ্চ। অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রায় ৬ শতাংশ বা ১ হাজার ৪৩৪ জন বাংলাদেশের নাগরিক।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী সিরিয়ার ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৯৭ জন, আফগানিস্তানের ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৪৯ জন, তুরস্কের ৫৫ হাজার ৪৩৭ জন, ভেনেজুয়েলার ৫০ হাজার ৮৩৩ জন, কলম্বিয়ার ৪৩ হাজার ২৭৯ জন, পাকিস্তানের ৩৭ হাজার ২৯২ জন এবং বাংলাদেশের ৩৩ হাজার  ৭২৯ জন রাজনৈতিক আশ্রয় আবেদন করেন। ওই তালিকায় বাংলাদেশ পাকিস্তানের পর সপ্তম স্থানে রয়েছে।

এর আগে ২০২১ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২০ হাজার ব্যক্তি ইইউ দেশগুলোয় আশ্রয়ের আবেদন করে। সেই হিসাবে ২০২১ সালের পর ২০২২ সালে ইইউ দেশগুলোতে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন দ্বিগুণ হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর বাংলাদেশের মাত্র ৪ শতাংশ আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন মঞ্জুর হওয়ার বিপরীতে ভারতের ১ শতাংশ, পাকিস্তানের ৯ শতাংশ, আলবেনিয়ার ৭ শতাংশ, তুরস্কের ৩৮ শতাংশ, আফগানিস্তানের ৫৪ শতাংশ, ইয়েমেনের ৮৪ শতাংশ এবং সিরিয়ার ৯৪ শতাংশ নাগরিকের আবেদন অনুমোদন করেছে সংশ্লিষ্ট ইইউ দেশগুলো। রাজনৈতিক আশ্রয় অনুমোদনকারী প্রধান দেশগুলো হচ্ছে জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি এবং অস্ট্রিয়া।

ইইউর এই প্রতিবেদন সম্পর্কে ঢাকার কূটনীতিকরা বলছেন, বাংলাদেশের নাগরিকদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের অধিকাংশ আবেদন নাকচ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার মানুষের ইউরোপে অবস্থান অবৈধ হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইইউভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের অভিবাসন ইস্যুতে চুক্তি রয়েছে, যার আওতায় এসব দেশে অবৈধ হয়ে যাওয়া নাগরিকদের যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে ফেরত নিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ এবং প্রতি বছরই ২ থেকে ৩ হাজার এমন ব্যক্তিকে ফেরত আনা হচ্ছে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সি আর আবরার এই প্রতিবেদককে বলেন, সারা বিশ্বে নানা ধরনের অস্থিরতা, বিভিন্ন দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন, জলবায়ু পরিবর্তনের ইমপ্যাক্ট, সাধারণ জীবনযাপনে চাপ সৃষ্টি, বিভিন্ন ধরনের ভীতির সৃষ্টি সবমিলিয়ে এমন ধরনের অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ইইউভুক্ত দেশগুলো অপেক্ষাকৃত অন্য দেশগুলোর তুলনায় সম্পদশালী যে কারণে ওই দেশগুলোতে মানুষজন বেশি যেতে চায়।

