অনলাইন ডেস্ক: একসময় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থেকেও মৃত্যুকে হার মানিয়ে ছিলেন তিনি। কিন্তু জীবনের দীর্ঘ সংগ্রামের শেষে সেই নাসিমা বেগম আরেকটি দুর্ঘটনায় হারালেন নিজের জীবন। রানা প্লাজা ধস থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা এই নারী এবার প্রাণ হারালেন পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনায়।
নাসিমা বেগম (৪০), যিনি একসময় জীবনের সঙ্গে লড়াই করে ফিরে এসেছিলেন, এবার আর ফিরে আসতে পারলেন না। তার মৃত্যু শুধু একটি দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান নয়- এটি সংগ্রামী জীবনের এক করুণ সমাপ্তি।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে তিনি আবারও রাজধানীমুখী হন। গত ফেব্রুয়ারিতে সাভারে আত্মীয়ের বাসায় থেকে কাজ খুঁজছিলেন, কিন্তু দীর্ঘ চেষ্টা করেও কোনো কর্মসংস্থান জোটেনি। পরে ঈদ উপলক্ষে স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটাতে যান ফরিদপুরে।
ঈদের পর ঢাকায় ফেরার পথে ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় যাত্রীবাহী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এতে নাসিমা, তার অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি, ভাগনির ছোট সন্তানসহ তিনজনের মৃত্যু হয়। যদিও ভাগনির স্বামী জীবিত উদ্ধার হন।
দীর্ঘ উদ্ধার তৎপরতার পর রাতের দিকে নাসিমাসহ নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্য যেন পিছু ছাড়েনি- লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সও পরে কুষ্টিয়া এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে, যা স্বজনদের শোককে আরও গভীর করে তোলে।
নাসিমার জীবনের গল্প ছিল সংগ্রাম আর টিকে থাকার প্রতীক। রানা প্লাজা ধসের ধ্বংসস্তূপে তিন দিন আটকে থেকেও বেঁচে ওঠা সেই নারী শেষ পর্যন্ত হার মানলেন আরেকটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার কাছে।
গ্রামের বাড়িতে এখন নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একের পর এক দুর্ঘটনায় প্রিয়জন হারিয়ে পরিবারটি যেন নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। নাসিমার জীবন যেন মনে করিয়ে দেয়- কিছু গল্প বেঁচে থাকার নয়, বরং সংগ্রামের মধ্যেই শেষ হয়ে যাওয়ার।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শাহজাহান বিশ্বাস
অফিস : আরিচা, শিবালয়, মানিকগঞ্জ-১৮০০
মোবাইল : +৮৮০ ১৭১১ ৭৩৩ ৬৫১, ই-মেইল : sbnews74@gmail.com