অনলাইন ডেস্ক: পৃথিবীর ভূতত্ত্ব, বায়ুমণ্ডল ও জীবজগতে বড় রকমের পরিবর্তন হয়েছে, জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, মানুষের নানা কর্মকাণ্ড ও তৎপরতার কারণে এই মৌলিক পরিবর্তন ঘটেছে। পরিবর্তনের ব্যাপকতায় পৃথিবী নতুন এক ভূতাত্ত্বিক যুগে প্রবেশ করেছে। একে অ্যানথ্রোপোসিন বা নৃতাত্ত্বিক যুগ নামে ডাকা হচ্ছে।
মঙ্গলবার অ্যানথ্রোপোসিন ওয়ার্কিং গ্রুপের (এডব্লিউজি) বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, প্রায় ৭০ বছর আগে ১৯৫০ সালের দিকে এ যুগের সূচনা হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অন স্ট্রাটিগ্রাফি ভূতাত্ত্বিক যুগের নামকরণ করে। তারা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যানথ্রোপোসিন যুগের স্বীকৃতি দেয়নি। তাদের বিবেচনায় বর্তমানে হলোসিন ভূতাত্ত্বিক যুগ চলছে। ১১ হাজার ৭০০ বছর আগে বরফযুগ শেষ হওয়ার পর এ যুগের সূচনা হয়েছিল।
কানাডার অন্টারিও প্রদেশে অবস্থান ক্রফোর্ড হ্রদের। আকারে ছোট হলেও এর গভীরতা অনেক। এর তলানিতে জমে থাকা পলি বিশ্লেষণ করেছেন বিজ্ঞানীরা। তারপর তারা বলছেন, পৃথিবীর নতুন একটি ভূতাত্ত্বিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। অ্যানথ্রোপোসিন যুগের স্বীকৃতি নিশ্চিতে এবার গবেষণার তথ্যপ্রমাণ ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অন স্ট্রাটিগ্রাফিতে জমা দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন বিজ্ঞানীরা।
ক্রফোর্ড ছাড়াও বিজ্ঞানীরা বিশ্বের আরও ১১টি জায়গায় গবেষণা চালিয়েছিলেন। পানির তলদেশ ও অন্যান্য জায়গার পলির স্তরগুলো গবেষণা করে পরিবেশগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। বিজ্ঞানীরা ওইসব জায়গার পলি, মাটি, প্রবাল ও বরফের নমুনা পরীক্ষা করেছেন।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, টরন্টোর কাছে ক্রফোর্ড হ্রদে অ্যানথ্রোপোসিন যুগের সবচেয়ে সুনির্দিষ্ট আলামত মিলেছে। এর গভীরতা বেশি হওয়ার কারণে তলদেশে পলিমাটিতে জমে থাকা প্রমাণগুলো নষ্ট হয়ে যায়নি। আর ওইসব আলামতই ইঙ্গিত দিচ্ছে, ৭০ বছর আগে অ্যানথ্রোপোসিন যুগ বা মনুষ্যসৃষ্ট ভূতাত্ত্বিক যুগের সূচনা হয়েছে।
এডব্লিউজির চেয়ারপারসন ও যুক্তরাজ্যের লিচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কলিন ওয়াটারস। তিনি মনে করেন, পঞ্চাশের দশকে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার কারণে যে প্লুটোনিয়াম (ইউরেনিয়াম থেকে গঠিত মৌল পদার্থ) জমা হয়েছে, সেগুলো থেকে অ্যানথ্রোপোসিন যুগের সূচনাপর্বের প্রমাণ বেশ স্পষ্ট।
এর পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানি ও সার ব্যবহারের পরিমাণ বেড়ে গেছে। জমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন হয়েছে। ঘটেছে কৃষি ব্যবসার বিস্তার, যার কারণে জীববৈচিত্র্য কমে গেছে। এসবও নতুন যুগের সূচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ওয়াটারস বলেন, ‘স্পষ্টত এ গ্রহের জীবতত্ত্বের দ্রুত পরিবর্তন হয়েছে। আমরা এখন আর হলোসিন অবস্থায় ফিরে যেতে পারি না।’
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শাহজাহান বিশ্বাস
অফিস : আরিচা, শিবালয়, মানিকগঞ্জ-১৮০০
মোবাইল : +৮৮০ ১৭১১ ৭৩৩ ৬৫১, ই-মেইল : sbnews74@gmail.com