
অনলাইন ডেস্ক: দেশজুড়ে ক্রমেই ভয়ংকর হয়ে উঠেছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। মৃত্যু ও সংক্রমণে গড়ছে নতুন নতুন রেকর্ডও। হাসপাতালে রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে দ্রুতগতিতে। মানুষের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।
বুধবার ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ১৪ জন মারা গেছে। এ নিয়ে চলতি বছর মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২১৫ জনে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২ হাজার ৬৫৩ জন, যা এ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ নিয়ে চলতি বছরে মোট ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪০ হাজার ৩৪১ জন। আর চলতি জুলাই মাসে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ১৬৮ জন। এই পরিস্থিতিতে মশা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে বলে সতর্ক বার্তা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।
বুধবার ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের আয়োজিত ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বলেন, বর্তমানে শুধু ঢাকা নয়, সারা দেশেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ঢাকায় স্থিতিশীল থাকলেও বাইরে রোগী বাড়ছে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ কমাতে হলে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তা না হলে কিন্তু ডেঙ্গুর এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই কঠিন হয়ে পড়বে। মুগদা হাসপাতালে ম্যাক্সিমাম লিমিটও ক্রস হয়ে গেছে। এ অবস্থায় রোগীরা যেন মুগদা হাসপাতালে ভর্তি না হয়, ওখানে ডেঙ্গু রোগীর জন্য কোনো শয্যা খালি নেই। সবাই যদি এক জায়গাতেই যেতে থাকে, তা হলে তারা কীভাবে চিকিৎসা দেবে?
তিনি বলেন, আমরা আজকে ডিএনসিসি হাসপাতালে ঘুরেছি, রোগীদের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করছি। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের জন্য আরও ২৫০০টি শয্যা প্রস্তুত করে রাখা আছে। বর্তমানে প্রতিদিন ১২০০ রোগী ভর্তি হচ্ছে, সেই সঙ্গে ছুটিও হচ্ছে ৯০০ থেকে ১ হাজারের মতো। তার মানে স্থিতিশীল থাকছে ২০০ থেকে ৩০০ শয্যা।
আহমেদুল কবির বলেন, সব হাসপাতালের সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কথা বলেছেন, সবাইকে তিনি বলেছেন রোগীদের জন্য নতুন করে আরও ২০০ থেকে ৩০০ শয্যা বৃদ্ধি করতে হবে। রোগী যদি অতিমাত্রায় বাড়তে থাকে, তা হলে সেটি সামাল দেওয়া কষ্টকর হবে। চিকিৎসকরা ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না। এখানে একজন চিকিৎসকের ১০ জন রোগী ম্যানেজ করার কথা, তাদের ২০ থেকে ৩০ জন রোগী ম্যানেজ করতে হচ্ছে। ডাক্তার তো এখন চাইলেই রাতারাতি বৃদ্ধি করা যাবে না। আমাদের সবচেয়ে জরুরি হলো, যেকোনো মূল্যে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমানো।
অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির বলেন, শুধু ঢাকা নয়, সারা দেশেই বর্তমানে ডেঙ্গু ছড়িয়েছে। এখন ঢাকা সিটির পাশাপাশি ঢাকার বাইরে রোগীর সংখ্যা বেশি। এডিস মশা যদি আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব কঠিন হবে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু যতটা মেডিকেল প্রবলেম, তার থেকে বেশি এনভায়রনমেন্টাল প্রবলেম। সে জায়গায় পাবলিক হেলথ ইঞ্জিনিয়ারিং বেশি জরুরি। প্রাইমারি হেলথ এবং পাবলিক হেলথ এক নয়। পাবলিক হেলথ হচ্ছে জনগণকে সম্পৃক্ত করে মশা নিয়ন্ত্রণ করা। এগুলো যদি আমরা বৃদ্ধি করতে না পারি, ডেঙ্গু রোগী যদি এভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে, আমাদের জন্য ডিফিকাল্ট হয়ে যাবে। জরুরি ভিত্তিতে মশা নিয়ন্ত্রণে একটি ক্রাশ প্রোগ্রাম জরুরি। যারা এসব কাজ (মশা নিয়ন্ত্রণ) করছেন, তারা যদি এই কাজগুলো আরও বেশি বৃদ্ধি করেন তা হলে রোগীর সংখ্যা কমানো যাবে এবং ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসাও যথাযথভাবে দেওয়া যাবে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, বর্তমানে সারা দেশে ৮ হাজার ১৮৯ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি আছে। আর গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৩২৭ জন এবং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৩২৬ জন। এ ছাড়া বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ৫৬৬ জন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এর পরেই স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল ৩১৫ জন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩০০ জন, শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ২০০ জন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ১৯০ জন, কুর্মিটোলা জেলারেল হাসপাতালে ১৯০ জন এবং পুলিশ হাসপাতাল রাজারবাগে ১৩০ জন ভর্তি রয়েছে।
অধিদফতরের তথ্য মতে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ভর্তি হয়েছে ৪০ হাজার ৩৪১ জন রোগী। তাদের মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৩ হাজার ৬৭৬ জন। আর ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে ১৬ হাজার ৬৬৫ জন। আর চলতি বছরে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছে ৩১ হাজার ৯৩৭ জন।
Leave a Reply