
অনলাইন ডেস্ক: টাঙ্গাইলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে “স্কুল পর্যায়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা”(স্লিপ) খাতে বরাদ্দকৃত সরকারি টাকা সঠিকভাবে ব্যয় না করার অভিযোগ উঠেছে। ফলে তৃণমূলে অবৈতনিক সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। টাঙ্গাইলের গোপালপুর, মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলায় ৩৫২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী প্রায় ৪৭ হাজার। প্রতি বছর এসব বিদ্যালয়ে স্লিপ খাতে শিক্ষা অধিদপ্তর প্রায় আড়াই কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে থাকে।
এ টাকা ব্যয়ের নির্দেশিকায় বলা হয়, শিশুদের আনন্দঘন পরিবেশে পঠনপাঠনের জন্য নান্দনিক দৃশ্যপট তৈরি’ শ্রেণীকক্ষ সুসজ্জিতকরণ, খেলাধুলার সামগ্রী ক্রয়, ভবন রংকরণ, টয়লেট পরিস্কারকরণ, মা সমাবেশ এবং বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমে দীক্ষা দেয়া। কিন্তু বিগত তিন বছরে বিশেষ করে করোনাকালে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় স্লিপখাতের প্রায় ৬ কোটি টাকা যখাযথভাবে ব্যয় হয়নি। ভূয়া বিল ভাউচার দিয়ে ভাগ বন্টনের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
গোপালপুর উপজেলার হাজরাবাড়ী, বড়কুমুল্লী, পাকুটিয়া, দিঘলআটা, পঞ্চাশ, মাহমুদপুর, পলশিয়া, পোড়াবাড়ী, দক্ষিণ গোপালপুর, জোতবাগল, নন্দনপুর, সাহাপাড়া, চাতুটিয়া, পশ্চিমমাকুল্লা, মৌজাডাকুরী, কড়িয়াটা,ছোটশাখারিয়া, সোনামুই, ভাদাই, হেমনগর ও হেমনগর বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধনবাড়ী উপজেলার পাইস্কা, বন্দচরপাড়া, কদমতলী, কয়া, পানকাতা, সয়া, বলিভদ্র, গাড়াখালি, দড়িচন্দবাড়ী, কাঠালিয়াবাড়ী, প্যারীআটা, থোড়া, পঞ্চাশী, হাজরাবাড়ী, নরিল্লা, ধোপাখালি, বানিয়াজান ও কদমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং মধুপুর উপজেলার ৩৫টির বেশি স্কুলে অনিয়ম হয়েছে।
সাবেক প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমান বলেন, স্লিপ বরাদ্দের টাকা নয়ছয় ওপেন সিক্রেট। কোন কোন স্কুলে বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, ভাষা দিবস এমনকি ১৫ আগস্টে শোক দিবস পালিত না হলেও ভূয়া বিল ভাউচারে হাজার হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়। স্লিপের টাকায় কেনাকাটার ভাউচরের সাথে দোকানের ভাউচার বইয়ের মুডির মিল পায়নি কর্তৃপক্ষ।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার সাগর আহমেদ বলেন, করোনাকালিন সরকারি স্কুল বন্ধ রাখায় এখানকার প্রায় ৩৫% শিক্ষার্থী ঝরে গেছে। কোন কোন স্কুলে শিক্ষার্থী ১০/১২ জনে নেমে যাওয়ায় শিক্ষা অধিদপ্তর স্লিপখাতের টাকা যথাযথভাবে ব্যয় করে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করার তাগিদ দিয়েছে। কিন্তু সবই অরণ্যেরোদন।
শতাধিক বিদ্যালয় পরিদশর্নে দেখা যায়, স্কুলে ওয়াশরুম নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন। সাবান, স্যান্ডেল নেই। আসবাবপত্র ও শিক্ষা সরঞ্জাম ভাঙ্গাচোরা, ক্লাসরুম আর ভবনের রং চটে গেছে। অথচ প্রতিবছরই এসব কেনা, মেরামত, সংস্কারের নামে লক্ষ লক্ষ টাকার ভাউচার পাশ হয়েছে।
টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অনিয়মের অভিযোগে গোপালপুর ও ধনবাড়ী উপজেলার ৬ প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। আরও দুই ডজন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ধনবাড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, কিছু স্কুলে স্লিপের টাকায় ঠিকঠাক কাজ হয়নি।
ধনবাড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মনিরুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সরেজমিন স্কুল পরিদর্শনকালে স্লিপসহ খাতে বেশকিছু অনিয়ম পেয়েছেন।
গোপালপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মফিজুর রহমান জিন্না বলেন, এসব অভিযোগ উর্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।
মধুপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শফিকুল ইসলাম খান বলেন, স্লিপখাতের টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ তিনি পাননি। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের উপসচিব ড. বিলকিস বেগম গত ২২ ফেব্রুয়ারি এক পত্রে তদন্তের স্বার্থে টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে স্লিপখাতের টাকা ব্যয়ে অনিয়ম অভিযোগের নথি সংরক্ষনের নির্দেশ দিয়েছেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম আজাদ অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা। অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সুত্র: বাংলাদেশ বুলেটিন
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শাহজাহান বিশ্বাস
অফিস : আরিচা, শিবালয়, মানিকগঞ্জ-১৮০০
মোবাইল : +৮৮০ ১৭১১ ৭৩৩ ৬৫১, ই-মেইল : sbnews74@gmail.com