
নিজস্ব প্রতিনিধি: জরায়ু অপসারণের সময় পেটে মপ (রক্ত পরিষ্কারের তুলা জাতীয় বড় আকৃতির কাপড়) রেখে সেলাই করায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন গৃহবধু রেহানা আক্তার (৩৫) নামের এক নারী। তিনি বর্তমানে মানিকগঞ্জের বেসরকারি হাসপাতাল মেডিল্যাবে ডাক্তার আরিফুর রহমানের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। গত রোববার অপারেশনের পর পেটে মপ থাকার বিষয়টি জানতে পারেন ডাক্তার আরিফুর রহমান।
ভুক্তভোগী রেহানা আক্তার শিবালয় উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২ জুলাই মানিকগঞ্জ শহরে অবস্থিত সিটি হাসপাতালে রেহানা আক্তারের জরায়ু অপারেশন করেন ডাক্তার এমদাদ। অপারেশনের সময় পেটে মপ রেখে সেলাই করা হয়। সাতদিন পর ড্রেসিং করে সেলাই কেটে দেয়া হয়। কিন্তু দিন যতো যেতে থাকে রোগীর অবস্থা ততো খারাপ হতে থাকে। যন্ত্রণার পাশাপাশি পেট ফুলে উঠে।

ডাক্তার আরিফুর রহমান জানান, রোগীকে যখন আমার কাছে আনা হয়, তখন অবস্থা খুব খারাপ ছিল। আমি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাই। আল্টাসনোগ্রাফি করার পর পেটে বড় আকৃতির কিছু একটা দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু বোঝা যাচ্ছিল না সেটা কি টিউমার নাকি অন্য কিছু। তখন আমি রোগীর আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে কথা বলে অপারেশন করি।
ডাক্তার আরিফুর রহমান আরও জানান, অপারেশনের সময় দেখা যায় পেটে মপ রয়েছে। পেটে নারী-ভুরি পঁচে গেছে। প্রচুর পুঁজ বের হয়েছে। অনেক জটিলতা থাকা সত্ত্বেও অপারেশন সফলভাবে করা হয়।
অপারেশনের সময় রোগীর পেটে মপ রেখে সেলাই করার বিষয়ে জানতে চাইলে ডাক্তার এমদাদ সাংবাদিকদের বলেন, কোন রোগীর ক্ষেত্রে এমন হয়েছে তা মনে করতে পারছি না। তবে এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানানোর কথা বলেন তিনি। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি কিছু জানাননি।
সিটি হাসপাতালের মালিক দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, গত ২ জুলাই ১৯ হাজার টাকা কন্টাক্টে রেহেনা আক্তারের জরায়ু অপারেশন করা হয়। ডাক্তার এমদাদ ওই অপারেশন করেন। সাতদিন পর ড্রেসিং করে সেলাই কেটে দেয়া হয়। রোগীকে বলা হয়, এরপরও যদি কোন সমস্যা হয় (অনেক ক্ষেত্রে ইনফেকশন হয়) তাহলে আমাদের জানাবেন। আমরা চিকিৎসা করে দেব। অপারেশনে কোন ভুল বা অবহেলা হলে সে দায় ডাক্তারের, হাসপাতালের নয় বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মোয়াজ্জেম আলী চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিকে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।ঘটনা তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি করা হয়েছে। কমিটিতে একজন সিনিয়র সার্জন, একজন গাইনি বিশেষজ্ঞ ও সিভিল সার্জন অফিসের একজন প্রতিনিধি রাখা হয়েছে। তারা তদন্ত করে প্রতিবেদন দিলে সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
Leave a Reply