
অনলাইন ডেস্ক: এডিপিতে অর্থ ব্যয় করার ক্ষেত্রে কৃচ্ছ্ব সাধন করতে হবে। অহেতুক বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ করতে হবে। তবে যে খরচ লাগবে তা বন্ধ করা হবে না।
বৃহস্পতিবার আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিতে গিয়ে তিনি এ নির্দেশ দেন। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সন্মেলন কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার বিষয়টি জানান। এ সময় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য দেন পরিকল্পনা সচিব সত্যজিৎ কর্মকার।
এম এ মান্নান জানান, জনগণের অর্থব্যয়ে আরও সাবধান হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আয়েশি, বিলাসী এবং অহেতুক খরচ বাদ দিতে হবে। প্রথাগতভাবে এসব ব্যয় ধরা হলেও এখন আর সেটি হবে না। নিজেদের আত্মমর্যাদা, আত্মসম্মান সমুন্নত করতে হবে। জনগণের অর্থ ব্যয়ে আমাদের আরও বেশি বেশি সাবধান, কৃচ্ছ্রসাধন করতে বলেছেন। ব্যয় বন্ধ করা হবে না। ব্যয় বন্ধ হলে অর্থনীতি অচল হয়ে যাবে। যেখানে দরকার সেখানে অবশ্যই ব্যয় করতে হবে।
কৃচ্ছ্রসাধনের কথা বলে মন্ত্রী বলেন, ইকোনমি, ইকোনমি, ইকোনমি, কৃচ্ছ্র, কৃচ্ছ্র, কৃচ্ছ্র। অবশ্যই এর লাগাম টেনে ধরতে হবে টাইট করে। কিন্তু ব্যয় করা হবে। এভরি পেনি সুড বি এক্সপেন্ড। টাকা ঘরে রেখে আমরা ঘুমাবো না। যেখানে নিয়ম ও আইন অনুযায়ী দরকার সেখানে ব্যয় করবো এবং যেখানে লাভ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। টাকায় না হোক সেবায় লাভ হয়, জনগণের তুষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী সরকারের আমলা, কর্মকর্তা ও মন্ত্রীসভার সদস্যদের অহেতুক বিদেশ সফর নিরুৎসাহিত করতে বলেছেন। আপনারা জানেন ইতোমধ্যে এটা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। আগামীতে আরও নিরুৎসাহিত করা হবে।
তিনি আরও জানান, রফতানির জন্য বিকল্প বাজার খোঁজার নির্দেশও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে যেসব গিট্টু আছে সেগুলো ছাড়াতে হবে। প্রধানমন্ত্রী এনইসিতে বলেছেন, আমরা নির্বাচন সামনে রেখে বিশেষ কোনো প্রকল্প নিই না। সবসময় নির্বাচনি ইশতেহারকে গুরুত্ব দিয়ে সারা দেশের উন্নয়নে প্রকল্প নিয়ে থাকি। দেশের স্বার্থেই প্রকল্প নেওয়া হয়।
আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকারে প্রধানমন্ত্রী সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দুঃসময়ের মধ্যেও সার্বিক বাজেট আমাদের পূর্বের তুলনায় বড়। আরও বড় হলে আমরা খুশি হতাম। নানা চাপ আছে, এর মধ্যেও আমরা বড় বাজেট করতে পেরেছি। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী সন্তুষ্টিবোধ করেছেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এখন থেকে বৈদেশিক ঋণকে সরাসরি ঋণ এবং অনুদানকে অনুদান বলা হবে। কোনো বৈদেশিক সহায়তা বলা হবে না। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে বলে এসেছেন, ‘আমরা ঋণ নিই এবং সুদসহ তা পরিশোধ করি। তাহলে এত শর্ত দেওয়া হয় কেন? এর পর এমন কোনো শর্ত দেবেন না যাতে প্রকল্প বাস্তবায়ন বাধাহগ্রস্ত হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কৃচ্ছ্বতা মানে খরচের লাগাম টেনে ধরতে হবে। তবে আমরা টাকা ঘরে নিয়েও শুয়ে থাকব না। যেখানে যা প্রয়োজন খরচ করব।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন, আইএমইডি সচিব আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন, জিইডির সদস্য ড. মো. কাউসার আহম্মেদ, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য আব্দুল বাকী, একেএম ফজলুল হক প্রমুখ।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শাহজাহান বিশ্বাস
অফিস : আরিচা, শিবালয়, মানিকগঞ্জ-১৮০০
মোবাইল : +৮৮০ ১৭১১ ৭৩৩ ৬৫১, ই-মেইল : sbnews74@gmail.com