
অনলাইন ডেস্ক: ইউক্রেনে ন্যাটো জোটের সামরিক সহায়তা বৃদ্ধি ক্রমশ তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধকে ডেকে আনছে, মন্তব্য করেছেন রুশ নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি সেক্রেটারি দিমিত্রি মেদভেদেভ।
মঙ্গলবার লিথুয়ানিয়ায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সম্মেলন শুরু হওয়ার দিনটিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। এদিকে চীনের পক্ষ থেকে ন্যাটোকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, কোনোভাবেই যেন তারা এশিয়ায় প্রবেশের চেষ্টা না করে। খবর দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স ও আলজাজিরার
রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, মঙ্গলবার সম্মেলনের প্রথম দিনে ন্যাটো জোটভুক্ত বহু দেশ ইউক্রেনকে আরও যুদ্ধাস্ত্র ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। মেদভেদেভ দাবি করেছেন, এসব অস্ত্র ও আর্থিক সহযোগিতা রাশিয়াকে ইউক্রেনে তার লক্ষ্য অর্জন থেকে বিরত রাখতে পারবে না। মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে তিনি লিখেছেন, ‘পুরোপুরি উদ্ভ্রান্ত পশ্চিমারা, এ ছাড়া অন্য কিছু করতেও পারবে না। আসল কথা হচ্ছে, এটা কানাগলি। তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধ ঘনিয়ে আসছে। আমাদের জন্য এগুলোর মানে কী? এসব হওয়ারই কথা ছিল। আগে ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে বিশেষ সামরিক অভিযান চলবে।’
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন দেশটির এ নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান। মেদভেদেভ তার ডেপুটি। রাশিয়া ইউক্রেনে তার আক্রমণকে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ বলছে, অন্যদিকে কিয়েভ ও তার মিত্ররা বলছে, জমি দখল ও প্রতিবেশীর ওপর প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে বিনা প্ররোচনায় যুদ্ধ চালাচ্ছে মস্কো।
ন্যাটোকে সতর্ক বার্তা চীনের : আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে চীনকে কোণঠাসা করতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক জোট নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অ্যালায়েন্স (ন্যাটো) যদি এশিয়া অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে, সে ক্ষেত্রে শক্তভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বেইজিং।
ইউরোপের দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) চীনা দূতাবাস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ন্যাটো যদি চীনের জাতীয় স্বার্থ আর আইনানুগ অধিকার খর্ব করার পরিকল্পনার কোনো পদক্ষেপ নেয়, সে ক্ষেত্রে তার দৃঢ় জবাব দেবে বেইজিং।
ইউরোপের বাল্টিক অঞ্চলের দেশ লিথুয়ানিয়ার রাজধানী ভিলিনাসে গত ১০ এবং ১১ জুলাই দুই দিনের সম্মেলন ছিল ন্যাটোর। সম্মেলন শেষে জোটের সদস্য দেশগুলোর নেতারা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চীনের বর্তমান অবস্থান এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে ন্যাটোর করণীয় নিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি দেন
এতে বলা হয়, ‘রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক কিংবা সামরিক কৌশল ব্যবহারের মাধ্যমে চীন আঞ্চলিক ও বিশ্ব রাজনীতিতে তার প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে, তবে এর মাধ্যমে বেইজিং আসলে কী চায়; তা এখনও আমাদের কাছে অস্পষ্ট।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘গত বেশ কয়েক বছর ধরে এশিয়া প্রশান্ত অঞ্চলের দেশগুলো ইতিমধ্যেই চীনের উচ্চাকাক্সক্ষী, বিদ্বেষপরায়ণ ও জবরদস্তিমূলক বিভিন্ন নীতির শিকারে পরিণত হচ্ছে। যদি চীনের এই প্রভাব নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, সে ক্ষেত্রে তা একসময় জোটের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে চীন-রাশিয়া নিজেদের কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও গভীর পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে। এই দুই দেশের মিত্রতা অদূর ভবিষ্যতে আইনভিত্তিক বিশ্ব ব্যবস্থাকে গভীর সংকটে ফেলতে পারে।
ন্যাটোর দেওয়া এই বিবৃতির কয়েক ঘণ্টা পরই পাল্টা বিবৃতি দেয় ইইউর চীনা দূতাবাস। সেই চীনা বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এশীয় প্রশান্ত অঞ্চলে প্রবেশ করতে চাইছে ন্যাটো। আমরা দৃঢ়ভাবে এই প্রচেষ্টায় আপত্তি জানিয়ে বলতে চাই, যদি কেউ চীনের জাতীয় স্বার্থ ও বৈধ অধিকারসমূহে হস্তক্ষেপের কোনো চেষ্টা করে, শক্তভাবে তা প্রতিরোধ করতে বেইজিং প্রস্তুত।’
Leave a Reply