শাহজাহান বিশ্বাস: আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে এবছর ভরা বর্ষা মৌসুম থেকেই পাঁচটি ড্রেজার দিয়ে পলি অপসারণের কাজ করছে বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং ইউনিট।এরপরও এ নৌপথের ফেরি সার্ভিস সচল রাখা কঠিণ হয়ে পড়েছে। নাব্যতা সংকটের কারণে গত শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে ২৪ ঘন্টার জন্য বন্ধ থাকে ফেরি।এসময় নদী পার হতে আসা পণ্যবাহী ট্রাকগুলো ঘাটে আটকে থাকে এবং দুর্ভোগে পড়েন এসব ট্রাকের শ্রমিকরা।
ড্রেজিং বিভাগের অপরিকল্পিত ও ধীরগতির ড্রেজিং এবং উক্ত নৌপথ থেকে পলি অপসারণে ব্যার্থতার কারণেই এ নাব্যতা সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।এতে ড্রেজিংয়ের নামে সরকারের কোটি, কোটি টাকা খরচ হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।সরকারকা মাল, দড়িয়ায় ঢাল, এ নৌপথের অবস্থা অনেকটা এমনই হচ্ছে বলে অনেকে মনে করছেন।
শনিবার সরেজমিনে আরিচা ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, ৩টি ছোট ফেরি দিয়ে যানবাহন পারা-পারের চেষ্ট করা হচ্ছে।তাও আবার ঝুকিপূর্ণ। আরিচা ঘাটের কাছে চ্যানেল শুরু হওয়ায়, ওয়ান ওয়ে পদ্ধতিতে ফেরি চলাচল করছে।এতে সময় লাগছে অনেক বেশী।ফলে ঘাটে পার হতে আসা গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন যানবাহন শ্রমিকরা।
এছাড়া স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বালু মহাল হিসেবে আরিচা ঘাট সংলগ্ন যমুনা নদী এলাকার কিছু অংশ আরিচা ঘাটের অদুরে ইজারা নিয়েছেন। উদ্দেশ্যমূলক ভাবে ড্রেজিংকৃত পলি চিহ্নিত জায়গায় ফেলা হচ্ছে।এতে নৌচ্যানেল খননের পর আবার ভরাট হয়ে যাচ্ছে।ফলে তথাকথিত এ ড্রেজিং কোন কাজেই আসছে না বলে জানান স্থানীয়রা।
ট্রাক চালক আলম মিয়া বলেন, ফেরি পার হওয়ার জন্য গত দুই দিন ধরে আরিচা ঘাটে বসে আছি।নদী পার হতে পারছি না।কবে পার হবো তাও বলতে পারছি না। শুনছি নাব্যতা সংকটের কারণে নাকি রাতের বেলায় ফেরি চলাচল করতে পারে না। যে কারণে আমাদের এই ভোগান্তি।
শিবালয় বন্দর ও সমাজ কল্যাণ সমিতি’র সহসভাপতি মো.শহিদুল ইসলাম বলেন, অন্যান্য বছর শুধু শুস্ক মৌসুমে ড্রেজিং করতে দেখা যেতো।কিন্তু এবার আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ভরা বর্ষা থেকেই ড্রেজিং করতে দেখা গেছে।তাও আবার ড্রেজিংকৃত মাটি নৌপথের মাঝেই ফেলতে দেখা যাচ্ছে।এটা কি ধরনের ড্রেজিং আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না।যে কারণে প্রায় এক মাসের বেশী সময় ধরে পাঁচটি ড্রেজার দিয়ে পলি অপসারণের কাজ করেও কোন লাভ হচ্ছে না।ফলে দফায় দফায় বন্ধ থাকছে ফেরি সার্ভিস।এতে একদিকে নাব্যতা সংকট থেকেই যাচ্ছে।অপরদিকে ড্রেজিংয়ের নামে গচ্ছা যাচ্চে সরকারের কোটি কোটি টাকা।সরকারকা মাল দরিয়ায় ঢাল অবস্থা এমনটাই হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

বিআইডব্লিউটিসি’র আরিচা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার শাহ মুহাম্মদ খালেদ নেওয়াজ বলেন, আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ধীর গতিতে ড্রেজিং চলছে।ফলে পলি অপসারণ করতে না পারায় এ নৌপথে ফেরি চলাচল করা সম্ভব হচ্ছে না। ফেরিগুলো দফায় দফায় ডুবোচরে ধাক্কা খাচ্ছে। এতে ফেরির বড় ধরণের ক্ষতি হতে পারে বলে শুক্রবার থেকে ২৪ ঘন্টা বন্ধ রাখা হয়।তবে সুফিকা কালাম, বেগম রোকেয়া ও কুঞ্জলতা নামের কম ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ফেরি দিয়ে শনিবার সকাল থেকে ফেরি সার্ভিস চালু রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। ড্রেজিং সম্পন্ন হলেই বড় ফেরি দিয়ে স্বাভাবিক ফেরি চলাচল সম্ভব হবে।
এছাড়া ফেরি ঘাটের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত আরিচা লঞ্চ ঘাট পন্টুন। এর অদুরেই চলছে ড্রেজিং। সুরু এ নৌপথের মাঝ দিয়ে ফেরি চলাচল অত্যান্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।এতে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটনার আশংকা করছেন তিনি।
বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী আক্কাস আলীসহ ফোনে যোগাযোগ করলে নির্ভরযোগ্য সংশ্লিষ্ট কেউ ফোন কল ধরেনি এবং খুদে বার্তার উ্ত্তর দেয়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শাহজাহান বিশ্বাস
অফিস : আরিচা, শিবালয়, মানিকগঞ্জ-১৮০০
মোবাইল : +৮৮০ ১৭১১ ৭৩৩ ৬৫১, ই-মেইল : sbnews74@gmail.com