1. shahjahanbiswas74@gmail.com : Shahjahan Biswas : Shahjahan Biswas
  2. ssexpressit@gmail.com : sonarbanglanews :
শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৪:২৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
শিবালয়ে হেরোইনসহ আটক ১ শিবালয়ে সাংবাদিকের বাসায় মাদক ব্যাবসায়ীর হামলা মানিকগঞ্জে মাটি খেকোদের থাবা থেকে ফসলি জমি রক্ষায় কৃষকদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ  শিবালয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা, আটক ৩ মানিকগঞ্জে শেষ হলো ‘শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারী উন্নয়ন শীর্ষক সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা  মার্কিন অবরোধ উপেক্ষা করে দ্বিতীয় একটি সুপারট্যাংকার পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী বৈঠক পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে শিবালয়ে মোবাইল কোর্ট ১২হাজার টাকা জরিমানা ২জন আটক ৫ মোটরসাইকেল জব্দ মানিকগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হলেন শিবালয় থানার ওসি মো.মনির হোসেন পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আরিচা যমুনার তীরে ঘুড়ি উৎসব

শিবালয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ, প্রতিবাদে মানববন্ধন

  • সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৫০৪ বার পড়েছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক:মানিকগঞ্জের শিবালয়ে থানায় ডেকে নিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।মিথ্যা মামলা ও অহেতুক হয়রানির প্রতিবাদে পুলিশ সুপার বরাবরে অভিযোগ এবং মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও  স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার বিকেলে শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়া- নালী সড়কের ধুতরাবাড়ি এলাকায় ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী এ মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবী করেন।এসময় বক্তব্য রাখেন স্থানীয় মাতব্বর মো. আয়ুব তালুকদার,শফিকুল ইসলাম ও ভুক্তভোগী মো. রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মানববন্ধনে বক্তরা শিবালয় থানার ওসি মো. কামাল হোসেনকে প্রত্যাহারের দাবী জানিয়ে বলেন, বসতবাড়ি ও জমি সংক্রান্ত বিষয়ে রফিকুল ইসলামের বড় ভাই সাখায়াত হোসেনের স্ত্রী সালমা আক্তার রফিকের বিরুদ্ধে শিবালয় থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন।এতে পুলিশ গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রফিককে থানায় ডেকে নেন।সেখানে ওসি মো.কামাল হোসেন রফিকুল ইসলামের কোন কথা না শুনেই তার পৈত্রিক বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলেন।এতে সে রাজি না হলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করে মারধরের ভয় দেখানোসহ নানাবিধ হুমকি দিয়ে গারোদে আটকে রাখেন।ওসি তাকে ৯ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার মধ্যে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা বলে রাত গভীরে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেন।

বক্তারা আরো বলেন, রফিকুল এলাকার ভাল ও সহজ সরল প্রকৃতির মানুষ।তার ভাবি ছালমা আক্তার থানায় যে অভিযোগ দিয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমরা এ মিথ্যা মামলা এবং রফিককে থানায় ডেকে নিয়ে পুলিশী হয়রানী’র তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

