
নিজস্ব প্রতিবেদক: মানিকগঞ্জের শিবালয়ের পাটুরিয়া ফেরি ঘাটে পদ্মার ভাঙন ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। পাটুরিয়া লঞ্চ ঘাটের পর এবার ৪ নং ফেরি ঘাট নদীতে বিলীন হয়ে পন্টুনের র্যাম পানিতে পড়ে পড়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে ওই ফেরি ঘাটটি। এছাড়া ৩ ও ৫ নং ঘাটটিও ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় কার্যক্রম চলছে। আগে থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যে কোন সময় নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে ৩ ও ৫ নং ফেরি ঘাট। এতে চরমভাবে পারাপারে বিঘ্ন ঘটছে।
বুধবার দিবাগত রাত ৪টার দিকে ৪ নম্বর ফেরি ঘাট নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে ফেরি পন্টুনের র্যাম নদীতে পড়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিআইডব্লিউটিসি’র ক্রেন দিয়ে পন্টুনের র্যাম উঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, এ বছর আগস্ট মাসের প্রথম থেকে পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। গত ৫ আগস্ট পাটুরিয়ার লঞ্চঘাট ভেঙে যায়। এরপর গত ১২ আগস্ট ৫ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙন শুরু হয় এবং ১৪ আগস্ট থেকে ঘাটটি ২দিন বন্ধ থাকে। গত ১৫ আগস্ট শুক্রবার ৪ নম্বর ঘাটে ভাঙন শুরু হয়ে প্রায় ১০ গজ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়। এসময় বিআইডব্লিউটিএ জিও ব্যাগ ফেলে কিছুটা ভাঙন রোধের চেষ্টা করছে। অবশেষে বুধবার রাত ৩টায় ৪নং ঘাটের পন্টুনের র্যাম নদীতে পড়ে গেলে ওই ঘাট দিয়ে ফেরি লোড-আনলোড বন্ধ রয়েছে।
এদিকে ৩ নম্বর ফেরিঘাটেও ফাটল দেখা দেওয়ায় বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা চলছে। ফেরিঘাটগুলোর এ অবস্থায় যানবাহন পারাপার ব্যাহত হওয়ার রয়েছে বলে ফেরি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। শুধু ফেরিঘাট নয়, সংলগ্ন এলাকায়ও তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ৪ ও ৫ নং ঘাটের মাঝে কয়েকটি বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকিতে রয়েছে আরও অনেক ঘরবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন প্রতিরোধে বিআইডব্লিউটিএ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড আগে থেকে কার্যকর কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসির আরিচা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আব্দুস সালাম বলেন, নদী ভাঙ্গনের কারণে বুধবার দিবাগত রাত ৪ টায় ৪ নং ফেরি ঘাটের পন্টুন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বন্ধ রয়েছে ওই ঘাটটি। বিআইডব্লিউটিসি’র ক্রেন দিয়ে পন্টুনটি আবার উঠানোর চেষ্টা চলছে। ৩ ও ৫ নং ঘাট দিয়ে ফেরি সার্ভিস চালু রাখা হয়েছে।
Leave a Reply