
শাহজাহান বিশ্বাস:নৌপরিবহণ মন্ত্রনালয় এবং সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো.রাজিব আহসান বলেছেন, এবার পবিত্র ঈদুল আযহায় ঘরমুখো মানুষদেরকে নির্বিগ্নে তাদের প্রিয়জনদের কাছে পৌঁছে দেয়া এবং নিরাপদে কর্মস্থলে ফিরত নিয়ে আসার জন্য আমরা আমাদের সামর্থের সর্বোচ্চটুকো উজার করে দিয়ে চেষ্টা করে যাবো। সে লক্ষ্যেই অমরা আমাদের কর্মকর্তদেরকে কঠোর নির্দেশনা দিচ্ছি। এবার মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর পরিস্কার নির্দেশনা হচ্ছে যে জায়গায় যিনি প্রধান হিসেবে দায়ীত্বশীল থাকবেন, ওই জায়গার কোন ধরনের কোন অব্যবস্থাপনা, দুর্ঘটনা এবং কোন ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হলে তার জন্য সবার আগে ওখানার ওই প্রধানের বিরুদ্ধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।পাশাপাশি যারা দায়ী থাকবেন তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বৃহস্প্রতিবার (২১ মে) দুপুরে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথের ঈদ যাত্রার প্রস্তুতি দেখতে ফেরি ও লঞ্চ ঘাট এলাকা পরিদর্শনে শেষে পাটুরিয়া ঘাটে স্থানীয় সাংবাদিকতের এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, এবার ফেরিঘাটের পন্টুনের নিরাপত্তা বেষ্টনী উঁচু ও মজবুত করা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য ফেরি ঘাটে যাত্রীদের বাস থেকে নেমে ফেরিতে ওঠার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। নৌপথে চলাচলকারী যাত্রীদেরকে কোনো অবস্থাতেই নৌকা/ট্রলার হতে লঞ্চে উঠানামা না করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। কোনো নৌযান অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রতিটি লঞ্চে ডিজিটাল ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমান জায়গায় প্রদর্শন করতে হবে।
এছাড়া ঈদুল-আযহার পূর্বের ৫ (পাঁচ) দিন এবং পরের ০৫ (পাঁচ) দিন (২৩ মে হতে ০২ জুন ২০২৬ পর্যন্ত) দিনে-রাতে সার্বক্ষণিক বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। রাতের বেলায় স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
ঈদুল-আযহার পূর্বের ০৩ দিন এবং পরের ০৩ দিন (২৫ যে হতে ৩১ মে ২০২৬ পর্যন্ত) নিত্য প্রয়োজনীয় ও দ্রুত পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক ব্যতীত সাধারণ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ফেরিতে পারাপার বন্ধ রাখা হবে। তবে কোরবানির পশুবাহী ট্রাক ফেরি পারাপারের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। সদরঘাটে যাত্রীদের ব্যাগেজ/মালামাল বহনের জন্য নিয়মিত ট্রলি সেবা ও অসুস্থ ও বয়োবৃদ্ধ যাত্রীদের জন্য হইলচেয়ার এর ব্যবস্থা করা হবে।
সদরঘাটে যাত্রী চাপ কমানো এবং স্বস্তিদায়ক ও সহজ নৌযাত্রা নিশ্চিত করার জন্য ঢাকার মোহাম্মদপুরের বসিলা ঘাট থেকে এবং পূর্বাচল কাঞ্চন ব্রিজ সংলগ্ন শিমুলিয়া ঘাট হতে লঞ্চ সার্ভিস পরিচালনা করা হবে।কুড়িল বিশ্বরোড হতে শিমুলিয়া ঘাট পর্যন্ত বিআরটিসির শাটল বাস সার্ভিসের ব্যবস্থা করা হবে।
কোরবানির পশু বহনকারী নৌযানকে ঘাটে ভিড়ানোর জন্য কোনো ঘাটের ইজারাদার/তার লোক কর্তৃক টানাটানি করা যাবে না।এ জন্য কোরবানির পশুবাহী সকল নৌযানকে কোন ঘাটে পশু আনলোড করা হবে তা নৌযানে দৃশ্যমানভাবে ব্যানার টাঙিয়ে লিখে রাখতে হবে। নৌপথে চলাচলকারী যাত্রীগণকে কোনো জরুরি প্রয়োজনে ও সেবা সংক্রান্ত বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র হটলাইন নম্বর ১৬১১৩, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, সরকারি তথ্য ও সেবা ৩৩৩, ফায়ার সার্ভিস ১০২, কোস্ট গার্ড ১৬১১১, নৌপুলিশ ০১৭৬৯-৭০২২১৫, অপারেশন জিরো মিসিং ০১৩২০০০২১৭ নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানান।
এ সময় বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান রিয়ার এ্যাডমিরাল আরিফ আহম্মেদ মোস্তফা, নৌ-পরিবহণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিষা রাণী কর্মকার, বিআইডব্লিউটিসি’র পরিচালক বাণিজ্য এস,এম আশিকুজ্জামান, পরিচালক (কারিগরী) ক্যাপ্টেন মো. হাসেমুর রহমান ডিজিএম কর্মাস মো. শফিকুল ইসলাম, রিসার্চ অফিসার মো. সোলায়মান ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিআইডব্লিউটিসি এবং বিআইডব্লিউটিএ এর কর্মকর্তাবৃন্দ,পুলিশ প্রশাসনসহ স্পিডবোট ও লঞ্চ মালিক সমিতিসহ ঘাট সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা কর্মচারিরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শাহজাহান বিশ্বাস
অফিস : আরিচা, শিবালয়, মানিকগঞ্জ-১৮০০
মোবাইল : +৮৮০ ১৭১১ ৭৩৩ ৬৫১, ই-মেইল : sbnews74@gmail.com