
শাহজাহান বিশ্বাস: মানিকগঞ্জের শিবালয়ে বাজার থেকে বোরো ৫৮-জাতের ধান বীজ কিনে কৃষকদের অনেকেই এবার প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্যাকেটের গায়ে উচ্চ ফলনশীল ভিত্তি বীজ ব্রি ধান-৫৮ লেখা থাকলেও রোপনের পর হয়েছে অন্য ধান।তাও আবার পাঁচ মিশালী, এগুলো কি জাতের ধান তাও বলতে পারছেন না কৃষকরা।কৃষি কর্মকর্তারা এ অভিযোগ গুরুত্ব না দিয়ে, দায় চাপাচ্ছেন কৃষকদের ঘাড়ে। তারা বলছেন, দেরিতে রোপন এবং জমিতে সঠিকভাবে সার, কিটনাশক প্রয়োগ করা হয়নি বলে ধান দেরিতে পাকা, চিটাসহ নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে ।এতে আরিচা কাশাদহ সেচ প্রকল্পসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।ভবিষ্যতে যাতে বীজ নিয়ে এ ধরনের প্রতারণার শিকার না হন, সে ব্যাপারে সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।
শিবালয় উপজেলার শিবালয় ও তেওতা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকার ভুক্তভোগী কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, যমুনা নদী বেষ্ঠিত ঘেরা এ অঞ্চলের জমিগুলো নীচু হওয়ায় বোরো আবাদে একটু দেরী হয়। এতে আগাম বর্ষায় ধান তলিয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে। এদিকে ৫৮-জাতের ধান অন্যান্য ধানের চেয়ে ২০/২৫ দিন আগে কাটা যায় এবং ফলনও ভাল হয়। তাই এ এলাকার বিশেষ করে শিবালয় উপজেলার কৃষকরা প্রতি বছরের মতো এবারও ব্রি-৫৮ জাতের ধান আবাদের দিকে ঝুকে পড়েছিল। কিন্তুু যে আশায় আবাদ করা হয়েছিল সে গুড়ে বালি। জমিতে রোপনের পর ব্রি- ৫৮ জাতের ধান না হয়ে, হয়েছে অন্য জাতের এবং পাঁচ মিশালী। একই সাথে আবাদ করার পর কিছু জমির ধান এখনও কাঁচা রয়েছে। কিছু ধান অনেক আগেই পেকে নষ্ট হয়ে গেছে। আবার কিছু ধান কেবল ফুলে বের হয়েছে, কিছু ধান দানা বাধছে, কিছু ধান আধাপাকা হয়েছে। এসব জমির ধান কাটা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। এতে ফলন হ্রাসের আশংকা করছেন তারা।
[caption id="attachment_6487" align="alignnone" width="300"]
শিবালয়ে একই সাথে ব্রি-৫৮ ধান আবাদ করে কোনটা ২০/২৫দিন আগে কাটা হয়েছে। কিছু জমির ধান এখনও কাঁচা রয়েছে।[/caption]
বড় আনুলিয়া গ্রামের কৃষক মো. বাহের শেখ বলেন, সে বাজার থেকে ব্রি-৫৮জাতের ধানের বীজ এনে রোপন করেছিলেন। এবার তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। এর মধ্যে ২ বিঘা জমির ধান হয়েছে পাঁচ মিশালী। এসব জমির কিছু, কিছু ধান অনেক আগেই পেকেছে। আবার কিছু ধান কেবল দানা ধরেছে এবং আধাপাকা অবস্থায় রয়েছে। যে করণে ধান কাটা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তিনি।
ছোট আনুলিয়া গ্রামের কৃষক মোকছেদ আলী বলেন, আগে কাটা যায় এবং ফলন ভাল হয় বলে তিনি বাজার থেকে ব্রি-৫৮জাতের ধান বীজ ক্রয় করে জমিতে রোপন করেন। প্যাকেটের গায়ে লেখা আছে উচ্চ ফলনশীল ধান বীজ, গাজীপুর সীড কোম্পানী, নীতু সীড কোম্পানী, ভিত্তি বীজ ব্রিধান-৫৮। কিন্তু রোপনের পর তা হয়নি। ২৯ না কি জাতের ধান হয়েছে তা তিনি বলতে পারছেন না।
জমদিয়ারা গ্রামের কৃষক মো. রুপ চাঁন বলেন, তিনি বাজার থেকে ভিত্তি ৫৮-জাতের বীজ কিনে এনে জমিতে রোপন করেন। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। বীজের প্যাকেটের গায়ে লেখা রয়েছে ‘নিউ ফোর ব্রাদার্স’ ভিত্তি ব্রি ধান ৫৮ জাত এবং উচ্চ ফলনশীল ধান বীজ ‘গাজীপুর সীড কোম্পানী’ ভিত্তি বীজ ব্রি-ধান ৫৮। এ জাতের ধান আরো ২০/২৫দিন আগে কাটা হয়েছে। আমার ধান কেবল মাত্র দানা হয়ে পাক ধরেছে। এগুলোর ফলন বেশী ভাল হবে না বলে তিনি জানান।
[caption id="attachment_6484" align="alignnone" width="300"]
শিবালয়ে ব্রি-৫৮ ধান আবাদ করে আগে-পড়ে পাক ধরায় ধান কাটা নিয়ে বিপাকে কৃষকরা।[/caption]
শিবালয় কাশাদহ পানি ব্যাবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান জানান, তার সেচ প্রকল্পের কৃষক আফেকুল, আজিজ গায়ান, বারেক গায়ান, হারুন গায়ান, ফারুক হোসেন টিটু, যুবরাজ,বাবলু, জামাল,ইমান,বাচ্চু,বাশার, লালন, মানু, সায়েদুর, আনন্দ হলদার, ইয়াকুব আলী, পিয়ার আলী এবং ছাবের আলীসহ অনেক কৃষকই ব্রি-৫৮ জাতের বীজ কিনে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। কৃষকরা যাতে আর এ রকম প্রতারণার শিকার না হন সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগসহ সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
এব্যাপারে শিবালয় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ রিয়াজুর রহমান বলেন, শিবালয়ের কিছু কিছু এলাকায় দেরিতে আবাদ করা হয়েছে বলে ধান পাকতে এবং কাটতে দেরি হয়েছে। এছাড়া কৃষকরা সঠিকভাবে সময়মতো সার ও কিটনাশক প্রয়োগ করতে পারেনি বলে ধানের এ এরকম অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে বলে তিনি ধারনা করছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শাহজাহান বিশ্বাস
অফিস : আরিচা, শিবালয়, মানিকগঞ্জ-১৮০০
মোবাইল : +৮৮০ ১৭১১ ৭৩৩ ৬৫১, ই-মেইল : sbnews74@gmail.com