
অনলাইন ডেস্ক: আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীতে মানবজাতিকে পাঠিয়েছেন তাঁর ইবাদত করার জন্য। তাঁর গুণকীর্তন করার জন্য। পবিত্র কালামে আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘আমি মানব ও জিনজাতিকে একমাত্র আমার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি।’ (সুরা যারিয়াত : আয়াত ৫৬)
ইবাদতের বিভিন্ন পথ ও পদ্ধতি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মাধ্যমে তিনি আমাদের জানিয়েছেন। কিছু ইবাদত তিনি ফরজ করেছেন। কিছু করেছেন ওয়াজিব। কিছু সুন্নত। কিছু মুস্তাহাব। আমাদের ওপর যত ধরনের ইবাদত আল্লাহ আবশ্যক করেছেন, তন্মধ্যে নামাজ অন্যতম ফরজ আমল। রাসুল (সা.) বলেন, ‘সবকিছুর মূল হলো ইসলাম, ইসলামের খুঁটি হলো নামাজ আর ইসলামের শীর্ষপীঠ হলো জিহাদ।’ (তিরমিজি : ৩৫৪১)। এখানে ইসলামের মূল খুঁটি বলা হয়েছে নামাজকে। নামাজের কত গুরুত্ব তা অনুধাবন করা যায় তাঁর বৈশিষ্ট্যাবলির দিকে তাকালেও।
নামাজের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা অন্য কোনো ইবাদতের ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না। বিশেষত আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের ওপর যত ধরনের ইবাদত আরোপিত হয়েছে সব ইবাদত আল্লাহ তায়ালা জিব্রাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে রাসুল (সা.)-এর কাছে প্রেরণ করেছেন। রাসুল (সা.) আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অবশ্য সরাসরি রাসুলের অন্তরে ইলহাম করা হয়েছে। পরে তিনি সাহাবাদের জানিয়েছেন। মোটকথা, সব ইবাদতই আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীতে রাসুলের কাছে প্রেরণ করেছেন। কিন্তু একমাত্র নামাজই এমন ব্যতিক্রম ইবাদত, যা পৃথিবীতে পাঠানো হয়নি। বরং স্বয়ং রাসুল (সা.)-কে ওপরে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। আরশে আজিমে দাওয়াত করে ডেকে নেওয়া হয়েছে এবং সেখানেই আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং রাসুলের হাতে নামাজ অর্পণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! কত মহত্ত্বপূর্ণ ইবাদত নামাজ। এ ছাড়া নামাজের আরও একটি ব্যতিক্রমধর্মী বৈশিষ্ট্য হলো-অন্যান্য ইবাদত অক্ষমতার কারণে স্থগিত হলেও নামাজ শেষ পর্যন্ত থেকেই যায়; যেমন-অসুস্থ হলে রোজা স্থগিত হয়, বান্দার কাছে অর্থ না থাকলে জাকাত ও হজ স্থগিত হয়। কিন্তু নামাজ এমন এক ইবাদত-যা সুস্থ হোক বা অসুস্থ হোক, আর্থিক সক্ষমতা থাকুক কিংবা না থাকুক-সর্বাবস্থায় তা আদায় করা ফরজ। এমনকি মুমূর্ষু অবস্থায়ও নামাজ আদায় না করে থাকার কোনো সুযোগ নেই।
অসুস্থ ব্যক্তির নামাজের মাসআলা হলো, দাঁড়িয়ে নামাজ আদায়ে অক্ষম হলে বসে আদায় করবে। বসে আদায়ে অক্ষম হলে শুয়ে আদায় করবে। শুয়ে আদায়েও যদি কষ্ট হয় তাহলে মাথা নেড়ে নেড়ে ইশারায় আদায় করবে। তবুও নামাজ আদায় করতেই হবে। কেবল মৃত্যু কিংবা জ্ঞানহীন (পাগল) ছাড়া কোনো অবস্থাতেই নামাজ মাফ হয় না।
অন্যদিকে নামাজ পরিত্যাগকারীর ওপরই এসেছে সবচেয়ে বড় ধমকি। কুফরের ধমকি। যা অন্য কোনো ইবাদতের ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি ও কুফর-শিরকের মাঝে ব্যবধান হলো নামাজ ত্যাগ করা’ (মুসলিম : ১১৬)। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মাঝে আর অমুসলিমদের মাঝে চুক্তি হলো নামাজ, যে ব্যক্তি নামাজ ছেড়ে দিল সে কাফের হয়ে গেল।’ (আহমদ : ২১৮৫৯)
অন্যান্য ইবাদতের তুলনায় নামাজের এসব ব্যতিক্রম বৈশিষ্ট্যাবলির দিকে তাকালেই আমরা বুঝতে পারি নামাজের কত গুরুত্ব ও মর্যাদা। ইসলামে নামাজের স্থান কত উঁচু। আল্লাহ তায়ালা আমাদের নামাজের গুরুত্ব বুঝে আমল করার তওফিক দান করুন।
Leave a Reply