
শাহজাহান বিশ্বাস:পানি নিস্কাশনের অভাব, দেরিতে আবাদ, অতিরিক্ত বৃষ্টি এবং অগ্রিম বর্ষার কারণে মানিকগঞ্জের শিবালয়ের কৃষকদের স্বপ্ন এবার পানির নীচে।’শিবালয় কাশাদহ পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডে’র সেচ প্রকল্পের আওতায় বড় আনুলিয়া, বোয়ালী, টাকিগাইড়াসহ বেশ কয়েকটি প্রজেক্টের আবাদকৃত প্রায় ১শ বিঘা নীচু জমির কাঁচা এবং আধাপাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সেচ প্রকল্পের ম্যানেজার ইমান আলী। এছাড়া অন্যান্য সকল জমিতেই পানি ঢুকে পড়ায় কাঁচা ধান ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। পানিতে পড়া অধাপাকা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছে কৃষকরা। শ্রম এবং নগদ অর্থ খরচ করে সারা বছরের খাবার এবং সংসার পরিচালনার জন্য আবদকৃত কাঙ্খিত ফসল বরো ধান ঘরে তুলতে না পেরে চরম ক্ষতির সন্মুখিন হয়েছেন তারা। বাকী ধানগুলো ঠিক মতো ঘরে তুলতে পারবেন কি না তা নিয়েও মহা চিন্তিত রয়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। চরম হতাশার মধ্যে দিন পার করছেন তারা। এমতাবস্থায় সরকারের সহযোগীতা কামনা করছেন কাশাদহ পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি’র লিমিটেডে’র নের্তৃবৃন্দ এবং ভুক্তভোগী কৃষকরা।

জানা গেছে, শিবালয় কাশাদহ পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের আওতায় এ বছর প্রায় ১হাজার বিঘা জমিতে ইরি-বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে।এরমধ্যে নীচু এলাকার শতাধিক বিঘা জমির ধান পানির নীচে ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে। এসব ধানের বেশীর ভাগই কাঁচা ছিল বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
মঙ্গলবার সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কাশাদহ সেচ প্রকল্পের কৃষকরা পানিতে পড়া আধাপাকা ধান কেটে নিচ্ছেন। আবার শ্রমিক সংকট এবং কাটতে খরচ বেশী হবে বলে না কেটে জমিতেই রেখে দিয়েছেন অনেকে। সেগুলো পানির নীচে পঁচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেকের জমিতে পানি আসায় ধান কাটতে অসুবিধা হচ্ছে। এতে কৃষকদের শ্রমিক লাগছে বেশী খরচও হচ্ছে দ্বিগুণ।
এদিকে কৃষকের ধান ডুবে যাওয়ায় সেচ খরচের টাকাও উঠাতে হিমশিম খাচ্ছেন কাশাদহ পানি ব্যাবস্থাপনা সমবায় সমিতি। অনেকেই টাকা দিতে গড়িমসি করছেন। সারা বছর সেচ দিয়ে এখন টাকা উঠাতে না পেরে মোটা অংকের টাকা ঋণ হওয়ার আশংকা করছেন সমিতি’র পরিচালনা পরিষদ।

বোয়ালী গ্রামের কৃষক যুবরাজ মোল্লা বলেন, সে এবছর ১০বিঘা জামিতে ইরি-বোরো ধানের আবাদ করেছেন। এরমধ্যে ৬ বিঘার ধান পানিতে পড়ায় বাধ্য হয়ে অর্ধপাকা ধান কাটছেন । এছাড়া ২ বিঘা ধান সম্পূর্ণরূপে পানিতে তলিয়ে পঁচে নষ্ট গেছে। কাঁচা ছিল বলে ওই ধান কাটা হয়নি। এ ধান সারা বছরের খাবার যোগাবে এবং সংসার পরিচালনা করে থাকে বলে বাধ্য হয়ে আধাপাকা ধান পানির মধ্য থেকে কেটে বাড়ি নিচ্ছেন। এতে তার শ্রমিক লাগছে বেশী এবং কাটতে খরচও হচ্ছে ডাবল। এবার একমন ধানের উৎপাদন খরচ পড়বে ২হাজার টাকারও বেশী।
শিবালয় গ্রামের কৃষক মো. সিদ্দিক মিয়া জানান, সে এবার ৬বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করেছেন। তার দেড় বিঘা জমির ধান সম্পূর্ণরূপে পানির নীচে তলিয়ে গেছে। কাঁচা ছিল বলে ওই ধান কাটেননি তিনি। বাকী জমির কিছু ধান এখনও সুম্পূর্ণরূপে পাকেনি আধা পাকা অবস্থায় রয়েছে। জমিতে পানি উঠায় বাধ্য হয়ে সেগুলো কাটতে শুরু করেছি। আধাপাকা এসব ধানের ফলন হবে অর্ধেক হবে বলে তিনি জানান। এবার আমরা দু’দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। বৃষ্টির কারণে একবার সরিষাতেও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। এখন আবার ধানেও ক্ষতিগ্রস্থ হলাম। আবাদ করতে গিয়ে শুধু হাতে থাকা নগদ টাকা খরচ করলাম তা আর ঘরে তুলতে পারলাম না। এমতাবস্থায় এবার সংসার পরিচালনা করা কষ্ট কর হয়ে পড়বে বলে তিনি জানান।
কাশাদহ পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সভাপতি মোশিউর রহমান আউয়াল বলেন, কাসাদহ খালটি পুণ:খনন করায় এবং পানি আটকানোর কোন ব্যবস্থা না থাকায় এবার অতি সহজেই নদীর পানি প্রবেশ করে নীচু জমির ধানগুলো তলিয়ে যায়। পানি আটকানোর জন্য স্লুইচ গেইট বা সাটার সিস্টেম থাকলে এভাবে অসময়ের পানিতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হতো না। এ পরিস্থিতিতে কৃষকরা সেচ খরচের টাকা দিতে চাচ্ছে না বলে জানান তিনি ।
এব্যাপারে শিবালয় উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. রিয়াজুর রহমান বলেন, কাশাদহ খালটি পুন:খননের কারণে গভীরতা বেশী হওয়ায় বাঁধ দিয়ে আটকানো সম্ভব হয়নি। এছাড়া খালের পাশ্ববর্তি জমির পার দিয়ে খননকৃত মাটি কৃষকরা নিয়ে যাওয়ায় অতিসহজেই পানি জমিতে প্রবেশ করেছে এবং নীচু জমির কিছু ধান ডুবে যায়। গতবারের চেয়ে এবার পানিও এসেছে অগ্রিম। যে কারণে একটু সমস্যা হচ্ছে। কয়েকদিন ধরে অব্যশ্য নদ-নদীর পানি কমছে। তারপরও যে সকল কৃষকের ৮০ থেকে ৯০ পারসেন ধান পেকেছে তাদের ধান কাটার পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
Leave a Reply