
অনলাইন ডেস্ক: দেশের মানুষের মৃত্যুর একটি উল্লেখযোগ্য কারণ হলো হৃদরোগ বা কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ (সিভিডি)। উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং স্থূলতার মতো ঝুঁকির কারণগুলোর প্রসারের সাথে বাংলাদেশে সিভিডি একটি ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের বিষয়। দেশে কার্ডিয়াকজেনেটিক টেস্টিংসহ একটি কার্ডিওজেনেটিক ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করায় কার্ডিওভাসকুলার রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা এবং প্রতিরোধে নি:সন্দেহে একটি বড় পদক্ষেপ। আর বংশগত হৃদরোগ হ্রাসে কার্ডিওজেনেটিক ক্লিনিক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
শনিবার (২০ মে) সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওজেনেটিক ক্লিনিক উদ্বোধন করে এসব কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ইউজিসির অধ্যাপক ডা. সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জী।
অনুষ্ঠানে দি ফিউচার অফ হার্ট ডিজিজ ট্রিটমেন্ট শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এনাটমি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. লায়লা আনজুমান বানু। বক্তব্য রাখেন কার্ডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. একে এম ফজলুর রহমান, প্রধান গ্রন্থাগারিক ও ক্লিনিক্যাল কার্ডিওলজি ডিভিশনের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোঃ হারিসুল হক, হল প্রভোস্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এস এম মোস্তফা জামান প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. দিপল কৃষ্ণ অধিকারী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, চিকিৎসা শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা ও গবেষণায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় দেশে পথ প্রর্দশক এর ভূমিকা পালন করছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বের সর্বাধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বর্তমান প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কার্ডিওজেনেটিক ক্লিনিক হৃদরোগের চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি গবেষণার ক্ষেত্রেও বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখবে।
অধ্যাপক ডা. সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জী বলেন, কার্ডিওজেনেটিক ক্লিনিকের মাধ্যমে কার্ডিওজেনেটিক টেস্টিং, কাউন্সিলিং ও চিকিৎসায় বড় ধরণের ভূমিকা রাখবে। এই ক্লিনিকের মাধ্যমে হৃদরোগ চিকিৎসার ক্ষেত্রে নতুন চিন্তা, নতুন চিকিৎসার দ্বার উম্মোচিত হলো। বংশগত হৃদরোগ হ্রাসে কার্ডিওজেনেটিক ক্লিনিক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জেনেটিক্স কার্ডিওভাসকুলার রোগের সূত্রপাতের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বংশগত হাইপার কোলেস্টেরোলেমিয়া, হাইপারট্রফিক কার্ডিওমায়োপ্যাথি এবং অ্যারিথমোজেনিক রাইট ভেন্ট্রিকুলারডিস প্লাসিয়ার মতো সিভিডি হওয়ার ঝুঁকি বংশানুক্রমিক জেনেটিক মিউটেশনের দ্বারা বৃদ্ধি পেতে পারে। জেনেটিক পরীক্ষার মাধ্যমে এই মিউটেশনগুলির সনাক্তকরণ এই প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসায় সহায়তা করতে পারে, যার ফলে জটিলতার ঝুঁকি হ্রাস পায় এবং রোগীর রোগের প্রকোপতা কমে যায়।
Leave a Reply