
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মঈন খান বলেছেন, মানব সমাজ পরিবর্তনশীল। এই পরিবর্তনের সঙ্গে সবাইকে খাপ খাইয়ে চলতে হবে। যে তাল মিলিয়ে চলতে না পারবে, তাকে কিন্তু ছিটকে পড়তে হবে, যেমনটা এখন আওয়ামী লীগ পড়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবিধান সংস্কারে আয়োজিত ‘মানবিক, গণতান্ত্রিক, কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের ঐক্যবদ্ধ হোন’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন মঈন খান।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের চেয়ে বড় গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল দেশে নেই। কিন্তু তারা গণতন্ত্রের কথা বলে দেশকে ধ্বংস করেছে। নিজেদের স্বৈরাচারী শাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। গণতন্ত্রের মুখোশ পরে স্বৈরশাসকে অবতীর্ণ হয়েছে। পরে আবার গণঅভ্যুত্থানে তারা হারিয়ে গেছে।
বিএনপি নেতা মঈন খান বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর আমাদের মূল উদ্দেশ্য কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। যে কাজগুলো আমাদের করা প্রয়োজন সে কাজগুলো আমাদের করতে হবে। আমাদের উদ্দেশ্য যদি সৎ হয়, আমরা যদি সত্যিকারে জনগণের মঙ্গলে কাজ করতে চাই তাহলে এ কাজ করতে কোনো বাধা আসবে না। তিনি বলেন, ’৭১ এ মুক্তিযুদ্ধ এবং ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে যারা অংশ নিয়েছেন তারা পরস্পরবিরোধী নয়। তারা একে অপরের পরিপূরক। সংঘাতের রাজনীতিতে বাংলাদেশের কোনো উন্নতি হবে না।
তিনি বলেন, সংবিধানের জন্য জনগণ নয়, জনগণের জন্য সংবিধান। এই কথাটি যদি আমরা অন্তর থেকে বিশ্বাস করি, তাহলে আজ যে প্রশ্নটি এসেছে, সংবিধান পুনর্লিখন অথবা সংশোধনের মধ্যে আমি কোনো সংঘাত দেখতে পাই না। কারণ আমাদের মূল উদ্দেশ্য তো সংবিধান নয়, আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণ। কাজেই জনগণের কল্যাণের জন্য যা কিছু প্রয়োজন আমরা সেটাই তো করব। প্রয়োজনে সংবিধান পুনর্লিখন অথবা সংশোধন করব। এটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়।
ড. মঈন বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এমন একটি সিস্টেম তৈরি করা, যে সিস্টেমের মাধ্যমে আমরা একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা সৃষ্টি করব, যে রাষ্ট্রব্যবস্থা জনগণের জন্য মঙ্গলজনক হবে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে একটি কল্যাণরাষ্ট্র সৃষ্টি করা। সেই কল্যাণরাষ্ট্র সৃষ্টি করার জন্য যে কাজগুলো করা প্রয়োজন, সেই কাজগুলো আমরা করব। সেটা যেই পদ্ধতিতেই হোক না কেন। আমি মনে করি, আমাদের উদ্দেশ্য যদি সঠিক হয়, সৎ হয় এবং সত্যিকার অর্থে যদি আমরা জনগণের মঙ্গলের জন্য কাজ করতে চাই, তাহলে পদ্ধতি কোনো বাধা হয়ে থাকতে পারে না।
সভাপতির বক্তব্যে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমরা এমন একটি নির্বাচন চাই, যেই নির্বাচন সবাই আনন্দের সাথে গ্রহণ করে পারবে। এই রকম একটি নির্বাচনে সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে, দেশে গণতন্ত্রের একটি মূল্যবোধ আসবে। এটার ওপর দাঁড়িয়ে আমরা একটি গণতান্ত্রিক দেশ তৈরি করতে পারবো। তার মানে মূল কাজ হচ্ছে নির্বাচন করতে হবে।
সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমম্বয়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম প্রমুখ।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শাহজাহান বিশ্বাস
অফিস : আরিচা, শিবালয়, মানিকগঞ্জ-১৮০০
মোবাইল : +৮৮০ ১৭১১ ৭৩৩ ৬৫১, ই-মেইল : sbnews74@gmail.com