আর বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কেন সর্বোচ্চ পর্যায়ের লোকজন আশ্রয়ের আবেদন করেছে তা সরকার দেখবে। তবে স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশিদের ইউরোপে অভিবাসনের এই ইচ্ছা, ইউরোপে যাওয়ার এই তাগিদ- এটা নতুন কোনো বিষয় না। মানুষ জীবিকার কারণে বিভিন্ন সময়ে যেতে চায়। বিশেষ করে অন্য দেশগুলোতে যখন অ্যাভিনিউ বন্ধ হয়ে যায় তখন হয়তো চাপটা বাড়ে। এগুলো অনেকগুলো ফ্যাক্টরের ওপর নির্ভর করে। দালালচক্র যারা মানুষকে প্রভাবিত করে, সরকার তাদের ওপর কতখানি নজরদারি রাখতে পারছে এগুলো অনেকগুলো বিষয় আছে এর মধ্যে। একই সঙ্গে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতাও আছে- এই কারণেও অনেকে যেতে চায়। আবার অনেকে এই রাজনৈতিক কারণকে ব্যবহার করে থাকে। বিভিন্ন ধরনের বাস্তবতার কারণেই লোকজন এমন আবেদন করে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর এই প্রতিবেদককে বলেন, গত বছর ইইউভুক্ত দেশগুলোতে আশ্রয় আবেদনের ক্ষেত্রে রেকর্ড হওয়ার পেছনে দুই-তিনটি কারণ থাকতে পারে। একটা হচ্ছে কোভিড-১৯, পোস্ট কোভিড সময়ে যারা নরমালি লিগাল ওয়ে হোক বা অনিয়মিতভাবে হোক কোভিড সময়ে সব প্রক্রিয়াতেই অভিবাসন বন্ধ ছিল বা খুব কম হয়েছে। আবার যাদের বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকে তাদের হয়তো অর্থনৈতিক সংকট বেড়ে গেছে, আবার রেমিট্যান্স ফ্লো কমেনি, কিন্তু নতুন যারা যাবে তাদের যাওয়ার সুযোগটা গত ২ বছর বা তার বেশি কিছু সময় কম ছিল। যে কারণে বাইরে যাওয়ার ফ্লো বেড়েছে। আরেকটা হচ্ছে যারা অবৈধ অভিবাসনের নেটওয়ার্ককে চালু রাখে তারা আরও তৎপর হয়েছে, যা এরই মধ্যে একাধিক প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে। এ ছাড়া ইউক্রেন সংকটের কারণেও অনেকে এই সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। আবার যারা যেতে চায় কোনো কারণে তাদের হাতে টাকার পরিমাণ বেশি হলে তারা অনেক সময়ে মরিয়া হয়ে যায়। তবে যতটুকু বুঝি এই ট্রেন্ড পড়ে যাবে, বাইরে যাওয়ার এই প্রবণতা বেশি দিন থাকবে না। ইউরোপের সব সরকার অভিবাসন-বান্ধব না। সামগ্রিকভাবে ইইউ-ও পলিসিগতভাবে অভিবাসন বিষয়ে কঠোর হচ্ছে। ইউরোপের সরকারগুলো তাদের নিজেদের স্বার্থেই অভিবাসনের এই প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে আনবে।

অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করে এ রকম একটি বেসরকারি সংস্থা বিএনএসকের নির্বাহী পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম এই প্রতিবেদককে বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা তো একটা আছেই। যা একটা ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেবে কাজ করছে। আরেকটা বিষয় হচ্ছে রাজনৈতিক আশ্রয়ের নাম করে অনেকেই দেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ খোঁজে। অনেক তরুণই অনেক মিথ্যা গল্প বানিয়ে বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করে। জনসংখ্যাও বেড়েছে, এটা একটা কারণ। দেশে অনেকেরই কর্মসংস্থান নেই, যে কারণে অনেকেই বিদেশে যাওয়ার চিন্তা করে। আরেকটা আমার নিজস্ব মতামত যে, রোহিঙ্গাদের অনেক দেশই আশ্রয় দিচ্ছে, সে ক্ষেত্রে অনেকেই রোহিঙ্গাদের মতো নাম ব্যবহার করে বা পরিচয় গোপন করে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা আনঅফিসিয়ালি দেখেছি যে বিদেশে যাওয়ার জন্য অনেকেই এভাবে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। আর আমাদের দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ কম থাকায় এমন ঘটনা বেশি ঘটছে। আমরা ব্যবসা-বাণিজ্য বা উদ্যোক্তার কথা বলি, কিন্তু এসব করতে গেলে পদে পদে যে হেনস্থা হতে হয় তখন অটোমেটিক্যালি ছেলেমেয়েরা বিদেশ যাওয়ার কথা ভাবে। আসলে বাংলাদেশে যতটা না রাজনৈতিক কারণ তার থেকে বেশি হলো আর্থ-সামাজিক সংকট।

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন :