
অনলাইন ডেস্ক: ভোট বর্জন করা বিএনপি ভোটারদের বিরত রাখবে। নির্বাচনের দিন তারা কেন্দ্রে যেতে মানুষকে নিরুৎসাহিত করবে। নেতাকর্মীরা হরতালের বিভিন্ন জায়গায় মিছিল পিকেটিং করবে। তবে কোনো সংঘাতে না জড়াতে নির্দশনা রয়েছে মাঠ পর্যায়ের নেতাদের কাছে। এমনকি প্রায় আড়াইমাস ধরে তালাবদ্ধ কার্যালয়মুখি হওয়ারও পরিকল্পনা নেই তাদের।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে বিএনপির ৪৮ ঘণ্টা হরতাল কর্মসূচি চলছে। সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টার এই হরতাল শুরু হয়েছে যা চলবে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত। সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুণঃপ্রতিষ্ঠার এক দফা দাবিতে একতরফা নির্বাচন বর্জন ও অসহযোগ আন্দোলনের পক্ষে বিএনপির শক্তিশালী মিত্র জামায়াতে ইসলামিসহ সমমনা দলগুলো এই হরতাল কর্মসূচি পালন করছে। অসহযোগের ডাক দিয়ে ৭ জানুয়ারি ভোট বর্জনের আহ্বানে গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে তিন দফায় টানা আট দিন গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করে বিএনপি। গত ২৮ অক্টোবর নয়া পল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে পণ্ড হয়ে যাওয়ার পর থেকে চার দফায় ৫ দিন হরতাল করেছে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। এছাড়া ১২ দফায় ২৩ দিন সারা দেশে সড়, রেল ও নৌপথে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে তারা।
জানা গেছে, ভোটের আগের রাতে বিএনপি তাদের করণীয় ঠিক করতে নীতি নির্ধারকদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করে। যেখানে লন্ডন থেকে অনলাইনে যুক্ত হন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ভোটের দিন নেতাকর্মীদের সতর্ক ও সজাগ থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শীর্ষ নেতারা মনে করছেন- ভোটের দিন নিজেদের মধ্যে গণ্ডগোল করে আওয়ামী লীগ দায় চাপাবে বিএনপির ওপর। তাই সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে। কোনো গোলযোগে না যাওয়ার পারমর্শও দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়।
গতকালের হরতাল বিএনপি নেতাকর্মীরা আগের চেয়ে ব্যাপকহারে মাঠে নামে। কর্মসূচি সফলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতাকার্মীরা। সেখান থেকে দুই জডন নেতাকর্মীর গ্রেফতারের খবর পাওয়া গেছে। ভোটের দিন বিএনপি কি করবে? জবাবে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান সময়ের আলোকে বলেন, আমরা তামাশার ভোট প্রতিহত করব না। আমরা কঠোর হলে সরকার বিভিন্নভাবে ফায়েদা লোটার চেষ্টা করবে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যাব। ভোটের দিন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ও তাদের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে সংঘাত হবে। জনগণ সব কিছু জেনেই ভোটদানে বিরত থাকবে। ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দাকার আবু আশফাক সময়ের আলোকে বলেন, আমরা ভোটের দিন ভোটারদের নিরুৎসাহিত করব। হরতাল কর্মসূচি পালন করব। আশা করছি জনগণ ভোট দিতে যাবে না। আমাদের ডাকে সাড়া দিবে। ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নাছির উদ্দিন নাছির সময়ের আলোকে বলেন, আমরা আগের চেয়ে সক্রিয় থাকব ভোটের দিন। মিছিল পিকেটিং হবে বিভিন্ন মোড়ে। তবে কার্যালয়মুখি হওয়ার কোন নির্দেশনা নেই।
শনিবার সকাল থেকে ৪৮ ঘণ্টা হরতালের শুরুতে শাহবাগ এলাকায় ঝটিকা মিছিল করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ২০/৩০ জন নেতাকর্মীকে নিয়ে শাহবাগ সড়কে পরীবাগের মোড় থেকে মিছিল বের করেন তিনি। নির্বাচন বিরোধী স্লোগান দিয়ে কিছুক্ষণ পর তারা সেখান থেকে চলে যান। ওই সময়ে নেতাকর্মীরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভও দেখান। এ সময় বেনাপোল এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নি সন্ত্রাসের ঘটনায় সরকারকে দোষারোপ করে রিজভী বলেন, একতরফা নির্বাচন আয়োজন করতে গিয়ে সরকার পুরনো খেলায় মেতে উঠেছে। তার ভাষ্য, আগেও অগ্নিসন্ত্রাসের নারকীয় তাণ্ডব চালিয়ে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করেছিল। বেনাপোলে এক্সপ্রেস ট্রেনে অগ্নিকাণ্ড এবং হতাহতের ঘটনা সরকারি সেই পুরনো খেলার অংশ বলে জনগণ বিশ্বাস করে। পাশাপাশি বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের আগুনের ঘটনাকে দুরভিসন্ধিমূলক অভিহিত করে জাতিসংঘের মাধ্যমে তদন্তের দাবি করেছে বিএনপি। ওই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে শনিবার সকালে দলটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
হরতালের দিনে দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ করে গণতন্ত্র মঞ্চ। সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীদের একটি মিছিল ওই এলাকা প্রদক্ষিণ করে। মঞ্চের নেতারা বলেছেন, জনগণ ভোটকেন্দ্রে গেলে বর্তমান শাসন দীর্ঘায়িত হবে। রোববারের ভোট বর্জনের আহ্বানে এই সমাবেশে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ভোট কেন্দ্রে যাওয়া মানে এই চোর, এই লুটপাটকারী, খুনি-মাফিয়া-সন্ত্রাসী ওদের ‘অবৈধ-দখলদারিত্বকে আরও সেখানে দীর্ঘায়িত করার সহযোগী হওয়া। মঞ্চের সমন্বয়ক ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, সরকার নানা রকম ষড়যন্ত্র করছে, নানাভাবে নাশকতার করে তার দায় বিরোধী দলের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। সভাপতির বক্তব্যে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ৭ জানুয়ারির পরে নতুন পর্যায়ে নতুন কর্মসূচি নিয়ে গণতন্ত্র মঞ্চ নতুন লড়াই, নতুন সংগ্রামের সূচনা করবে।
বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, গণঅধিকার পরিষদ, গণফোরাম-পিপলস পার্টি, এলডিপি, লেবার পার্টিসহ বিভিন্ন সংগঠন আলাদা আলাদাভাবে তোপখানা রোড ও বিজয় নগর সড়কে মিছিল করে ভোট বর্জনের আহ্বান জানায়।
রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নির্বাচনের আগের দিন শনিবারও তালা ঝুলেছে। কার্যালয়ের সামনে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিয়ে রয়েছেন। বিএনপির কার্যালয়ের পশ্চিম দিকে কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল মোড়েও পুলিশের অবস্থান ছিল। সামনের সড়কে গাড়ি নিয়ে টহল দেয় পুলিশ। গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশ পণ্ড হয়ে যাওয়ার পর থেকেই দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলছে। ২৮ অক্টোবরের পর থেকে বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সবশেষ শুক্রবার মধ্যরাতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নবী উল্লাহ নবীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কার্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায়, নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা যেসব চিঠি এত দিন ফটকের ভেতরের অংশে প্লাস্টিকের চেয়ারে ছিল, সেগুলো নেই। নয়াপল্টন ও এর আশপাশের এলাকায় দলটির নেতা-কর্মীদের কাউকে দেখা যায়নি। সুত্র: সময়ের আলো
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শাহজাহান বিশ্বাস
অফিস : আরিচা, শিবালয়, মানিকগঞ্জ-১৮০০
মোবাইল : +৮৮০ ১৭১১ ৭৩৩ ৬৫১, ই-মেইল : sbnews74@gmail.com