ভুক্তভোগী রফিকুলের মেঝো ভাই মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ৮ সেপ্টেম্বর রফিক আমাকে ফোন দিয়ে বলে ভাই ওসি স্যার আমাকে কাগজ-পাতি নিয়ে থানায় যেতে বলছে, আমার সাথে তোর যাইতে হবে।পরে আমরা দু্ই ভাই থানায় যাই। যাওয়ার পর দেখি ওই মহিলা (বড় ভাইয়ের স্ত্রী সালমা) ও তার দুই ভাই এবং ছেলে-মেয়েরা থানায় বসা ছিল।যাওয়ার পর আমাদের কোন কথা না শুনে রুমের ভীতর আটকাই নিয়া অনেক ভয়ভীতি দেখাইছে ওসি স্যার।গিরা-গাইট ভেঙ্গে দিবে ১০/১২টা মামলা দিবো, জেল থেকে যাতে না বাইরাতে পারে সেই ব্যাবস্থা করবো, এসব বলে হুমকি দেয়।এক পর্যায়ে আমার ছোট ভাই রফিকুলকে থানার গারোদে ঢুকায়।পরবর্তিতে ওসি স্যার ওই মহিলা (সালমার) সাথে  কথা বলার পর রফিককে  গারোদ থেকে বের করে নিয়ে রফিক আর আমাকে এক রুমে আটকিয়ে নিয়ে একটি কাগজে সই নেই আর বলে এখানে সই দিয়া যাইতে অইবো আর নাইলে  ১০/১২টা মামলা দিমু নাইলে গিরাগাইট বাইরিয়া ভাইঙ্গা ফালামু।আমরা গ্রামের সহজ সরল মানুষ, পেচিগুছি বুঝি না, ওসি স্যারের কথায় ভয়ে  আমরা স্বক্ষর করতে বাধ্য হয়েছি। এ বিষয়ে আমরা এসপি স্যারের কাছে একটি লিখিল অভিযোগ দিয়েছি।ওসি স্যার ওই মহিলার কাছ থেকে টাকা খেয়ে তার পক্ষ নিয়ে কাজ করছে বলে তিনি জানান। আমরা এই ওসি স্যারের  পদত্যাগ ও বিচার চাই।

স্থানীয় মাতব্বর আয়ুব তালুকদার জানান, এখানে রফিকের ১শতাংশ জায়গা তার কেনা।এহকাল ও পরকালেও রফিক এ জায়গার মালিক। কারণ এ জায়গা রফিকের সাবকলা আলাদা কেনা। তখন আমি রফিকের বড় ভাই সাখায়াতকে বললাম তুমি সব নিয়ে যাও এখান থেকে রফিককে ১ শতাংশ জায়গা দিয়ে দাও। সে তাও দিবে না তাকে উচ্ছেদ করে দিবে। সে দিন দারোগা এসে বললো ভাই আপনি ওই ঘরটা তালা দিয়ে রফিককে নামিয়ে দেন। আমি সেদিন দারোগার কথা শুনে ঘর তালা দেই।সে চাবি এখনও আমার কাছে। আমি রফিককে বলেছি তুই বাড়ি থেকে নেমে যা। প্রশাসনের বিরুদ্ধে তুই যেতে পারবিনা। প্রশাসনের বিরুদ্ধে গেলে আমি তোর সাথে নাই। তখন রফিক কান্না করে চোঁখের পানি ফেলে চাবিটা আমার কাছে দিয়ে দেই।তখন আমি দারাগোকে ফোন দিয়ে বলি আমি ওকে সরিয়ে দিয়েছি।দারোগা আবার রাতে ফোন দিয়ে বলেন ওর বনদেরকেও সরিয়ে দিতে হবে।তখন বললাম আমি এটা পারবো না।কারণ ওর বোনরা বেড়াতে এসেছে, ওরা যাবে কোথায়? দারোগা আবার রাতে এসে রফিককে সরে যেতে বলে। তখন আমি দারোগাকে বললাম ভাই সঠিক বিচার কইরেন। মিথ্যার আশ্রয় নিয়েন না।গত ৮ সেপ্টেম্বর রফিক বলতেছে কাকা দারোগা আমাকে থানায় যেতে বলতেছে। তখন আমি ওকে কাগজ পাতি নিয়ে থানায় যেতে বললাম।যাওয়ার পর ওকে নাকি ভয়ভীতি দেখিয়েছে এবং টর্চারিং করার চেষ্টা করেছে যা শুনলাম আরকি। ওকে নাকি রুমের ভীতর আটকিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে স্বাক্ষর নিয়েছে।পুলিশ যদি এটা করে থাকে তাহলে এটি খুবই দু:খজনক এবং নিন্দনীয়।প্রশাসনের কাছে আমার দাবী সঠিক বিচারটা, সঠিক তথ্য নিয়ে সঠিক কাজটা যেন করা হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রফিকের বড় বোন রেবেকা সুলতানা জানান, ঘটনার দিন রফিকের বড় ভাইয়ের ছেলে সিয়াম এসে তালা খুলে ঘরে প্রবেশ করে। এরপর ঘরের দরজা আটকিয়ে আলমারি খুলে কাপড়-চোপড় সব বের করে ঘর ভরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ওর মাকে (সালমা ) ফোন দিয়ে বলে মা ঘরে চুরি হয়েছে।তারপর ওর মা সালমা থানা থেকে পুলিশ নিয়ে এসে বলে আমার ঘরে ৪ ভরি স্বর্ণ-টাকা পয়সা ছিল সেগুলো সব চুরি হয়ে গেছে।কিন্তু কেউ কি টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার ঘরে রেখে বাড়ি থেকে যায়? তারাতো বাড়িই থাকেনা,তারা থাকে ঢাকায়। তাহলে তারা সোনাদানা, টাকা পয়সা ঘরে রাইখা গেল কি কইরা ? এটা কি কেউ বিশ্বাস করবে? এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা-বানোয়াট আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।মঙ্গলবার বিকেলে মানববন্ধনে আসা সকলের একই বক্তব্য।

