
অনলাইন ডেস্ক: ভারতে বন্যার কারণে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে ছয় দিন আগে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টির তীব্রতা কমলেও থামার আভাস পাওয়া যায়নি। ব্যাপক বৃষ্টিতে হড়কা বান, বন্যা, ভূমিধস ও দুর্ঘটনায় সেখানে মৃতের সংখ্যা ১৪৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এনডিটিভি।
প্রাকৃতিক এ দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখন্ড রাজ্য। হিমাচলে এ পর্যন্ত ৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতি কয়েক হাজার কোটি রুপি ছাড়িয়ে গেছে।
উত্তরাখন্ডে ১৬ জন, হরিয়ানায় ১৬ জন, উত্তর প্রদেশে ১৪ জন এবং পাঞ্জাবে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে। এসব রাজ্যে আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি)। উত্তরাখন্ডে ১৭ জুলাই পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা আছে বলে জানিয়েছে তারা। ১৬ জুলাই বৃষ্টির আশঙ্কা বাড়তে পারে জানিয়ে রাজ্যটির বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলেছে তারা।
জুন থেকে শুরু হওয়া এবারের বর্ষা মৌসুমে ভারতের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো রেকর্ড বৃষ্টিপাত দেখেছে। হিমাচল ও পাঞ্জাব প্রদেশে এ সময়ের গড়ের তুলনায় যথাক্রমে ১০০ ও ৭০ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।
এদিকে টানা বর্ষণে যমুনা নদীর পানি বেড়ে সৃষ্ট বন্যায় ভারতের সুপ্রিম কোর্টসহ রাজধানী দিল্লির বেশ কিছু এলাকা ডুবে জনজীবনে ব্যাপক ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। উপচে পড়া যমুনার পানিতে রাজধানীর রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় স্কুল-কলেজ, শ্মশান এমনকি পানি শোধনাগারও বন্ধ ঘোষণা করেছে দিল্লি সরকার। রাজধানীর কিছু এলাকায় খাবার পানির সংকট ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। নয়াদিল্লিতে ঐতিহাসিক রেডফোর্ট এলাকা বন্যায় জলাবদ্ধ। কাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়া দিল্লিবাসী পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
রাজধানীর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রোববার পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দুর্গত এলাকাগুলোয় জারি রয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ভারতীয় সেনাবাহিনীর সহায়তা চেয়েছেন। দিল্লির পাশ দিয়ে বয়ে চলা যমুনার পানি বৃহস্পতিবার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছলেও শুক্রবার সকাল থেকে ধীরে ধীরে কমছে বলে এনডিটিভি জানিয়েছে।
Leave a Reply