
শাহজাহান বিশ্বাস: ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বাটবাউরে বাসের ধাক্কায় লেগুনা খাদে পড়ে ৫জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রথমে চার জনের মৃত্যু হয়, পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মুসা নামের আরেকজনের মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছেন। এ নিয়ে মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ভাটবউর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।সড়কের পাশে দাড়িয়ে থাকা একটি লেগুনাকে পিছন থেকে আকিজ গ্রুপের একটি বাস সজোরে ধাক্কা দিয়ে লেগুনা পাশের খাদে পানিতে পড়ে গেলে ঘটনস্থলেই লেগুনার ৪যাত্রী মারা যায়। এসময় লেগুনাটি ওখানে যাত্রী নামাচ্ছিল। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশসহ স্থানীয়রা চালকসহ চারজনের লাশ উদ্ধার করে। সেই সঙ্গে গুরুতর আহতাবস্থায় আরও দুইজনকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়।এসময় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।মানিকগঞ্জ গোলোরা হাইওয়ে থানার ওসি শুকেন্দ বসু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন, সদর উপজেলার পাখরাইল গ্রামের মাহাদেব মোদক (৫২), ভাটবাউর গ্রামের লেগুনা চালক জাহিদ হোসেন (৩৪), বাগজান গ্রামের আব্দুল ছালামের স্ত্রী হেনা আক্তার (৫০), একই গ্রামের মুনছুর আলীর স্ত্রী মালেকা বেগম (৫৫) এবং ঘিওর থানার মূলজান গ্রামের মো. সজিবের ছেলে মো. মুসা মিয়া। এরমধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে মুসা মারা যান।এছাড়া আহত লেগুনা যাত্রী অপরজন হলেন- সদর উপজেলার দিঘী ইউনিয়নের মো. নাছির হোসেন।
ভাটবাউর গ্রামের প্রত্যক্ষদর্শী আলমগীর হোসেন বলেন, লেগুনাটি মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিল। পথে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ভাটবাউর এলাকায় থেমে যাত্রী নামানোর সময় আকিজ টেক্সটাইলের একটি বাস বেপরোয়া গতিতে এসে পেছন থেকে লেগুনাকে ধাক্কা দেয়। এতে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে লেগুনাটি সড়কের পাশে থাকা খাদের পানিতে পড়ে যায়।
জেলা ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সকালে দুর্ঘটনার খবরে আমাদের সদস্যরা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে। এছাড়াও পানিতে আমাদের ডুবুরিরাও তল্লাশি কাজ চালায়।
গোলড়া হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ শুকেন্দু বসু জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি আটক করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। বাসটি আকিজ টেক্সটাইলের বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি।
মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল রউফ সরকার জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের জন্য নিহতদের লাশ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জ্যোতিশ্বর পাল খবর পেয়ে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ২০ হাজার এবং আহতদের পরিবারদের ৭ হাজার ৫শ টাকা নগদ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
Leave a Reply