এদিকে ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম জানান, বিজ্ঞ আদালতের দু’টি রায় আমাদের পক্ষে থাকলেও জমি সংক্রান্ত বিষয়ে বড় ভাইয়ের স্ত্রী সালমা আক্তার থানায় আমার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা অভিযোগ করেন।অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শিবালয় থানার এসআই নুরুল ইসলাম আমাকে ফোন দিয়ে থানায় ডেকে নেন।এসআই আমাকে ওসির সাহেবের রুমে নিয়ে গেলে ওসি আমার কোন কথা না শুনেই ধমক দিয়ে গারদে ঢুকায়।এরপর আমাকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদানসহ মানসিকভাবে নিরযাতন চালায়। রাত ১২টার পর গারদ থেকে আবার ওসির রুমে নিয়ে জোরপূর্বক মুচলেকা নেন।এসময় ওসি মো.কামাল হোসেন ৯ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টার মধ্যে আমাকে বাড়ি-ঘর ছেড়ে চলে যেতে বলেন।বাড়ি ছেড়ে না গেলে তিনি আমার নামে ১০/১২টি মিথ্যা মামলা ও হাত-পা ভেঙ্গে জেল হাজতে ঢুকিয়ে রাখবে বলে এমন সব হুমকি দেন। রাতে বাড়িতে ফিরে মানসিকভাবে আমি বিপর‌্যস্ত হয়ে পড়ি। সকালে স্থানীয়দের পরামর্শে আমি মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার বরাবরে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করি।

এ বিষয়ে  শিবালয় থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.কামাল হোসেন তার বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা অস্বীকার করে বলেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর জামি সংক্রান্ত বিষয়ে সালমা আক্তার একটি অভিযোগ দায়ের করেন।পর দিন ৮ সেপ্টম্বর এসআই নুরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে অভিযুক্ত রফিকুলকে থানায় আসতে বললে সে সন্ধ্যায় থানায় আসেন।রাতে অভিযোগকারীসহ স্থানীয় জামাতের দুই নেতা বিষয়টি পারিবারিকভাবে মিমাংসা করবেন বলে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

উল্লেখ্য পুলিশী হয়রানির কারণে ৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালে রফিকুল বির‌পর্যস্ত অবস্থায় ছাদে বসে মাইকে শিবালয় থানার ওসি ও দারোগা থানা ডেকে নিয়ে তাকে নানা ধরনের হয়রানির ফিরিস্তি তুলে ধরে বক্তব্য দিতে থাকেন। এসময় তিনি তার মৃত্যু না হওয়া পর‌্যন্ত ছাদ থেকে নীচে নামবেন না বলে ঘোষনা দিয়ে স্থানীয়দেরকে তার পাশে থাকার আহবান জানান।ঘটনাস্থলে ছুটে আসা উৎসক জনতা ও স্থানীয়রা তার ডাকে একত্রিত হয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দিলে সে ছাদ থেকে নেমে আসে।যা তাৎক্ষণিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন :