1. shahjahanbiswas74@gmail.com : Shahjahan Biswas : Shahjahan Biswas
  2. ssexpressit@gmail.com : sonarbanglanews :
শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৬:৫৭ অপরাহ্ন

পা দিয়ে ছবি এঁকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেল ফেনীর আবদুল্লাহ

  • সর্বশেষ আপডেট : শুক্রবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ২২ বার পড়েছেন

অনলাইন ডেস্ক: দুই হাত নেই। তবুও ধমে যায়নি ফেনীর ছোট্ট শিশু আবদুল্লাহ আল মোনায়েম। সে পা দিয়ে ছবি এঁকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়েছে।

গত ঈদুল ফিতরে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ঈদের শুভেচ্ছা কার্ডে স্থান পেয়েছে আবদুল্লাহর আঁকা ছবি। বঙ্গবন্ধু ও গ্রামবাংলাকে নিয়ে আঁকা ছবিটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে আসে। এর পর ফেনী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে আবদুল্লাহর পরিবারের অস্বচ্ছলতার বিষয়টি জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে উপহারস্বরূপ নগদ এক লাখ টাকা পুরস্কার ও আড়াই শতাংশ জমির ওপর একটি আধা পাকা টিনশেড বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে আবদুল্লাহর পরিবারকে।

গত ১৬ আগস্ট দাগনভূঁঞা পৌরসভার উদরাজপুর এলাকায় ওই বাড়ির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ উল হাসান। আবদুল্লাহর পরিবারের জন্য কেনা জমির মূল্য বাবদ জমির মালিককে ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকার একটি চেক হস্তান্তর করা হয়।

জানা যায়, ১২ বছর আগে ফেনীর দাগনভূঁঞা উপজেলার মিদ্দার হাটের কামাল উদ্দিন ও বিবি কুলসুমের সংসারে জন্ম নেয় ফুটফুটে এক শিশু। নাম রাখা হয় আবদুল্লাহ আল মোনায়েম। সংসারে প্রথম সন্তান জন্মের খবরে কামাল-কুলসুমের দম্পতির পরিবারে আনন্দের সীমা ছিল না। তবে আবদুল্লাহর জন্মের পরমুহূর্তে সেই আনন্দ ম্লান হয়ে গিয়েছিল। কারণ জন্মের পর দেখা গেল আবদুল্লাহর দু’টি হাতই নেই।

প্রতিবন্ধী সন্তান জন্মের পর প্রতিবেশীদের নানা কটুকথা শুনতে হয়েছে কামাল আর কুলসুমকে। অভাবের সংসারে ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে সব সময়ই দুশ্চিন্তায় থাকতেন আবদুল্লাহর মা-বাবা। তবে ছোটবেলা থেকেই মা কুলসুমের সংকল্প ছিল তাঁর ছেলে যেন কারও ওপর নির্ভরশীল না হতে হয়। এ জন্য আবদুল্লাহরকে পা দিয়ে সব কাজ করতে শিখিয়েছেন তিনি। পা দিয়েই লিখতে পারে আবদুল্লাহ। শুধু লেখা নয়, পায়ের আঙুলের ফাঁকে রং পেনসিল ধরে আবদুল্লাহ ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলে চমৎকার সব চিত্রকর্ম। খাওয়া, জামা পরা, স্কুল ব্যাগ গোছানোসহ অনেক কাজই পা দিয়ে করতে পারে আবদুল্লাহ।

আবদুল্লাহকে ছবি আঁকা শিখিয়েছেন স্থানীয় উজ্জীবক আর্ট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক গিয়াস উদ্দিন ভূঁঞা। তিনি বিনামূল্যে আবদুল্লাহকে ছবি আঁকা শেখান। তবে আবদুল্লাহর এই সাফল্য তার বাবা কামাল উদ্দিন দেখতে পারলেন না। তিন বছর আগে সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে ওমানে পাড়ি জমিয়েছিলেন কামাল। ভাগ্য মুখ তুলে তাকায়নি। বছর দু’য়েক আগে ওমানেই সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি মারা যান। স্বামীকে হারানোর পর কুলসুমের কাঁধে পুরো সংসারের দায়িত্ব।

আবদুল্লাহর বর্তমানে দাগনভূঁঞা একাডেমিতে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। আবদুল্লাহর ছোট ভাই একই বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণিতে পড়াশোনা করে।

বর্তমানে দুই ছেলেকে নিয়ে কুলসুম দাগনভূঁঞা শহরে একটি ভাড়ার বাসায় থাকেন।

প্রধানমন্ত্রীর স্বীকৃতি পেয়ে দারুণ খুশি আবদুল্লাহর। নতুন করে জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখছে সে। আবদুল্লাহ বলে, আপাতত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই। পড়াশোনা শেষে যাই করি না কেন, ভালো মানুষ হতে চাই। আর ছবি আঁকতে আমার ভালো লাগে। সেটিও চালিয়ে যাব।

আবদুল্লাহর মা বিবি কুলসুম বলেন, এতদিন আমার ভাই ও অন্যান্য স্বজন ছেলেদের পড়াশোনার খরচ দিতেন। অনেক কষ্টে ছেলেদের পড়াশোনা করাচ্ছি। এর মধ্যে আবদুল্লাহর প্রতিবন্ধী হওয়ায় অনেক সমস্যায় পড়তে হয়েছে। তবে আমি ছেলেকে সব কাজ করতে শিখিয়েছি। শত কষ্ট হলেও ওর পড়াশোনা বন্ধ করিনি। এখন এই ছেলেই আমাদের গর্বিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী আমাদের দিকে হাত বাড়িয়েছেন। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমরা চিরকৃতজ্ঞ।

আবদুল্লাহর মোনায়েম এর আর্ট স্কুলের শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন ভূঁঞা বলেন, কোনো কিছুই আবদুল্লাহরকে থামাতে পারেনি। সে আসলেই অদম্য। এ জন্য আমি তার কাছ থেকে টাকা নিই না। আবদুল্লাহর ছবিতে গ্রাম বাংলা, প্রকৃতি ও আশপাশের মানুষের গল্প ফুটে ওঠে। রাষ্ট্রও আবদুল্লাহর প্রতিভার স্বীকৃতি দিয়েছে। এটা সবার জন্যই আনন্দের খবর।

ফেনী জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ উল হাসান বলেন, জন্মগতভাবে শিশুটির দুই হাত নেই। তবুও সে নিজেকে একজন যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলছে। প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও সে পা দিয়ে ছবি এঁকে উপজেলা ও জেলায় বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে। তার আঁকা ছবি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তাঁর নির্দেশেই জমিসহ পাকা ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন :