
অনলাইন ডেস্ক: ভূমিকম্প বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন, তুরস্কে সোমবারের ভূমিকম্প ৮ দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী। ৮০ বছরেরও বেশি সময় আগে দেশটিতে আজকের মতো শক্তিশালী এক ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ভূতাত্ত্বিক স্টিফেন হিকস বলেন, আগের সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পটিও ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ছিল। সেটি ১৯৩৯ সালের ডিসেম্বরে উত্তর-পূর্ব তুরস্কে আঘাত হানে এবং এতে ৩০ হাজার মানুষ মারা যায়। সোমবার মধ্যরাতের ভূমিকম্পটির ব্যাপকতা এমন ছিল যে, প্রতি ১০ মিনিটে একটি করে প্রাণহীন দেহ উদ্ধার করার কথা জানিয়েছেন উদ্ধারকারীরা।
সিরিয়ার জাতীয় ভূকম্পন কেন্দ্রের প্রধান রায়েদ আহমেদ রাষ্ট্রীয় বেতার স্টেশনকে বলেন, আমাদের এই কেন্দ্রের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প। ১৯৯৫ সালে কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৯৯ সালের আগস্টে ৭ দশমিক ৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প তুরস্কের দক্ষিণে ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল মারমারায় আঘাত হানে। ওই ভূমিকম্পে সাড়ে ১৭ হাজার মানুষ নিহত হয়। এরপর ১৯৯৯ সালের নভেম্বরে তুরস্কের পূর্বাঞ্চলের শহর দুজসেতে ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। ওই ঘটনায় মারা যায় ৮৪৫ জন। এরপর বিভিন্ন সময় তুরস্কে ভূমিকম্প হয়। কিন্তু সেগুলো এত বিধ্বংসী ছিল না। তাই মাত্রার দিক থেকে এবারের ভূমিকম্পটি তুরস্কের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী। এমন পরিস্থিতিতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
এবারের ভূমিকম্পে অবশ্য শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে। তবে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস ধারণা করছে, মৃতের সংখ্যা লাখে পৌঁছানোর ২০ শতাংশ আশঙ্কা রয়েছে। এর আগে, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর এলাজিগে ৬ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে অন্তত ৪১ জন নিহত ও ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি আহত হন।
প্রতি ১০ মিনিটে উদ্ধার একটি করে প্রাণহীন দেহ : কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিনিধি সুহাইব আল-খালাফ সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে বলেছেন, উদ্ধারকারীরা মরিয়া হয়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে লোকজনকে বের করার চেষ্টা করছেন। সুহাইব বলেন, উদ্ধারকারীরা প্রত্যেক ১০ মিনিটে ১টি করে মরদেহ বের করে আনছেন। সিরিয়াজুড়ে অসংখ্য ভবন ধসে পড়েছে। তিনি বলেন, এসব ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে শত শত মানুষ আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মরদেহ বের করে আনার পর আমরা ধ্বংসস্তূপের ওপরে মানুষের আর্তনাদ দেখছি, তারা (উদ্ধারকারীরা) একটি শিশু পেয়েছে, সে জীবিত বলে মনে হচ্ছে। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
আলজাজিরার এই প্রতিনিধি বলেন, সিরিয়ার দীর্ঘদিনের যুদ্ধের কারণে স্থানীয় চিকিৎসাসেবা খাত আগে থেকেই বিপর্যস্ত। ভূমিকম্পের কারণে হাজার হাজার মানুষ আহত হওয়ায় এখন সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো। তিনি বলেন, লোকজনকে হাসপাতাল, এমনকি হাসপাতালের বারান্দায়ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রক্তের প্রচুর সংকট দেখা দিয়েছে।
Leave a Reply