
নিজস্ব প্রতিবেদক:মানিকগঞ্জের কালীগঙ্গা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ ও সড়কের ওপরে বসানো ড্রেজারের পাইপ অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের বড় বারইল গ্রামে ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন করা হয়।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, নবগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির নামধারী কর্মী রাজু এই ড্রেজারের পাইপ বসিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় দুই মাস আগে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন নবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী হাসান আল মেহেদী সুহাসের নেতৃত্বে রাজু এই কালিগঙ্গা নদীতে ড্রেজার বসায়। ওই সময় নবগ্রাম এলাকায় বালু ফেলার জন্য ইউনিয়নের বড় বারইল গ্রামের সরকারি সলিংয়ের রাস্তার উত্তর পাশ দিয়ে পাইপ বসায়। তখন এলাকাবাসী তাদের মৌখিকভাবে বাধা দিলেও কোনো প্রতিকার পাননি। বরং পাইপ বসানোর সময় বাধা দেওয়ায় ওই গ্রামের অনেককেই প্রাণ নাশের হুমকিসহ নানাভাবে হয়রানি করা হয়।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনে ইউপি চেয়ারম্যান আত্মগোপনে চলে যায়। এর পর থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলার কাজ বন্ধ থাকে।
তবে সম্প্রতি রাজুসহ কয়েকজন নামধারী বিএনপির কর্মীরা আবারও অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের পায়তারা করছে। দীর্ঘদিন রাস্তার পাশে পাইপ বিছানো থাকায় চলাচল করতে অসুবিধা হচ্ছে বলে জানায় এলাকাবাসী।
নিজেকে বিএনপির লোক দাবি করা রাজু পটপরিবর্তনের আগে আওয়ামী লীগের ইউপি চেয়ারম্যান সুহাসের সঙ্গে মিছিল-মিটিংসহ নানান কমসূচিতে অংশ নিয়েছে।
মানববন্ধনে ইলিয়াস দেওয়ান ও শাহিন হোসেন জানান, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন রাজু চেয়ারম্যানের মদদে নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসায় এবং আমাদের বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে পাইপ বসায়। এখন আবার বিএনপির নাম ভাঙিয়ে রাজু আবারও একই কাজ করছে। আমাদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। পাইপ থাকার কারণে প্রতিদিনই ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা খেলতে গিয়ে ব্যথা পাচ্ছে। এলাকার কেউ অসুস্থ হলে তাকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার জন্য একটা অ্যাম্বুলেন্স আনা যায় না।
ওই গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা মিজানুর রহমান জানান, বড় বারইল গ্রামের প্রায় ২৫-৩০ জন স্থানীয় বাসিন্দা আছেন যারা অটোবাইক চালিয়ে সংসার চালায়। দুই মাসের বেশি সময় ধরে তাদের অটোবাইকগুলো বাড়ি আনতে পারছেন না। প্রতিদিন ১৫০-২০০ টাকা ভাড়া দিয়ে গ্যারেজে অটোবাইকগুলো রাখতে হচ্ছে। সরকারি রাস্তার ওপরে তারা পাইপ বসিয়েছে। বর্তমান সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে দ্রুত ড্রেজারের পাইপগুলো সরানোর জোর দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে দেওয়ান রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মাসুদ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে আমি ১০ টাকা ৫৯ পয়সা চুক্তিতে চার লাখের বেশি ঘনফুট বালু ফেলার চুক্তি করেছি। এছাড়াও আমার চাচাতো ভাইয়ের কেনা একটি পুকুর ভরাট করব। বালু মাটি আনা হবে বাল্কহেডে করে। নদীর পাড় থেকে বালু বাল্কহেট থেকে আনলোড করা হবে। আমি তো নদী থেকে সরাসরি বালু উত্তোলন করছি না।
তার রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, পারিবারিকভাবে আমরা বিএনপি সমর্থন করি। তবে আমার কোনো পদ-পদবি নেই। বিএনপির নাম ভাঙিয়ে বালু ব্যবসা করছেন এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা বিএনপি পরিবার। আমার বাসায় জিয়াউর রহমান এসেছেন। ড্রেজারটা আমার নয় মাসুদের।
ড্রেজার ও পাইপের বিষয়ে জানতে মাসুদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।
সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) লিটন ঢালী বলেন, এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা প্রশাসন সবসসয়ই জনস্বার্থে কাজ করে থাকে বলে তিনি জানান।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শাহজাহান বিশ্বাস
অফিস : আরিচা, শিবালয়, মানিকগঞ্জ-১৮০০
মোবাইল : +৮৮০ ১৭১১ ৭৩৩ ৬৫১, ই-মেইল : sbnews74@gmail.com