
অনলাইন ডেস্ক: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, দেশের চিকিৎসা সেবা নিয়ে নানা সমালোচনা ছিল এবং এখনো আছে। চিকিৎসা খাতের ঠিক কোন জায়গাটায় সমস্যা সেটি খুঁজে বের করতে আমরা এখন মাঠে নেমে গেছি। চিকিৎসা দিতে হবে চিকিৎসকদেরই। চিকিৎসা দিতে অবহেলা করা যাবে না।
তিনি বলেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আর কোনো সিন্ডিকেট থাকবে না। যারা বাধা সৃষ্টি করবে তাদের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। হাসপাতাল মানুষের সেবার জন্য। আমরা সেই সেবা নিশ্চিত করতে চাই। রংপুর এই বিভাগের সর্ববৃহৎ হাসপাতাল, সর্বোচ্চ আধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে। তারপরও মানুষ সেবা পাবে না তা হতে পারে না।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নবনির্মিত ১০০ শষ্যা বিশিষ্ট রংপুর শিশু হাসপাতাল উদ্বোধন চিকিৎসক ও নার্সদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব বলেন। পরে বিকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম প্রধান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এইসব তথ্য জানানো হয়।
জাহিদ মালেক বলেন, দেশের প্রান্তিক হাসপাতালগুলোতে সরেজমিন পরিদর্শন শুরু করেছি, রোগীদের সাথে ওয়ান টু ওয়ান কথা বলছি। মেশিন কয়টি আছে, কয়টি নষ্ট, কী কারণে নষ্ট, কোন চিকিৎসকরা ডিউটি ঠিকভাবে করেন, কারা করেন না এগুলো নিজে উপস্তিত থেকে তালিকা করে সাথে সাথেই ব্যবস্থা নিচ্ছি। দেশের ছয়টি বিভাগ পরিদর্শন শেষ করেছি। আর মাত্র দুটি বিভাগ বাকি আছে। এরপর দেশের সব হাসপাতালের ছোট-বড় খুটিনাটি সব বিষয় নিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন রকম কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নিজ নিজ হাসপাতালকে নিজ উদ্যোগে সংশোধিত করতে হবে, উন্নত করতে হবে। আর চিকিৎসা দিতে হবে দরদ দিয়ে। মানুষকে চিকিৎসা সেবা এমনভাবে দিবেন যেনো বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসা নিতে দেশের আর কোন মানুষকে বিদেশে যেতে না হয়, বরং বিদেশ থেকেই বাংলাদেশে চিকিৎসা নিতে বিদেশীদের আসতে হয়।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটিতে বেড সংখ্যা ১০০০ হলেও চিকিৎসা নেয় ২০০০ হাজারের বেশি মানুষ। হাসপাতালের পরিচ্ছিন্নতার অভাব রয়েছে। হাসপাতালের কিছু বিভাগে ভালো চিকিৎসা সেবা দেয়া হলেও বেশ কিছু বিভাগের গুরুতর ত্রুটি লক্ষ্য করেছি। এসব চলবে না। আরেকটি অবাক করা বিষয় হচ্ছে, এই হাসপাতালে প্রায় ছয় শত যন্ত্রপাতি থাকলেও এগুলোর মধ্যে সাড়ে চারশ'ই অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এটা তো মেনে নেয়া যায়না। হয় পুরাতন যন্ত্রপাতি দ্রুত মেরামত করতে হবে, নইলে নতুন মেশিন কিনতে হবে। কিন্তু সাড়ে চারশ মেশিন নষ্ট পড়ে থাকলে আপনারা (চিকিৎসক, নার্স) মানুষকে কী চিকিৎসা দেবেন? আমরা হাসপাতালে কী কী ওষুধ দেই আর রোগীদের কী কী ওষুধ আপনারা বাইরে থেকে কেনান এটা আমরা খুঁজে বের করছি। এরপর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী রংপুরের নির্মাণাধীন ১৫ তলা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক ক্যান্সার, কিডনি ও লিভার হাসপাতালের চলমান নির্মাণ কাজের পরিদর্শন করেন। নির্মান কাজ দ্রুততার সাথে করতে স্থানীয় প্রকৌশলী সহ সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
সভায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক এবিএম খুরশিদ আলমের সভাপতিত্বে অতিরিক্ত সচিব (হাসপাতাল) নাজমুল হক, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালক টিটু মিয়া, স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) প্রফেসর শামিউল ইসলাম, রংপুর বিভাগের বিএমএ সভাপতি ও রংপুর আওয়ামী লীগের আহবায়ক অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ বিমল চন্দ্র রায় বক্তব্য রাখেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শাহজাহান বিশ্বাস
অফিস : আরিচা, শিবালয়, মানিকগঞ্জ-১৮০০
মোবাইল : +৮৮০ ১৭১১ ৭৩৩ ৬৫১, ই-মেইল : sbnews74@gmail.com