
অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকায় ফিল্মি স্টাইলে ডাচ বাংলা ব্যাংকের সোয়া ১১ কোটি টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭ টায় উত্তরা ১৬ নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর সন্ধ্যায় ৯ কোটি টাকাসহ মিরপুর ডিওএইচএসের সিকিউরিটি কোম্পানি মানি প্ল্যান্ট প্রাইভেট লিমিটেডের দুই পরিচালকসহ ৭ জনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডিবি পুলিশকে আটকরা জানায়, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায়। তবে ছিনতাইয়ের সময় কোনও অস্ত্র ব্যবহার করেননি তারা। ৪টি ট্রাঙ্কের মধ্যে তিনটি ট্র্যাঙ্ক উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশীদ।
তিনি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খিলক্ষেতের হোটেল লা মেরিডিয়ানের সামনে সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ দুর্বৃত্তদের ধরতে মাঠে নামে। একপর্যায়ে ছিনতাইকারীদের মাইক্রোবাসকে শনাক্ত করে চালকসহ ও সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠানের দুই পরিচালকসহ ৭ জনকে আটক করে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
এর আগে ছিনতাইকারীদের কবলে পরা মিরপুর ডিওএইচএসের সিকিউরিটি কোম্পানি মানি প্ল্যান্ট প্রাইভেট লিমিটেডের মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো-চ ৫১-৬৫৭৯) জব্দ করেছে পুলিশ। গাড়িতে থাকা সিকিউরিটি কোম্পানির পাঁচজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পুলিশের উত্তরা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. বদরুল হাসান সময়ের আলোকে জানান, সকাল ৭ টার দিকে সিকিউরিটি কোম্পানির মাইক্রোবাসে করে মিরপুরের ডিওএইচএস থেকে সোয়া ১১ কোটি টাকা নিয়ে সাভারের ইপিজেড এলাকায় ডাচ বাংলা ব্যাংকের বিভিন্ন বুথের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। পথে উত্তরা দিয়াবাড়ি ১৬ নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর ব্রিজের পশ্চিম পাশে এক দল ছিনতাইকারী একটি কালো রঙের হায়েস মাইক্রোবাস নিয়ে সিকিউরিটি মাইক্রোকে সামনে গিয়ে গতিরোধ করে। এরপর ছিনতাইকারী দলের ১১ জন গাড়ি থেকে নেমে ৫ জনকে জিম্মি করে চার জনকে রাস্তায় মারধর করে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়। তখন গাড়িতে একজন ছিল। পরে ছিনতাইকারীরা সুবিধামত স্থানে নিয়ে সিকিউরিটির মাইক্রো গাড়িটির দরজা ভেঙে ৪টি ট্র্যাঙ্ক ভর্তি ১১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হায়েস গাড়িতে তুলে নিয়ে পালিয়ে যায়।
এডিসি বদরুল হাসান আরও বলেন, ঘটনাস্থলে কোনও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ না থাকলেও মিরপুরের কালশি থেকে বেশ কিছু সিসি ক্যামেরা ফুটেজ তারা উদ্ধার করেন। সেখানে প্রথমে ছিনতাইকারী দলের একজনকে শনাক্ত করা হয়। পরে গোয়েন্দা পুলিশ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছিনতাইকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালায়। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে কাজ করছে পুলিশ। সব মিলিয়ে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দিয়া বাড়ির ১১ নম্বর ব্রিজের দক্ষিণ পাশে বেরিকেট দেওয়া। উভয় পাশের গাড়ি চলাচল করে উত্তর পাশের রাস্তা দিয়ে। সকাল সাড়ে ৭ টায় যখন ঘটনা ঘটে তখন স্থানীয়রাও বিষয়টি টের পাননি। ঘটনার পর থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ, র্যাব, পিবিআই ও সিআইডির ক্রাইম সিনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন। তখন নিরাপত্তা জোরদার শুরু হয়।
ঘটনাস্থল থেকে ২০০ গজ পূর্বে ১৫ নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর ব্রিজের পূর্ব পাশের জসিম উদ্দিনের খাবার হোটেল। জসিম উদ্দিন বলেন, তিনি সকাল ৬ টায় হোটেল খুলেছেন। ব্রিজের ওপার হওয়ায় তারা বিষয়টি আঁচ করতে পারেন নি। সকাল ৯ টার দিকে যখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আসা শুরু করেন তখন বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি বলেন, যেখানে ঘটনা ঘটেছে সেখানে সকালে গাড়ি চলাচল খুব কম থাকে। নির্জন স্থান পেয়ে সেখানে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি ধারণা করে বলেন। তিনি বলেন, আমাদের কয়েকজনের কাছ থেকে পুলিশ জবানবন্দি নিয়েছেন। আমরা তাদের এই বক্তব্যই দিয়েছি।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ঘটনাস্থলে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ না থাকলেও মিরপুরের কালশি থেকে তারা বেশ কয়েকটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। সেখানে দেখা গেছে, কালো রঙের একটি হায়েস গাড়ি ওই মাইক্রোকে পেছন থেকে ফলো করছে। অনুসরণ করা গাড়িটি ছিনতাইয়ের কাজে জড়িত বলে ধারনা করছে পুলিশ। পরে ওই গাড়ির নম্বর মিলিয়ে দেখা যায় সেটি ভুয়া। হাইয়েস গাড়িতে যে নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে ওই নম্বরের মালিককে ফোন করলে তিনি বলেন, তার গাড়ি বাসার গ্যারেজেই রয়েছে।
টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা পরিকল্পিত জানিয়ে ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ বলেন, মানি প্ল্যান লিংক সিকিউরিটিজ কোম্পানি লিমিটেডের টাকা আনা-নেওয়ার বিষয়টি ছিনতাইকারীরা অনেক দিন ধরে ফলো করছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য ছিনতাইকারীদের হাতে ছিল না কোনো অস্ত্র।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় বেশ কয়েকজনের নাম পেয়েছি। মানি প্ল্যান লিংক সিকিউরিটিজ কোম্পানি লিমিটেডের দুজন পরিচালকসহ সাত জনকে আটক করা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের পর বিস্তারিত বলা যাবে। এদিকে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবুল কাশেম মো. শিরিন একটি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। তবে এতে আমাদের কোনো ক্ষতি হয়নি। কারণ টাকা বহন ও এটিএম বুথে জমার দায়িত্ব টাকা বহনকারী সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠানের। আবার এই টাকা বিমার আওতায় রয়েছে। ফলে এ নিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তার কিছু নেই।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শাহজাহান বিশ্বাস
অফিস : আরিচা, শিবালয়, মানিকগঞ্জ-১৮০০
মোবাইল : +৮৮০ ১৭১১ ৭৩৩ ৬৫১, ই-মেইল : sbnews74@gmail.com